১২:১৯ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতের সমাধান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্ক কেলি।
এবিসি নিউজের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এর ফলে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর চাপ পড়ছে। মার্ক কেলি, যিনি মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সাবেক যুদ্ধবিমান চালক, তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে খুব বেশি ভালো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প চাইলে সংঘাত আরও বাড়িয়ে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে, এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। কেলির আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হতে পারে।
কেলি আরও বলেন, ট্রাম্পের সামনে আরেকটি বিকল্প হলো সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরে আসা। তবে তিনি মনে করেন, এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোট পুনর্গঠন করাও একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
কেলি মন্তব্য করেন, বর্তমান সংকট মূলত ট্রাম্পের নিজের তৈরি। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সব বিষয়ে ‘সবার চেয়ে বেশি জানেন’—এমন অবস্থান নিয়ে এসেছেন। ফলে, এখন তার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প কমে গেছে।
তিনি জানান, ট্রাম্পের এই অবস্থানের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কেলি ইরানে মার্কিন হামলাকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তিনি বলেন, কিছু হামলায় নিরপরাধ ইরানি শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছে। তার মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি করে বোমা হামলা ‘ভালো পরিকল্পনা ছিল না’। তবে কেলি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকার কথাও বলেননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পথ খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও জোট পুনরায় শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন। কেলি বলেন, অর্থনৈতিক পথে যাওয়া এবং আমাদের জোটগুলো পুনরায় শক্তিশালী করা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ভালো পথ হতে পারে। তার মতে, শুধুমাত্র সামরিক অভিযান বাড়ানোর চেয়ে এই পথ অধিক কার্যকর। ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর চেয়ে এটি একটি ভালো বিকল্প। কেলির বক্তব্যে ইরানে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে পেট্রল ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের এর মূল্য দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন