ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আর্জেন্টিনা সেতু’ উন্মাদনায় ঠাসা, পুরো শহরজুড়ে উৎসব


‘আর্জেন্টিনা সেতু’ উন্মাদনায় ঠাসা, পুরো শহরজুড়ে উৎসব

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙ্গামাটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে একটু বৃষ্টি উপেক্ষা করে আকাশি-সাদা জার্সি পরে শহরের শহিদ আব্দুর শুক্কুর স্টেডিয়ামে সমবেত হতে থাকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। তারা প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে যাত্রা বের করে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রায় সকল বয়সের মানুষ উপস্থিত ছিল। ভুভুজেলার কানফাটা শব্দ পরিবেশকে আরও উন্মত্ত করে দিয়েছিল। গান ও নৃত্যের তালে তালে তারা স্মোক ফ্লেয়ার হাতে নিয়ে পুরো প্রাঙ্গণকে মুখরিত করে তোলে।

আর্জেন্টিনা শোভাযাত্রা হবে, এমন দিনে ব্রাজিল সমর্থকরা কি বসে থাকবেন? তারা শহরের দোয়েল চত্বরে সমবেত হয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। শোভাযাত্রা সেখানে পৌঁছাতেই ব্রাজিল সমর্থকরা ইতালীয় খেজুর খাওয়ায় এবং থ্রি-পিস দিয়ে তাদের অভিবাদন জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এ নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

পরে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা শহরের রিজার্ভ বাজারস্থ ওয়াই আকৃতির আর্জেন্টিনা সেতুর কাছে মিলিত হন। হাজারো সমর্থক সেখানে কানায় কানায় ভরে ওঠে। তারা পাতাকা উড়িয়ে স্লোগানে হাসি-আনন্দে সেতুটিকে মাতিয়ে রাখে। প্রিয় দলের জন্য তারা শুভ কামনা জানানোর পাশাপাশি ব্রাজিল দলের নিয়ে টিপ্পুনি কাটেন।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, '১৯৮০ সালের পর যারা বিশ্বকাপ খেলা দেখেছে, সবাই ম্যারাডোনার খেলা দেখেছে। এই কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ আর্জেন্টিনা সমর্থন করে। এবারের আর্জেন্টিনা দল খুব ভালো খেলছে। আশা করছি ২০২২ সালের মতো এবারও মেসির হাতে কাপটি উঠবে।'

আরেক সমর্থক মো. মাহিন খান বলেন, 'ব্রাজিল শুধুমাত্র ফাঁকা বুলি ছোড়েন। এসব শোনার সময় নেই আমাদের। আমরা অতীতকে বিশ্বাস করি না। গেল বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি। ব্রাজিলের অনেক সমর্থক আছে, যারা এখনও দলটিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখে নি, তাদের সাথে আবার কীসের কথা।'

ইয়াছিন রানা সোহেল বলেন, 'আমার অনেক বন্ধু রয়েছে, যারা বলে ব্রাজিল ৫ বার কাপ নিয়েছে। কিন্তু আমি বলি ৫ বার কাপ নিলে কিছুই হয় না। খেলা দেখো, দুই দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলায় অনেক পার্থক্য রয়েছে।'

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

ব্রাজিল দলের সমর্থক মো. ইব্রাহিম বলেন, 'আমাদের র‌্যালিতে তারা সেভেন আপ দিয়ে বরণ করেছিল, তাই আজ আমরা তাদের র‌্যালির ক্লান্তি দূর করতে খেজুর খাওয়ালাম। সঙ্গে থ্রি পিস দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। খেলা মানে আনন্দ। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি সারাই মিলে।'

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মৃনাল তঞ্চগ্যা বলেন, 'গত বিশ্বকাপে সৌদি থেকে খেজুর খেয়ে শক্তি বাড়িয়ে কাপ নিয়েছি। খেজুর আমাদের শক্তি বাড়িয়েছে। এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ উঠবে, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।'

রাঙামাটি পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, 'বিশ্বকাপে একদিন বাংলাদেশ খেলবে সেই স্বপ্ন দেখি। সেইদিন দেশের জন্য এর থেকে বড় শোভাযাত্রার আয়োজন করবো। যতদিন বাংলাদেশ খেলবে না ততদিন আর্জেন্টিনা দলের সমর্থন দিয়ে যাব। তাই আজ দলের শুভকামনায় এই শোভাযাত্রা করেছি। তবে সব দলের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান থাকবে, কোন ভেদাভেদ নয়, আসুন সবাই মিলে ফুটবলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। আর মজা করি।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘গোপনে লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল পরিবহন করে নিয়ে গেছে। এই কাজটি তেলের বৈশ্বিক দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে এই জলপথ দিয়ে তেল সরিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে এনেছি, কেউ কিছু টের পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, এই গোপন অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় এই সরু ও কৌশলগত জলপথ দিয়ে। চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কোনও জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। তবে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজের জন্য সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত হল যে, তাদের ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এপ্রিলের ১৩ তারিখে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালীটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পেরেছে?

ট্রাম্প কী দাবি করেছেন? ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ‘২২টি জাহাজ রাতে আলো নিভিয়ে পার করা হয়েছে’। কারণ তার ভাষায়, ইরানের রাডার ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তিনি এই ‘গোপন মিশন’ উন্মোচন করছেন কারণ তেহরান বিষয়টি বুঝে ফেলেছে। পরবর্তীতে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনা করতে।

তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের নয়।”

ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ ও তাদের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসপ্রায়’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে একই দিনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট কংগ্রেস শুনানিতে জানান যে, তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনও বৃহৎ তেল পরিবহনের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব জাহাজ ইরানি নয়।

গালফ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেল রফতানি করে।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কি এই তেল সরাতে পেরেছে? বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের সমুদ্রপথ বাণিজ্যের সমান। যুদ্ধ শুরুর আগে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো।

সেই হিসেবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোট সম্ভাব্য পরিবহনযোগ্য তেল প্রায় ২০০ কোটি ব্যারেল হওয়ার কথা ছিল, যদি স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত।

এছাড়া যুদ্ধপূর্ব দৈনিক প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতো। সেই হিসাবে পাঁচ দিনের স্বাভাবিক ট্রাফিকেই প্রায় ৭০০টি জাহাজ পার হওয়ার কথা।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে। লয়েড’স লিস্ট বলছে সংখ্যা ১৪২টি, আর কেপলার জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৬৪টি জাহাজ পারাপার হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যাও ট্রাম্পের দাবি করা ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সমর্থনে যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

অনেকে জানাচ্ছে, অনেক জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কর প্রদান করে প্রণালী পার হয়েছে। কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার নিয়ন্ত্রণে? যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে। তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। পাকিস্তান, ভারত ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ পরিবহন করছে।

ইরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ডসংলগ্ন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য বীমাসদৃশ ফি আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমালোচকরা এই ফি-কে অবৈধ ‘টোল বুথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এনএসআই ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সিইও অস্কার সেকালি বলেন, “ভূগোলিক সুবিধাকে আর্থিক সুবিধায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা এটি। প্রাচীন এই কৌশলই এখন নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান যে, একটি বড় তেলবাহী জাহাজ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ডলার খরচ করে, এবং ১০০ দিনের বিলম্বে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। তবে ইরানকে অর্থ প্রদান অনেক কোম্পানিই এড়িয়ে চলে, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকি ও বীমা জটিলতা তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট নিয়ে টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ, আছে হতাশাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


বাজেট নিয়ে টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ, আছে হতাশাও

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে সংস্থাটি হতাশাও প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেয়া সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বিলে এই সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ফলে কোনোভাবেই যেন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগ আর না ফেরে— এই প্রত্যাশা করছি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পরে নিরবিচ্ছন্নভাবে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছেন, কিন্তু এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে আর্থিক লাভের থেকে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকির দুর্বিনীত সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে।

আশা করি, এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চার বিপরীতে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিবৃতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যেভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করছে এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবতার আলোকে কতটা কঠোর হিসাব-নিকাশ করতে হয়েছে।

১১ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক বিবেচিত হয়েছে।

তবে এ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবছর নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া বাজেটে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নিত্যপণ্য ও সেবার শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

একইসঙ্গে তিনি করফাঁকি ও অনিয়ম রোধে কর প্রশাসনের ভেতরে বিদ্যমান দুর্নীতি ও যোগসাজশমূলক অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে হতাশও প্রকাশ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আশা করেন, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাসহ যেসব জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


ঢাকাসহ যেসব জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সংস্থাটির অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কিছু কিছু স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া দেশের সব বিভাগে আগামী এক সপ্তাহ ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

আদ-দীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সকলেই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। তিনি এটিকে মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলছেন না।

তিনি আরও সুষ্পষ্টভাবে লিখেছেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে যে হাসপাতালটিকে ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং যা মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিল, আজ তার লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হলো। ফলে এর ক্ষতি শেষ পর্যন্ত জনগণেরই হলো।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে জামায়াতের আমির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে সম্ভবত ৪০০-৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও এখানে চলছে। এ অবস্থায় তাদের গন্তব্য কোথায়? শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যদি কারও কোনো দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে তাকে বন্ধ করে দেয়া কাম্য নয়।

এর আগে, বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত বার্তায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে ওই বার্তাতে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটিকে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%