ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বামী ঘুরতে না নেওয়ায় স্ত্রী বিচ্ছেদ চান


স্বামী ঘুরতে না নেওয়ায় স্ত্রী বিচ্ছেদ চান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার এক নারী অভিযোগ করেছেন যে, তার স্বামী তাকে ঘুরতে বা অবসর কাটাতে বাইরে নিয়ে যেতে আগ্রহী নন—এ অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বিচ্ছেদ চেয়েছেন। সামা টিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

শারজাহ আদালতের পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই নারী পারিবারিক পরামর্শ সেবার কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন এবং তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বা ভ্রমণ করার বিষয়ে তার তেমন আগ্রহ নেই।

তবে ওই নারী স্বামীর প্রশংসা করে বলেন, তিনি উদার, ধৈর্যশীল ও ভদ্র। কিন্তু বাইরে ঘুরতে যাওয়া এবং অবসর বিনোদনে স্বামীর অনাগ্রহ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

পারিবারিক পরামর্শ বিভাগ থেকে ওই নারীকে ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বাইরে ঘোরাঘুরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শুধুমাত্র এই কারণে যেন তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত না নেন, সে বিষয়েও তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘোরাঘুরি বা অবসর কাটানোর পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলে তা যেন পরিবারের শান্তি নষ্ট না করে, সেদিকেও নজর রাখা উচিত।

ড. আল রাইসি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর জীবনযাপন ও অবসর কাটানোর পছন্দে পার্থক্য কখনো কখনো উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে প্রতিটি মতবিরোধের পরিণতি বিচ্ছেদ হওয়া উচিত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দাম্পত্য জীবনে বড় কোনো সমস্যা না থাকলে ছোটখাটো মতপার্থক্যকে আইনি বা পারিবারিক বিরোধে পরিণত করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোট কাটিয়ে শীর্ষ বাছাই জেভরেভকে হারালেন জোকোভিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


চোট কাটিয়ে শীর্ষ বাছাই জেভরেভকে হারালেন জোকোভিচ

বেইজিংয়ে চায়না ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে চলমান ইনজুরি সমস্যাকে অতিক্রম করে নোভাক জোকোভিচ তার পুরনো লড়াকু রূপ প্রদর্শন করলেন। শীর্ষ বাছাই আলেকজান্ডার জেভরেভকে ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ সেটে পরাজিত করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে আরও দীর্ঘ করলেন।

প্রথম সেটে জেভরেভের শক্তিশালী সার্ভিস (১৯টি এস) জোকোভিচকে চাপে ফেলে দেয়। শুরুতেই দুটি ডাবল ফল্ট করে ব্রেক দেন সার্বিয়ান তারকা।

দ্বিতীয় সেটের শেষ মুহূর্তে (৫-৪) ব্রেক করে ম্যাচে ফিরে আসেন জোকোভিচ। তৃতীয় সেটে আবারও ৫-৪ গেমে জেভরেভের সার্ভিস ভেঙে তিনি জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচটি শেষ হয় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে।

ম্যাচ শেষে জোকোভিচ মন্তব্য করেন, “শুরুটা ভয়াবহ ছিল। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঠিকভাবে ওয়ার্ম আপ করতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নার্ভ ধরে রাখতে পেরেছি।”

ম্যাচ চলাকালে এক পর্যায়ে জেভরেভ অভিযোগ করেন যে বিজ্ঞাপনী বোর্ডের আলো নিভে যাওয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন। ভিডিও রিভিউয়ের পর আম্পায়ার পয়েন্ট রিপ্লে করার নির্দেশ দেন, যা নিয়ে জোকোভিচের সঙ্গে তর্ক হয়।

সেমিফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ হবেন রাশিয়ার দানিয়েল মেদভেদেভ, যিনি ফ্রান্সিসকো সেরুন্দোলোর বিরুদ্ধে ৭-৬(৪), ৬-৩ সেটে জয়লাভ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


মোংলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটের মোংলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এই দিবসের উপলক্ষে মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভাটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চালনা বন্দর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন, মোংলা সরকারি কলেজের ডক্টর অসিত কুমার সাহা, চালনা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রোকন উদ্দিন এবং সরকারি টিএ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তালুকদার মো: জিহাদ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আপন বিশ্বাস এবং সরকারি টিএ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শেফা বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারি ভবন থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাট বাজারের ভবনের ছাদগুলোতে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কেবল ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশীয়ভাবে সহজলভ্য সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেছেন, "দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। একইসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছে। এর বড় অংশই সৌরবিদ্যুৎ। ফলে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণেও সৌরশক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)’র চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, "বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে অতিরিক্ত জমি ব্যবহার ছাড়াই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।"

তিনি জানান, নেট মিটারিংয়ের সুবিধা আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে গ্রাহকদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পৃক্ত করা হবে। সরকারের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ।

সেড্রার চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০২৫ সালে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য স্থাপনার ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নতুন করে বড় পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মোজাফফর আহমেদ আরও বলেন, স্রেডার নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাহক নিজস্ব ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন, নেট মিটারিংয়ের এ সুবিধা সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মোজাফফর আহমেদ বলেন, দিনের বেলায় শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। একই সময়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, তাহলে জাতীয় গ্রিড থেকে দিনের কিছুটা চাহিদা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সফলতা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে যুক্ত করার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি পরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি, নীতিগত সুবিধা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, "সৌরবিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা, দ্রুত অনুমোদন, সহজ গ্রিড সংযোগ এবং অর্থায়নের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে।" সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যের আলো ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদনের পরিমাণে পরিবর্তন ঘটে।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ও রাতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন কমে যায়। এ কারণে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও গ্রিড ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে উঠছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গত মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর বাইরে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত নয়, এমন সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থার সক্ষমতা ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট। সর্বমোট দেশে সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট।

আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিও এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্রিড ব্যবস্থাপনায় নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বড় পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে হলে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে।

পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অতিরিক্ত অংশ সংরক্ষণ করে, সন্ধ্যা বা রাতে তা ব্যবহার করা গেলে সৌরবিদ্যুতের কার্যকারিতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

আবদুর রশিদ খান বলেন, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত জমি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিজমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে পতিত ও অনুপযোগী জমি, বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জলাশয়ভিত্তিক বা ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীন অর্থনীতিতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেচ পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারসহ বিভিন্ন কাজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো তুলনামূলক দুর্বল, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন, ব্যাটারি স্টোরেজ, বিতরণ ব্যবস্থা ও আধুনিক গ্রিড প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করতে হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখন থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি রুফটপ সোলার, নেট মিটারিং, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ এবং আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ই হতে পারে এ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে, ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে, ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী

১৯৬০ সালে সায়েন্স জার্নাল একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সেই নির্দিষ্ট দিনটি এখন খুব কাছে চলে এসেছে, ফলে এই গবেষণাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৬৬ বছর আগে সায়েন্স জার্নালের ওই গবেষণাপত্রটি অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই শিষ্য প্যাট্রিসিয়া এম মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ আমিট দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাদের ভবিষ্যদ্বাণীটি খুব বেশি অবাস্তব মনে না হলেও, তারা দাবি করেছিলেন যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা প্রতি ক্ষণে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তাদের মতে, ২১ শতকের মাঝপথে জনসংখ্যা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যা প্রায় অসীম। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হবে। তারা ২ হাজার বছরের জনমিতি বা ডেমোগ্রাফিকসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই দাবি করেন। ষাটের দশকে তাদের এই দাবির ফলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিভিন্ন জিনগত, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতির পাঠ্যবইয়ে এই তত্ত্ব উঠে এসেছিল।

টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমসে এই দাবি শিরোনাম হয় এবং পোগো কমিক স্ট্রিপেও এর ছাপ পড়ে। সায়েন্সের চিঠিপত্রের পাতায় গণিতবিদ ও জনসংখ্যাবিদেরা এর কড়া সমালোচনা করেন, তবে লেখকেরা নিজেদের হিসাবের প্রতি অটল থাকেন।

এরপর তাদের পূর্বাভাস অদ্ভুতভাবে মিলে যেতে থাকে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এই সমীকরণ বেশির ভাগ জনসংখ্যাবিদের হিসাবের চেয়ে ভালো ফল দেয় এবং এটি পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়। ১৯৬৩ সালে কানাডার সংসদীয় কমিটিতেও এর উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে এক গর্ভপাত মামলাতেও এটি উঠে আসে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে ১৯৯৩ সালের দিকে পূর্বাভাসটি ভুল হতে শুরু করে এবং তখন থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ওই রেখার পেছনে পড়ে। গবেষণাপত্রে বিশ্বকে জন্মহার অর্ধেকে নামানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের জন্মহার ১৯৬০ সালের অর্ধেকের চেয়ে সামান্য কম।

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্ন এই তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি জন্মহার কমে যাওয়ার হারকে তুলে ধরে দেখিয়েছেন যে, এই তত্ত্বটি সঠিকভাবে বিষয়টিকে তুলে ধরতে পারেনি। তাই ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবিও ভুল এবং ভিত্তিহীন।

ষাটের দশক অবশ্য এমন তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত ছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী ও ইউএফও গবেষক চ্যান থমাস তার ‘দ্য অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ স্টোরি’ বইতে এমন দাবির কথা উল্লেখ করেন। তার দাবির ভিত্তি ছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয়। তিনি বলেন, প্রতি ৬০০০ বছর পরপর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আসে এবং যদি এটি এবার ঘটে, তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সেই বইটি বহু বছর গোপন রেখেছিল, কিন্তু ২০১৩ সালে সে নথি অবমুক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%