প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ঘাট ছিল স্টিমারের হুইসেল শুনে মুখরিত। বলেশ্বর নদের বুক চিরে স্টিমার আসার শব্দে সেখানে ভিড় জমাতেন অনেকেই। কেউ প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে ছুটতেন, আবার কেউ অপেক্ষা করতেন নৌযানে ওঠার জন্য। ঘাটটি যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যস্ততা আর নেই। বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঘাটটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের একটি স্মৃতির অবসান ঘটল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট চালু হয়। এটি একসময় পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে অনেকেই এই ঘাট ব্যবহার করতেন।
ঘাটকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে উঠেছিল। স্টিমার আসার সময় ঘাট এলাকায় ব্যস্ততা তৈরি হতো। যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানো, স্বজনদের বিদায় জানানো কিংবা দীর্ঘ নৌযাত্রার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ঘাটটি ছিল স্থানীয় মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে স্টিমার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটটির আগের ব্যস্ততা হারিয়ে যায়। তবুও দীর্ঘদিন পন্টুনটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা এমাদুল হক বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই ঘাটে স্টিমারের আসা-যাওয়া দেখেছেন। তার মতে, ঘাটটি শুধু যাতায়াতের জায়গা ছিল না, এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল।
এমাদুল হক বলেন, "ছোটবেলা থেকে দেখেছি এই ঘাটে স্টিমার আসত। কত মানুষ যাতায়াত করত। চোখের সামনে সেই স্মৃতিটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।"
প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের সঙ্গে তারও অনেক স্মৃতি রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে তিনি নিয়মিত এই ঘাটে আসতেন।
দেবদাস মজুমদার বলেন, "এই স্টিমারঘাটকে ঘিরে কত স্মৃতি রয়েছে। নিউজের কাজে আমরা প্রতিনিয়ত এখানে আসতাম। তখন ঘাটটি সব সময় মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকত। এখন সেই দৃশ্য নেই।"
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, স্টিমারে করে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতেন। ব্যবসায়ীরাও পণ্য নিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন পন্টুনটাও চলে গেল। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, এখানে একসময় কত বড় নৌযান চলাচল করত।
বলেশ্বর নদ বয়ে চলবে, বড়মাছুয়া ঘাটও থাকবে। কিন্তু সেই ঘাটে আর হয়তো শোনা যাবে না স্টিমারের পরিচিত হুইসেল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেল একটি নৌযুগের দৃশ্যমান শেষ চিহ্ন সেই পন্টুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন