ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বলেশ্বরের বুকে আর শোনা যাবে না স্টিমারের হুইসেল


বলেশ্বরের বুকে আর শোনা যাবে না স্টিমারের হুইসেল

একসময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ঘাট ছিল স্টিমারের হুইসেল শুনে মুখরিত। বলেশ্বর নদের বুক চিরে স্টিমার আসার শব্দে সেখানে ভিড় জমাতেন অনেকেই। কেউ প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে ছুটতেন, আবার কেউ অপেক্ষা করতেন নৌযানে ওঠার জন্য। ঘাটটি যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যস্ততা আর নেই। বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঘাটটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের একটি স্মৃতির অবসান ঘটল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট চালু হয়। এটি একসময় পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে অনেকেই এই ঘাট ব্যবহার করতেন।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুলের বিরুদ্ধে আবারও শ্ললতা হানিসহ নানা অভিযোগ

ঘাটকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে উঠেছিল। স্টিমার আসার সময় ঘাট এলাকায় ব্যস্ততা তৈরি হতো। যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানো, স্বজনদের বিদায় জানানো কিংবা দীর্ঘ নৌযাত্রার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ঘাটটি ছিল স্থানীয় মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে স্টিমার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটটির আগের ব্যস্ততা হারিয়ে যায়। তবুও দীর্ঘদিন পন্টুনটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা এমাদুল হক বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই ঘাটে স্টিমারের আসা-যাওয়া দেখেছেন। তার মতে, ঘাটটি শুধু যাতায়াতের জায়গা ছিল না, এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল।

এমাদুল হক বলেন, "ছোটবেলা থেকে দেখেছি এই ঘাটে স্টিমার আসত। কত মানুষ যাতায়াত করত। চোখের সামনে সেই স্মৃতিটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।"

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ছাত্রলীগ নেতা নাঈম গ্রেপ্তার

প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের সঙ্গে তারও অনেক স্মৃতি রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে তিনি নিয়মিত এই ঘাটে আসতেন।

দেবদাস মজুমদার বলেন, "এই স্টিমারঘাটকে ঘিরে কত স্মৃতি রয়েছে। নিউজের কাজে আমরা প্রতিনিয়ত এখানে আসতাম। তখন ঘাটটি সব সময় মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকত। এখন সেই দৃশ্য নেই।"

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, স্টিমারে করে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতেন। ব্যবসায়ীরাও পণ্য নিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন পন্টুনটাও চলে গেল। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, এখানে একসময় কত বড় নৌযান চলাচল করত।

বলেশ্বর নদ বয়ে চলবে, বড়মাছুয়া ঘাটও থাকবে। কিন্তু সেই ঘাটে আর হয়তো শোনা যাবে না স্টিমারের পরিচিত হুইসেল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেল একটি নৌযুগের দৃশ্যমান শেষ চিহ্ন সেই পন্টুন।

আরও পড়ুন: লক-ইন শিথিলে শেয়ারের দামে কারসাজির আশঙ্কা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন, খাবার, আবাসন, পড়াশোনা এবং রাজনৈতিক অধিকার—এসব বিষয় নিশ্চিত করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘জুলাই-৩৬ কুইজ প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। ভাইবা ইস্যুতে, জনগণ আপনাদের কোথায় পাঠাবে তা আপনারা বুঝতে পারবেন না। তাই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।

ভাইভা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নেক্কারজনকভাবে আমরা গত দুই দিন আগে দেখতে পেলাম, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এসেছে। অথচ তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ভাইভা হচ্ছে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার একটি সুযোগ। যখন তারা সরকারে এসে উল্টো পথে যাচ্ছে, তখন আমরা তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যদি কোনো সরকার মনে করে পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তাহলে সেই সরকার বাংলাদেশে তার মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি হতাশাও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা জনগণকে বিচার করতে হবে।

তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল তরুণরা রাজপথে নামবে না। অথচ গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণরাই রাজপথে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভাইভায় দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে তাদের বেকার ও হতাশাগ্রস্ত করে রাখলে কোনো লাভ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মাধ্যমে চাকরি, কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক তৈরি করা হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে এই অঞ্চলের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত। এটা ছাড়া যদি আমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারি, যেখানে রাষ্ট্রের সত্যিকারের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকবে, তাহলে দেশের অনেক বেশি উপকার হবে। কিন্তু যদি আমরা ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয় করি, তাহলে সেটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মত ও চিন্তার মানুষের কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষের কর্মসূচি থাকলে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের মত প্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, মহিউদ্দিন রনিসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি হানজালা প্রধানমন্ত্রীর কাজ ও চিন্তাধারার প্রশংসা করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


এমপি হানজালা প্রধানমন্ত্রীর কাজ ও চিন্তাধারার প্রশংসা করলেন

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজ, চিন্তাধারা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার জন্য মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা প্রশংসা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা ও মেহনত দেখে তারা নিজেরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আহ্বান জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা এবং বার্তা যেন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

হানজালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তার মন-মানসিকতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, যা বিগত সময়ে কখনো দেখা যায়নি। তার এই প্রচেষ্টা, মেহনত, দেশের জন্য কষ্ট এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমরা নিজেরাও যথেষ্ট অনুপ্রাণিত হচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা এবং বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। হানজালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা তৃণমূলের অনেকেই হয়তো ধারণা করতে পারেননি। এর ফলে অনেক অন্যায় ও অবিচার ঘটে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর জবাবে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার প্রশ্নটি আমার কাছে পরিষ্কার নয়। আপনি যদি আমাকে একটু নোটিশ দেন, আমি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে এর উত্তর দেব।

তবে সরকারের দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পরিকল্পনা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাদের নির্বাচনী তফসিলে তুলে ধরেছিল। সরকার গঠনের পর দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় আরও তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল অপহরণকারী যুবককে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল অপহরণকারী যুবককে

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় গহিন পাহাড়ে সংঘর্ষের পর স্থানীয় জনতা এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টা চলাকালে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ রাশেল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাকে রোহিঙ্গা বলে চিহ্নিত করেছে।

আরো পড়ুন

ছেলের বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফেরা হলো না মা-বাবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাশেল দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে বাহারছড়ার গহিন পাহাড়ে দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কিছু অস্ত্রধারী প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ের দিকে পালিয়ে আসে। পাহাড়ের পাদদেশে কৃষকেরা তখন মাঠে কাজ করছিলেন। পালিয়ে আসা অস্ত্রধারীরা কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে তারা তাদের ধাওয়া করেন।

অন্যরা পালিয়ে গেলেও কৃষকেরা রাশেলকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে স্থানীয় জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ পথচারীরা তাকে গণধোলাই দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাশেলকে হেফাজতে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, রাশেলকে এর আগে অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী চিনতে পেরেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহৃত ব্যক্তিদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়ার কাজে রাশেলের ভূমিকা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘বাহারছড়া থেকে এ পর্যন্ত যতজন অপহৃত হয়েছে, আজ আটক হওয়া যুবক তাদের মুক্তিপণের জন্য মারধর করত বলে আমরা জানি। অনেক মানুষ তার হাতে জিম্মি ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অপহরণ চক্র সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনতা একজনকে আটক করেছে। তবে প্রচুর মারধরের কারণে সে এখন পর্যন্ত কথা বলতে পারছে না। যতটুকু জানতে পেরেছি, সে অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসা শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে দালালের খপ্পরে নি'হ'ত যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


রাশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে দালালের খপ্পরে নি

‘অহন আমি কিবায় চলবাম? এই অবুজ সন্তানরে কিবায় পালবাম? আমি আমার স্বামীর লাশটা ফেরত চাই। আর যারা আমার স্বামীরে ধোঁকা দিয়া এ যুদ্ধের মুখে পাডাইছে, আমি ওই অপরাধী দালালরার বিচার চাই!’—এভাবেই বিলাপ করছেন ভাগ্যহত মহিমা আক্তার, যিনি তাঁর সাড়ে তিন বছর ও মাত্র ৫ মাস বয়সী দুই দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন। উচ্চ বেতনে ‘ইলেকট্রনিক শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে গত প্রায় ৫ মাস আগে সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁর স্বামী আল মামুন (২৫)। কিন্তু দালালের নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে শ্রমিকের বদলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মারণাস্ত্র। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিতে। অবশেষে ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হলো ময়মনসিংহের নান্দাইলের এই যুবককে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার।

আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মামুন। ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য এজেন্সির সঙ্গে তাঁর ৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এ বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে পরিবারটি ব্যাংক থেকে ঋণ এবং চড়া সুদে ধারদেনা করতে বাধ্য হয়েছিল।

পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পর ওই প্রতারক এজেন্সি এবং একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র মামুনসহ তাঁদের ৩০ জনের দলটিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাদের কোনো কাজের সুযোগ না দিয়ে, জোরপূর্বক সামরিক পোশাক পরিয়ে ও হাতে অস্ত্র দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একেবারে প্রথম সারিতে (ফ্রন্টলাইন) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের সহকর্মী রাজন মিয়ার একটি ফোনকলে মামুনের মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে। রাজন মিয়া জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই একই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন। পরে রাশিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে কোনোমতে পালিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

মামুনের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। বাগরুদ্ধ বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম আর দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে স্ত্রী মহিমার কান্না থামছেই না। যে স্বপ্ন নিয়ে মামুন বিদেশ গিয়েছিলেন, তা এখন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মহিমা চড়া সুদের ঋণের বোঝা এবং দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন। এলাকাবাসীদের কথায়, অন্তত মামুনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ মাটিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা উচিত এবং এই জঘন্য পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারূর ইসলাম জানান, বিষয়টি কেউ থানায় জানাননি। পরিবার যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%