প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই মুগ্ধতার প্রভাবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন। এরপর তিনি আরো পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন। সেই সাতটি ময়ূর থেকেই তিনি বংশবিস্তার করে একটি ময়ূরের খামার গড়ে তোলেন।
বর্তমানে শাহ আলীর খামারে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন। ময়ূর পালনের পাশাপাশি তিনি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি হিসেবে সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকেই তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন। সরেজমিনে তার খামারে দেখা যায়, খামারের ভেতর রঙিন ময়ূর আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিছু ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।
শাহ আলী জানান, তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় তার বাবা গরুর খামার করেছিলেন। তিনি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতেন এবং মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতেন। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে তার ভালো লেগে যায়।
তিনি বলেন, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে তিনি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড তৈরি করেন। এরপর আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং চারটি ডিমের হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, তিনি মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়ান। আগে তিনি একাই দেখাশোনা করতেন। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছেন। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ময়ূরের খামারের কারণে তাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। তারা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন