প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় গহিন পাহাড়ে সংঘর্ষের পর স্থানীয় জনতা এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টা চলাকালে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ রাশেল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাকে রোহিঙ্গা বলে চিহ্নিত করেছে।
আরো পড়ুন
ছেলের বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফেরা হলো না মা-বাবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাশেল দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে বাহারছড়ার গহিন পাহাড়ে দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কিছু অস্ত্রধারী প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ের দিকে পালিয়ে আসে। পাহাড়ের পাদদেশে কৃষকেরা তখন মাঠে কাজ করছিলেন। পালিয়ে আসা অস্ত্রধারীরা কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে তারা তাদের ধাওয়া করেন।
অন্যরা পালিয়ে গেলেও কৃষকেরা রাশেলকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে স্থানীয় জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ পথচারীরা তাকে গণধোলাই দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাশেলকে হেফাজতে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, রাশেলকে এর আগে অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী চিনতে পেরেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহৃত ব্যক্তিদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়ার কাজে রাশেলের ভূমিকা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘বাহারছড়া থেকে এ পর্যন্ত যতজন অপহৃত হয়েছে, আজ আটক হওয়া যুবক তাদের মুক্তিপণের জন্য মারধর করত বলে আমরা জানি। অনেক মানুষ তার হাতে জিম্মি ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অপহরণ চক্র সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনতা একজনকে আটক করেছে। তবে প্রচুর মারধরের কারণে সে এখন পর্যন্ত কথা বলতে পারছে না। যতটুকু জানতে পেরেছি, সে অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসা শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন