বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৩ পি.এম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক শিশুকে রিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে স্থানীয়রা এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করেছেন। তাদের পরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটিয়া পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় ঘটে।
আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে মো. ফারুক (৪২) এবং অপরজন কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)। জানা গেছে, শাহাজাহান বেগম উপজেলার বাদামতল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, কাগজীপাড়া এলাকার আশরাফ আলী একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা (৯) বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় এক রিকশাচালক ও এক নারী তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে নেন। কিন্তু রিকশাটি বাড়ির সামনে না থামিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করে।
শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রিকশাটি থামানোর চেষ্টা করেন। পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে রিকশাসহ ওই দুজনকে আটক করেন। পরে তাদের পটিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার ফলে এলাকায় শিশুধরা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন বের হয়ে আসেন। পরে সবার সহযোগিতায় তাদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে ওই দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘শিশুধরা অভিযোগে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর জন্য প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান করানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না। এছাড়া, যোগদানের পরপরই তাদের পদায়ন নিয়ে শঙ্কাও দূর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভেটিংয়ে পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে, ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে স্বাক্ষর করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে আসলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, ১ অক্টোবরের মধ্যে সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের আগে ক্লাসে নয়
যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। তবে পদায়ন পেলেও তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসে অংশ নেবেন না। যোগদানের পর নতুন এসব সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, "প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত।" দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তার আগে তাঁদের ক্লাসে পাঠানো হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বিভিন্ন ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়া নিয়ে বক্তব্য দেন।
পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে পাস করার বিষয়টি মন্ত্রী জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, "প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে কারো নিয়োগ বাতিল হবে বলে তিনি মনে করেন না।" তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায়, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া, একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই পরামর্শ তুলে ধরেন।
আজম জে চৌধুরী মন্তব্য করেন, "সুযোগ দিলে দেশের বেসরকারি খাত নিজেই প্রবৃদ্ধি করবে। আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যা হয়েছে, সবই বেসরকারি খাতের অবদান।" তিনি যুক্ত করেন, "তাহলে বাংলাদেশে গ্যাস-তেল অনুসন্ধান তারা (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) পারবে না কেন। আমি বিশ্বাস করি সুযোগ দিলে আমরা পারব।"
তিনি আরও বলেন, "যারা তেল কোম্পানি তারা নিজেরা অনুসন্ধান করে না। অনুসন্ধানের জন্য ড্রিলিংটা করে একটা ভেন্ডর। আপনি একটা ভেন্ডর নিয়োগ করবেন সে ড্রিলিং করবে।"
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উচিত হবে ডিপিএম মেথডে প্রধান তেল কোম্পানি এক্সন মবিল, শেল এবং বিপিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা। তিনি বলেন, "এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে বেসরকারি দুইটা কোম্পানিকে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেওয়া। তারা (বেসরকারি কোম্পানি) যদি ১০ শতাংশ থাকে ওদের সঙ্গে তাহলে এদের (বেসরকারি কোম্পানি) সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।"
তিনি আরও বলেন, "তারা (বেসরকারি কোম্পানি) জানবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কিভাবে হয়। আমি জানি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়াররা প্রধান তেল কোম্পানিতে কাজ করছে।"
আজম জে চৌধুরী বলেন, "আমরা অনুসন্ধানের কাজ করতে পারব না এরকম কথা না। কথা হচ্ছে আমাদের ক্যাপিটাল এত স্ট্রং না।" তিনি একটি শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, "প্রধান তেল কোম্পানির সঙ্গে একটা শর্ত করে দেওয়া যায় যে তাদের চুক্তির সঙ্গে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাংলাদেশের বেসরকারি কোম্পানি থাকবে। তাহলে ওই কোম্পানিগুলো দক্ষতা অর্জন করে ফেলবে।" তিনি ভারতীয় কোম্পানির উদাহরণ দিয়ে বলেন, "ভারত আগে থেকে শিখে আসে নাই। ভারতের কোম্পানিগুলোও নিজেরা অনুসন্ধান করছে। আমরাও সেটা করতে পারি বলে আমার বিশ্বাস।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বাগেরহাটের ফকিরহাটের মায়ারখালী চিত্রা নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় ১০টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করে শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষ মায়ারখালী যুব সংঘের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকাবাইচের কারণে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
আয়োজক কমিটির সভাপতি পরিতোষ বাগচী, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বালা, মিল্টন শাখারী, কিরণ মণ্ডল, পঞ্চানন বিশ্বাস, গৌতম বিশ্বাস, সঞ্জিত বিশ্বাস, মনোজ গাইন, মিলন মোহন্তসহ অন্যান্য কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই মুগ্ধতার প্রভাবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন। এরপর তিনি আরো পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন। সেই সাতটি ময়ূর থেকেই তিনি বংশবিস্তার করে একটি ময়ূরের খামার গড়ে তোলেন।
বর্তমানে শাহ আলীর খামারে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন। ময়ূর পালনের পাশাপাশি তিনি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি হিসেবে সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকেই তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন। সরেজমিনে তার খামারে দেখা যায়, খামারের ভেতর রঙিন ময়ূর আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিছু ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।
শাহ আলী জানান, তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় তার বাবা গরুর খামার করেছিলেন। তিনি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতেন এবং মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতেন। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে তার ভালো লেগে যায়।
তিনি বলেন, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে তিনি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড তৈরি করেন। এরপর আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং চারটি ডিমের হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, তিনি মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়ান। আগে তিনি একাই দেখাশোনা করতেন। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছেন। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ময়ূরের খামারের কারণে তাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। তারা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ