প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) অনুমোদনের উদ্দেশ্যে আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। যদি ওইদিন অনুমোদন লাভ করে, তাহলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহের মধ্যে জারি হতে পারে। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় এজেন্ডাভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। যদি ওইদিন অনুমোদন হয়, তাহলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তবে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে তথ্য দিতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে।
২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানান, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। এই বৃদ্ধি দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।
সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে 'জনগণের সরকারের ১৮০ দিন' শীর্ষক একটি ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ওই বইয়ে 'নবম পে স্কেল : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর' শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি।
বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন