ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে মোদিকে ট্রল করে দেওয়া পোস্ট চিহ্নিত করতে পুলিশের অভিযান


প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে মোদিকে ট্রল করে দেওয়া পোস্ট চিহ্নিত করতে পুলিশের অভিযান

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এনইইটি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনের সময়,

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষার পোস্ট শনাক্ত ও অপসারণে অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের একদিন পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত অধিকাংশ ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে বিশেষ একটি দল কাজ করছে। নতুন কনটেন্ট শনাক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সিপিবি অফিসে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি সাইফুল হকের

ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক মাসের বেশি সময় চলার পর শনিবার তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ সংগঠনটির আরও দুটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে।

তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সিজেপি আরও কয়েকটি দাবি তোলে। এর মধ্যে ছিল আত্মহত্যা করা এনইইটি পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পুলিশের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।

দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি সদিচ্ছার ভিত্তিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার শর্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশা করছে দলটি।

সিজেপির দাবি, আত্মহত্যা করা এনইইটি পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের বিতর্কিত কৌশল ও ভোটারদের জন্য সুবিধার প্রস্তাব

এফআইআর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সিজেপির আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গুরুতর অপরাধী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। শুরু থেকেই সিজেপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিল। সমঝোতা অনুযায়ী আন্দোলনের সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো এফআইআরও করা হবে না বলে তারা আশা করছেন।

তবে মোতিকাল নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট অপসারণে দিল্লি পুলিশের এই অভিযানের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সিজেপি।

এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গত মে মাসের শুরুতে শুরু হওয়া ক্ষোভ ধীরে ধীরে ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। সাবেক আম আদমি পার্টি নেতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গঠিত সিজেপি ২০ জুন থেকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। ২০ জুলাই সরকার ও সিজেপির মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন: ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ বছরের পথে ভারতের শেয়ারবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একাধিক এলাকায় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একাধিক এলাকায় হামলা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গতকাল রবিবার চালানো এসব হামলায় দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একটি পাথর কোয়ারিতে ধ্বংসযজ্ঞ এবং অসংখ্য বাড়িঘর ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদ ও সুরক্ষায় ইসরায়েলি দখলদাররা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, এই হামলাগুলো নাবলুস, তুলকারেম, রামাল্লা, হেব্রন, সালফিত, কালকিলিয়া, জেরিকো ও জেরুজালেম গভর্নরেটের সম্প্রদায় লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি দখলদারেরা আল-রহমা মসজিদের একটি বড় অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মসজিদের দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয়।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল-আজিম ওয়াদি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তিনি একটি ফোনকলে তিনি জানতে পারেন গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মসজিদটিতে ইসরায়েলিরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওয়াদি জানান, তিনি তখনই আরও কয়েকজন বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মসজিদটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উদ্বোধন করার কথা ছিল।

এই একই দিনে তুলকারেমের দক্ষিণে কুর গ্রামে আরও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান লিখে রেখে গেছে।

ফিলিস্তিনি হাইয়ার ফাতওয়া কাউন্সিল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অভিযান।

এদিকে, রামাল্লার কাছে আইন সামিয়া এলাকার একটি পাথর কোয়ারিতে হামলা চালিয়ে ১০টি ভারী যন্ত্রপাতিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোয়ারির মালিকের দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ শেকেল ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।

এছাড়া বেইতিলু, বেইত ফুরিক, কালকিলিয়া, জেরিকো, সালফিত ও জেরুজালেমের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, যানবাহন ও একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি দখলদারদের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ধারাবাহিক হামলার অংশ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলে, ‘মসজিদে হামলা ও বর্ণবাদী স্লোগান লেখা দখলদারদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা রাজনৈতিক সংঘাতকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উসকানি, সুরক্ষা ও শাস্তিহীনতার নীতির কারণে তারা বারবার এমন হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান

বিবৃতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিদিন হামলা চালানো দখলদার গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়।

ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পশ্চিম তীরে অন্তত ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি তথ্য কেন্দ্রের (পিআইসি) হিসাব অনুযায়ী, কেবল জুন মাসেই ৬ হাজার ৮৫৬টি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম তীরে বসবাস করছেন। তারা ১৪১টি অননুমোদিত বসতি এবং ২২৪টি আউটপোস্টে বিভক্ত। এর মধ্যে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার বসতি স্থাপনকারী পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় থাকে। এসব এলাকা থেকে নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের ঘটনার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনা প্রধান আজিজসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগটি জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান।

সেদিন এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, উক্ত মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন আসামি হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সাথে সম্পর্কিত সংঘর্ষে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ছয়টি জাহাজ ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)। বিষয়টি সোমবার ভোরের দিকে ঘটে বলে জানান দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

আইআরআইবির প্রতিবেদনে এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ পথে অতিক্রমের চেষ্টা করে চলছিল। এ সময় তারা নিজেদের নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাজগুলো ওই পথ ব্যবহার করে চলাচলের মাধ্যমে এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টায় ছিল।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আটক ছয়টি জাহাজের মধ্যে একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাকি পাঁচটি জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে হয়ে আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে আইআরআইবি জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, ক্রুদের পরিচয় কিংবা দুর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির সূত্র আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত নৌপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেই নির্ধারিত পথের বাইরে অন্য যেকোনো রুট বিপজ্জনক এবং চলাচলের অনুপযোগী বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, ইরানের দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যাচাইও এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

তুরস্কের এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর বোদ্রুম, যার প্রাচীন নাম ছিল হ্যালিকারনাসাস। বর্তমানে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই শহর ছিল এক শক্তিশালী রাজবংশের রাজধানী। এখানেই নির্মিত হয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম, যার পেছনে রয়েছে এক শোকাবহ রাজকীয় প্রেমের গল্প।

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে কারিয়ার শাসক রাজা মসলাস (মাউসোলাস) এবং তার বোন ও স্ত্রী দ্বিতীয় আরটেমিসিয়া এ অঞ্চল শাসন করতেন। সে সময় রাজপরিবারে ক্ষমতা ও বংশীয় ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ অস্বাভাবিক ছিল না।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৩ সালে মসলাসের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েন আরটেমিসিয়া। স্বামীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তিনি গ্রিক, মিসরীয় ও লিসিয়ান স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এক বিশাল সমাধি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই সমাধিই পরে ইতিহাসে হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম নামে পরিচিতি পায় এবং প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

ইতিহাস ও কিংবদন্তি অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুশোকে আরটেমিসিয়া নাকি মদের সঙ্গে মসলাসের ভস্ম মিশিয়ে পান করেছিলেন। যদিও এ ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি যুগ যুগ ধরে আলোচিত একটি কাহিনি হিসেবে টিকে আছে। মসলাসের মৃত্যুর মাত্র দুই বছর পরে আরটেমিসিয়াও মারা যান এবং অসমাপ্ত সমাধির কাজ পরে কারিগররা শেষ করেন।

স্থানীয় গাইডদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিশাল স্থাপত্য নির্মাণে অর্থ জোগাড় করতে সে সময় নানা ধরনের কর আরোপ করা হয়েছিল। প্রচলিত একটি কাহিনিতে বলা হয়, পুরুষদের লম্বা চুলের ওপরও কর বসানো হয়েছিল। যারা কর দিতে চাইতেন না, তাদের চুল কেটে নেওয়া হতো এবং সেই চুল পারস্যের অভিজাতদের জন্য পরচুলা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। তবে এ তথ্যের পক্ষে শক্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত।

পরবর্তী সময়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ শতকের মধ্যে ধারাবাহিক ভূমিকম্পে মসলিয়ামটি ধ্বংস হয়ে যায়। উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক চার্লস নিউটন এর ধ্বংসাবশেষ খনন করে গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য ও স্থাপত্যাংশ উদ্ধার করেন, যার অনেকগুলো বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের কিছু মার্বেল পাথর ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয় বোদ্রুম ক্যাসল, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এক ভাই-বোনের রাজকীয় বিবাহ, গভীর শোক এবং অমর স্মৃতির প্রতীক হয়ে নির্মিত এই মসলিয়াম আজ আর অবশিষ্ট নেই। তবে এর ইতিহাস এখনো বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপত্যগাথা হিসেবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%