১২:২৯ পি.এম
গ্রিস ও ইসরায়েল ৩৪০ কোটি ডলারের একটি সামরিক চুক্তি সম্পাদনের পথে রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।
গ্রিসের সংবাদমাধ্যম এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে এই বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো আকাশপথে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকি শনাক্ত করা, প্রতিহত করা এবং ধ্বংস করার সক্ষমতা তৈরি করা। বিশেষ করে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হামলার বিরুদ্ধে গ্রিসের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা, তদন্তে কমিটি গঠন জামায়াতের
গ্রিস সরকারের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পরিষদ (কাইসিয়া) গত ২৩ জুলাই এই চুক্তির অনুমোদন প্রদান করে। এরপর দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
গ্রিক দৈনিক ইকাথিমেরিনি জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ মূলত গ্রিসের বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে ইসরায়েলি প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় করে তৈরি হবে। এর আওতায় গ্রিসের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশটির সামরিক স্থাপনা ও দ্বীপগুলোতে ইতোমধ্যে মোতায়েন করা ড্রোন ব্যবস্থাকেও নতুন প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এছাড়া, ইসরায়েলে তৈরি বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মও এই সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হবে। ফলে গ্রিস একক কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে একাধিক স্তরে আকাশসীমা সুরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
বিশেষ করে গ্রিসের দ্বীপাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। দেশের বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জ এবং কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোকে আকাশপথের সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে বহু স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন: চীনা পণ্যে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধে বিভিন্ন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। দেশটির আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো-এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্রিসের সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং গ্রিক সামরিক অবকাঠামোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩৪০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রিসের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে এটি গ্রিস–ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেও আরও গভীর করবে।
ইউরোপ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি সামনে এসেছে। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংঘাতে এসব অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোও নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রিসের নতুন এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র:
আরও পড়ুন: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে: বিশিষ্টজনেরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন