বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৬ এম
‘অহন আমি কিবায় চলবাম? এই অবুজ সন্তানরে কিবায় পালবাম? আমি আমার স্বামীর লাশটা ফেরত চাই। আর যারা আমার স্বামীরে ধোঁকা দিয়া এ যুদ্ধের মুখে পাডাইছে, আমি ওই অপরাধী দালালরার বিচার চাই!’—এভাবেই বিলাপ করছেন ভাগ্যহত মহিমা আক্তার, যিনি তাঁর সাড়ে তিন বছর ও মাত্র ৫ মাস বয়সী দুই দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন। উচ্চ বেতনে ‘ইলেকট্রনিক শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে গত প্রায় ৫ মাস আগে সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁর স্বামী আল মামুন (২৫)। কিন্তু দালালের নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে শ্রমিকের বদলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মারণাস্ত্র। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিতে। অবশেষে ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হলো ময়মনসিংহের নান্দাইলের এই যুবককে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার।
আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মামুন। ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য এজেন্সির সঙ্গে তাঁর ৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এ বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে পরিবারটি ব্যাংক থেকে ঋণ এবং চড়া সুদে ধারদেনা করতে বাধ্য হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পর ওই প্রতারক এজেন্সি এবং একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র মামুনসহ তাঁদের ৩০ জনের দলটিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাদের কোনো কাজের সুযোগ না দিয়ে, জোরপূর্বক সামরিক পোশাক পরিয়ে ও হাতে অস্ত্র দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একেবারে প্রথম সারিতে (ফ্রন্টলাইন) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের সহকর্মী রাজন মিয়ার একটি ফোনকলে মামুনের মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে। রাজন মিয়া জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই একই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন। পরে রাশিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে কোনোমতে পালিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
মামুনের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। বাগরুদ্ধ বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম আর দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে স্ত্রী মহিমার কান্না থামছেই না। যে স্বপ্ন নিয়ে মামুন বিদেশ গিয়েছিলেন, তা এখন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মহিমা চড়া সুদের ঋণের বোঝা এবং দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন। এলাকাবাসীদের কথায়, অন্তত মামুনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ মাটিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা উচিত এবং এই জঘন্য পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারূর ইসলাম জানান, বিষয়টি কেউ থানায় জানাননি। পরিবার যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে তর্কাতর্কি ও ধাক্কাধাক্কির জেরে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার স্বল্প নোয়াগাঁও ও হাবলীপাড়া গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে স্বল্প নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে যায় হাবলি পাড়ার লামিন। খেলা দেখার সময় স্বল্প নোয়াগাঁও গ্রামের শুভর সঙ্গে লামিনের কথাকাটাকাটি ও ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এক পর্যায়ে শুভ হাবলি পাড়া গ্রামের লামিনকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুইপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাতে আঁধারে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে আরও অনেকে এসেছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার পতনের প্রক্রিয়া খুবই নিকটবর্তী অবস্থায় পৌঁছেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিরিয়ার দখলকৃত জাবল আল-শেখ বা মাউন্ট হারমন পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও উপস্থিত ছিলেন।
নেতানিয়াহু ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় বলেন, এখনও কিছু কাজ সম্পন্ন করা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান কাজ হলো ইরানের এই সরকারকে উৎখাত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, তারা এই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানের মূল অক্ষটি অবশেষে সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়বে।
নেতানিয়াহু সফরের সময় আরও বলেন, ইসরাইলি বাহিনী সিরিয়ার সীমানার ভেতরে তাদের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে এবং তারা তাদের সীমান্তে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে আস্তানা গড়তে বা শক্তিশালী হতে দেবেন না।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ। মুমিন এবং কাফেরের মাঝে বড় পার্থক্য হলো নামাজ।
ফরজ নামাজের পাঁচ ওয়াক্ত ছাড়াও ইসলামী শরিয়তে নফল নামাজ পড়ার বিধান রয়েছে। নামাজ মানুষের জন্য দুনিয়ার সব খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে রক্ষা করে।
ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।
ফজর- ভোর ৪: ২৮ মিনিট
জোহর- দুপুর ১১: ৫৯ মিনিট
আসর- দুপুর ৪: ২৩ মিনিট
মাগরিব- সন্ধ্যা ৬: ১২ মিনিট
এশা- রাত ৭: ২৬ মিনিট
নামাজ আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন চোখে পড়ে বন্ধুদের নব্বই দশকের চেনা-অচেনা সব রূপ। কারো পরনে সেই সময়ের পোশাক, কারো পেছনে পুরোনো ঢাকার আমেজ, আবার কেউ বনে গেছেন পুরোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা!
এই জাদু দেখাতে কোনো স্টুডিও বা ক্যামেরার দরকার হচ্ছে না; একটি মাত্র এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অ্যাপে নিজের ছবি দিলেই কেল্লাফতে! মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ছাঁট আর পেছনের পরিবেশ।
বিনোদনের জন্য এই ট্রেন্ড দারুণ হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের অজান্তেই সব ব্যক্তিগত তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি?
এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার মানে শুধু নিজের চেহারাই নয়, বরং ছবির পেছনের ঘরবাড়ি, অফিসের আইডি কার্ড, কিংবা মেটাডেটায় থাকা লোকেশনের তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু মানুষের মুখের গঠন তো আর বদলানো যায় না! তাই কোনো অপরিচিত অ্যাপে হুড়মুড় করে ছবি আপলোড করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা খুব দরকার।
ছবি দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:
মেয়াদ ও নিয়মকানুন: অ্যাপটি আপনার ছবি কতদিন জমা রাখবে, কাজ শেষে মুছে ফেলবে কি না, কিংবা আপনার ছবি দিয়ে তাদের এআই মডেলকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে কি না—সেসব শর্ত আগেই দেখে নিন।
অপ্রয়োজনীয় অনুমতি এড়িয়ে চলুন: একটি ছবি এডিট করতে গিয়ে পুরো ফোনের গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা বা কন্টাক্টসের পারমিশন (‘Allow All Photos’) দেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যে ছবিটি এডিট করবেন, সেটুকুরই অ্যাকসেস দিন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও গোপন নথি নয়: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল কোনো কাগজপত্রের ছবি ভুলেও এআই টুলে দেবেন না।
ছবি মুছলেই কি সব শেষ?: অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলেই তথ্য যে তাদের সার্ভার থেকে পুরোপুরি মুছে যায়, তা কিন্তু নাও হতে পারে। অনেক সময় তাদের ব্যাকআপ সার্ভারে তথ্য থেকে যায়।
আজকের রেট্রো লুক, কালকের ‘ডিপফেক’?
আপনার ছবি আর কণ্ঠের নমুনা যদি সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবে অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল বা বিভ্রান্তিকর 'ডিপফেক' ভিডিও বানিয়ে ফেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে তাই বলে কি এআই ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দেবেন? একদমই নয়! এআই আমাদের ফটো এডিটিংয়ের কাজকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি কম সময়ে সৃজনশীল ভাবনার চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। শুধু খেয়াল রাখুন—আজকের এই চমৎকার রেট্রো লুক কালকেই পুরোনো হয়ে যাবে, কিন্তু অনলাইনে একবার যে তথ্যটা চলে গেল, তা কিন্তু এত সহজে মুছবে না। তাই ট্রেন্ডে মেতে উঠুন, তবে নিজের তথ্যের লাগামটা থাকুক নিজের হাতেই!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ