০৭:৫৯ পি.এম
চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে নিজেদের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে তাইওয়ান প্রথম চালানের দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান গ্রহণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় মোট ৬৬টি নতুন যুদ্ধবিমান সরবরাহের মধ্যে এই দুটি বিমান প্রথমবারের মতো তাইওয়ানে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানের পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুং-এর চিহ্যাং বিমান ঘাঁটিতে এসে পৌঁছায়। চীনের সামরিক হুমকির কারণে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলো আনা হয়েছে।
সফটওয়্যার সমস্যার কারণে কয়েক মাস দেরি হওয়ার পর অবশেষে যুদ্ধবিমানগুলো পৌঁছেছে। তাইওয়ানের বিমান বাহিনীকে প্রতিদিন চীনের সামরিক বিমানগুলোর ওপর নজর রাখতে আকাশে উড়তে হয়। এই নতুন দুটি বিমান তাদের বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে চীন প্রায়ই নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে। ফলে তাইওয়ানকে চীনের সামরিক হুমকির মুখে প্রতিনিয়ত থাকতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে অস্ত্রগুলো পেতে দেরি হওয়ায় তাইওয়ান এর আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এই সরবরাহটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং এর মধ্যে তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত।
ফেসবুকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে লিখেছেন, ‘তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এ এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’ তিনি এই সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান
তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, আরো নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শিগগিরই আসছে, যদিও তিনি এর কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেননি।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের ৮শ কোটি ডলারের এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয়। এর ফলে তাইওয়ানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
গত মে মাসে চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি তাইওয়ানের জন্য একটি নতুন ১৪০০ কোটি ডলারের প্যাকেজ স্থগিত রেখেছেন, যদিও তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন।
আরও পড়ুন: সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন