শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের নির্দিষ্ট দিন ও সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা’ নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এতে যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমানে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ যেখানে রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশ যুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা জরুরি। দুই দেশের মধ্যে ‘হাজার সমস্যা’ থাকলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকার জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ খাতে কী ধরনের দুর্নীতি ঘটেছে, তা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বোয়িং কিনতে চাপ নেই। বাংলাদেশে চাহিদা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরো বোয়িং বিমান কেনা হবে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার একটি সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি পাঠানো হবে।
কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময়কালে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারী উদ্ধার, অলৌকিক বেঁচে ফেরা
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর নুয়াকোট শহরের একটি বাড়ি থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যমতে, গত ২৬ আগস্টের বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বন্যাটি সম্ভবত হিমবাহ ধসের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে জানানো হয়েছে, শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে মোট তিনজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নেপালের সেনাসদস্য এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল ২২৫ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
উদ্ধারের পর তাকে হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুই উদ্ধারকর্মী ওই ব্যক্তিকে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের হাজতখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি আব্দুল মোমিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে দুই দিন পর গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী এলাকা থেকে তার গ্রেপ্তারি পর্ব সম্পন্ন হয়।
হাজতখানা থেকে পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ১০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন এসআই, তিনজন এটিএসআই, তিনজন পুরুষ এবং দুজন নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
আব্দুল মোমিন (২২) শহরের কোবদাসপাড়ার আব্দুস সবুরের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজতখানায় কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে তিনি আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানিয়েছেন, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হাজতখানা থেকে পলাতক চুরি মামলার আসামি আব্দুল মোমিনকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিনই হাজতখানায় কর্তব্যরত ১০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী জানিয়েছেন, আদালতে হাজিরা থাকায় আব্দুল মোমিনকে কারাগার থেকে এনে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। এ সময় কোর্ট পুলিশের এক সদস্য হাজতখানার ভেতরে থাকা অন্য এক আসামির হ্যান্ডকাপ খোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সুযোগে গেটে পাহারায় থাকা এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে হাজতখানা থেকে বেরিয়ে যান মোমিন। পরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার দিনই থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রওশন ইয়াজদানী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনার ফলে ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অপরদিকে, ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলের খাবার খেতে যান কাজী জুহায়ের। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছানোর পর হঠাৎ আলীনুর রহমান তার ওপর থাপ্পড় দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, আলীনুর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।
পরে আলীনুর ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনুরের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষটির জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন।
এরপর প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আলীনুরকে হল থেকে বের করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। পরে কিছুক্ষণ পর তারা ফটক খুলে দেয়।
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, ‘আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম। এ সময় আলীনুর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় দিতে শুরু করে। এর আগে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিল না। কেন তিনি এ কাজ করেছেন, তা জানি না।’
তিনি আরো বলেন, আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুই বেয়াদব, তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মারছি।
অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সঙ্গে আমার আগে কোনো সমস্যা ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিন্ধু নদে একটি নতুন চেক ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আপশি এলাকায় নির্মিত এই বাঁধটি লাদাখে সিন্ধু নদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রথম ‘রক চেক ড্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া ডটকম।
বাঁধটি নির্মাণের জন্য বড় বড় প্রাকৃতিক পাথর ও বোল্ডার ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কোনো সিমেন্টের ব্যবহার করা হয়নি। চেক ড্যামটি নির্মাণের ফলে ওই অঞ্চলে নদীর পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইগু ফে সেচ খাল দিয়ে নদীর পানি কৃষিজমিতে প্রবাহিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এই পাথরের কাঠামোটি প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। সংরক্ষিত পানি ইগু ফে খালের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে শুষ্ক কৃষিজমিতে পৌঁছানো হচ্ছে। ফলে আশপাশের গ্রামগুলোর কৃষকদের জন্য সেচের পানির একটি আরও নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি হয়েছে।
লাদাখের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় কৃষিকাজে পানির সংকট দীর্ঘকালীন সমস্যা। বিশেষ করে বসন্তকালে বীজ বপনের সময় সিন্ধু নদীর পানির স্তর অনেকটা নেমে যায়। এর ফলে অনেক কৃষকের জন্য পাম্পের সাহায্যে নদী থেকে পানি তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।
গভীর ও সরু গিরিখাতের মধ্য দিয়ে সিন্ধু নদ প্রবাহিত হওয়ার ফলে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। নতুন চেক ড্যামটি পানি আটকে নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি করবে। এতে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছানো সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
তবে কৃষির বাইরেও প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে লাদাখের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সিন্ধু নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং ছোট আকারের পানি অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের মনোযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই কারণে আপশির চেক ড্যামকে কেবল সেচ প্রকল্প হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
লাদাখ প্রশাসন সিন্ধু নদীর বিভিন্ন এলাকায় আরও চেক ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া, লাদাখ প্রশাসন ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৬টি চেক ড্যাম নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এতে লেহতে সাতটি হিমালয়ান রক চেক ড্যাম এবং কারগিলে ২৯টি চেক ড্যাম বা ওয়্যার নির্মাণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ৫৬ কোটি রুপির বেশি ধরা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লাদাখের বিভিন্ন গ্রামের পানি সরবরাহ, সেচ সুবিধা এবং সামগ্রিক পানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ