বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ পি.এম
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন জনগণের সেবার দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা ভোগের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণ বুঝতে পারছে যে তারা রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।
সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিমূলক সরকার। গণমাধ্যম জনগণের সামনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হয়ে প্রতিদিনের ঘটনাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরছে এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন তথ্য জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছায়। জনপ্রতিনিধিরা ও মন্ত্রণালয়গুলোও বিভিন্ন তথ্য জনগণকে জানায়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতি মঙ্গলবার সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যক্রম পিএমও বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমেও তথ্য জানানো হয়। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানে কোনো সমস্যা বা মানুষের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার বিষয়েও তিনি নজর রাখছেন। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে সরাসরি কথা বলছেন।
তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সরকারের ২১২ দিন চলছে। এর মধ্যে সরকারের অনেক কাজের ফল জনগণ পেয়েছে, আবার কিছু কাজের ফল পেতে আরও সময় লাগবে। এসব কাজ এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, সেটির ফল পেতে সময় প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শালেহ শিবলী বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করা যায়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল জনগণ খুব শিগগিরই পাবেন।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। স্কুলের ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা করা এবং ব্যাংকিং সময় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও ওই সরকারকে এমন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।
সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব নিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিষয়টি কেন তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, জনজীবনে স্বস্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক—এটি জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে।
জনগণের রাষ্ট্রের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনি—জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তবে জনগণকে কীভাবে তা অনুভব করানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে যে তারা রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেখছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আছেন।
সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, ১৫০ টাকার খাবার বা ১ হাজার টাকার খাবার—কোনটি খাওয়া হচ্ছে, সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, জনগণের হাজার হাজার টাকা একটি খাবারের প্যাকেটের পেছনে ব্যয় না করে জনগণের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫০ টাকার মধ্যে সুশৃঙ্খল ও সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা। জনগণের টাকার প্রতি সম্মান দেখানো এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা—এটাই বড় বিষয়।
তিনি বলেন, জনগণ যাতে মনে করে সরকার তাদের মতো করেই চলছে এবং সরকারকে তারা বিশ্বাস করতে পারে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।
সালেহ শিবলী বলেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এটি একটি দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে যারা আছেন তারা যেমন বিষয়টি বুঝছেন, তেমনি জনগণও তা অনুভব করতে শুরু করেছেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে আগেই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঘরে এসির পেছনে জমে থাকা পানি, বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি কিংবা আশপাশের গর্তে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।
সালেহ শিবলী বলেন, গত সপ্তাহের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী স্কাউটস, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্তত প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষ যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেয় এবং প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে, ঘরে ও আশপাশে ময়লা পানি জমতে না দেয়, তাহলে ডেঙ্গুর মরণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী, মন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ—মশা কাউকে আলাদা করে চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সবাই যদি আজ থেকেই নিজের চারপাশ পরিষ্কার করা শুরু করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেকের আহ্বান
গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের কাজ শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনাও সরকারের দায়িত্ব। গত এক মাসে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বর্তমানে অনেক গুজব ও গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা—অনেক সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই দেশের টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকাগুলো প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে গুজব, গুঞ্জন, সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টচেক নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান ও প্রতিবেদন করতে পারে।
তিনি বলেন, সারাদিন মানুষ যে ধরনের গুজবের মধ্যে বসবাস করেছে, দিনের শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা পত্রিকার প্রতিবেদন দেখে যেন তা যাচাই করে নিতে পারে—সকাল থেকে দেখা বা শোনা তথ্যের কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের উদ্যোগ নিলে গুজব ও গুঞ্জনের সময় থেকে মানুষকে বের করে আনা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বুধবার, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য বাসসকে জানান।
সাক্ষাৎকালে, প্রতিনিধিদলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, দেশের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় রাষ্ট্রপতি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। পাশাপাশি, তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজকোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদারপাড়া গ্রামের মৃত বাছরা প্রামাণিকের পুত্র।
আরো পড়ুন
হাম উপসর্গে আরো ৮ প্রাণহানি
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় এ রায় দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলাম ধর্মের সর্বাধিক পবিত্র শহর মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলার অভিযোগকে অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের উত্থাপিত এই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট ও ‘ঘৃণ্য মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে, হুতিরা মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল, তবে মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়। জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মক্কায় হুতিদের দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা, এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রথমবার আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে সৌদি আরবের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে হুতিদের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ মন্তব্য করেছেন, ‘মক্কায় হামলার দাবিটি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। অতীতে এমন বানোয়াট দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ভিত্তিহীন গল্প দিয়ে এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
সৌদি আরব এবং হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলমান সংঘাতের পেছনে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইরান সমর্থিত হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি সৌদিতে আশ্রয় নেন। তাকে পুনরুদ্ধার করতে সৌদি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সবশেষ গত ১৩ জুলাই সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর থেকে সৌদি-হুতি স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ