ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ

নেত্রকোনায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র ২ জন


নেত্রকোনায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র ২ জন

প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে মাত্র এক বা দুটি ক্লাশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই অবস্থার মধ্যে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে। ইংরেজি বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকসংকটে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খুসবো তারান্নুম জানান, প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিত এক থেকে দুটির বেশি ক্লাশ হয় না। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ বলেন, নয়টি ক্লাশের বিপরীতে গড়ে হয় মাত্র একটি। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির পাঠগ্রহণে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিভাগটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী একই সমস্যায় ভুগছেন। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রি এবং ১৪টি বিষয়ে সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এর প্রভাবের মুখে পড়ছেন। কারণ, সম্মান শ্রেণিতে সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি

কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চারটি। এর মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ প্রায় আট বছর ধরে শূন্য রয়েছে। প্রভাষক কাজী আশরাফুন হুমায়রা জানান, একজন সংযুক্ত শিক্ষক ও বাইরে থেকে আনা তিনজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজন মিটছে না। তার হিসাবে, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৯টি ক্লাশ নিতে হয়।

বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রভাষক রানা আহমেদ বলেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদানের জন্য মানসম্মত অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পাঠ দিতে না পারায় আমাদেরও খারাপ লাগে।

গণিত ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গণিত বিভাগে চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন দুজন। উচ্চমাধ্যমিক ও বিএসসি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াতে হচ্ছে।

প্রভাষক শাহীজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত ক্লাশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন দুজন।

আরও পড়ুন: ভোলায় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মেলন

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন। কলেজে শিক্ষকের প্রয়োজন ২৩৭ জন। অথচ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৫টি। এর মধ্যে ২৯টি পদ শূন্য; কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩৬ জন।

উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির জানান, সমপর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কলেজে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হলেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তা হয়নি।

অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেন, শিক্ষকসংকট নিরসনে ১৭০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংকট অনেকটাই কমবে। এ ছাড়া ছেলেদের জন্য ছয়তলা আবাসিক হল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মৌলিক এআই কোর্সের সুখবর

তবে যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পরিবেশমন্ত্রী

জেলা-উপজেলা শহরে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


জেলা-উপজেলা শহরে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন যে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, "সারা দেশে এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হয়নি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণেও বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, "বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন দেখা যাবে।

গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে সমস্যাগুলো শোনা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

লেমুর চুরির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, "লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল। পরে সেটি সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়।" এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আম্বানির চিড়িয়াখানার দুটি লেমুর সেখান থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত।" তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করেন। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "তাহলে চাইলেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়।" বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগে থেকে গড়ে ওঠা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে বনের জমি রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে মামলা করা হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতাও রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, "সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ৪৬৫ একর জমির মালিকানা সাধারণ মানুষের।" তিনি জানান, বনের ভেতরে এসব জমি থাকায় মালিকেরা সেখানে যেতে পারছেন না কিংবা নিজেদের জমি ব্যবহার করতে পারছেন না। অন্যদিকে, এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠলেও প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

এসব সমস্যা সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে বৈঠক করা হবে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

এর আগে, মন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরু-আল-মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিঠির খাম থেকে পার্সেলে বদলে যাওয়া ডাকপিয়নের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


চিঠির খাম থেকে পার্সেলে বদলে যাওয়া ডাকপিয়নের গল্প

পায়ে হেঁটে চিঠি বিলি করার কাজ থেকে সাইকেলে চেপে মানি অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার পেশায় পরিবর্তন এসেছে—জাহাঙ্গীর এখন একজন ডেলিভারি ম্যান। পোস্ট অফিসের সেবার ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার জন্য পোস্ট অফিস এখন অনেকটা কুরিয়ার সার্ভিসের মতো সেবা প্রদান করছে।

জাহাঙ্গীর এবং রণজিৎসহ নতুন ও পুরোনো ডাকপিয়নদের সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। একসময় ডাকপিয়নরা মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তারা প্রিয়জনের চিঠি, চাকরির নিয়োগপত্র এবং মানি অর্ডার পৌঁছে দিতেন। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে গেছে। এর পরিবর্তে বেড়েছে পার্সেল এবং বিভিন্ন পণ্য পাঠানোর চাহিদা।

পোস্টমাস্টার মশিউর রহমান জানান, এখানে ১৫ জন ডাকপিয়ন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে অনেকের চাকরির মেয়াদও শেষের দিকে। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের কাজের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। সাইকেলের পাশাপাশি এখন স্কুটিতে করেও পার্সেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ট্র্যাকিং সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ফলে ডাক বিভাগ এখন অনেকটাই আধুনিক কুরিয়ার সেবার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠির যুগ পরিবর্তিত হয়েছে। ডাকপিয়নের বাহন এবং কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিঠি ও মানি অর্ডার পৌঁছে দিতেন, এখন তাদের দায়িত্বের বড় অংশজুড়ে রয়েছে পার্সেল সরবরাহ।

তবুও মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় কিছু পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বদলায়নি। পায়ে হেঁটে চিঠি বিলি থেকে আধুনিক পার্সেল ডেলিভারি—সময় বদলেছে, ডাকপিয়নও বদলেছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সেবার মাধ্যমে ডাক বিভাগ এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে জাপানি কনসোর্টিয়াম, যারা টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচেটিয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা চালুর লক্ষ্যে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাপানি কনসোর্টিয়াম ইতোমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে তালিকা জমা দিয়েছে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নির্বাচন করবে কনসোর্টিয়াম। এরপর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্স প্রদান করবে বেবিচক।

বেবিচক সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তাজনিত, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্য কোনো আপত্তি রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। নতুন অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতে থাকবে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন, র‍্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর সরাসরি নির্ভর করে যাত্রীসেবার মান, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও সামগ্রিক যাত্রী-অভিজ্ঞতা।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের বিষয়টি কেবল নতুন একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণকাজের পর আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে, এ সিদ্ধান্ত তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যাত্রীদের ক্ষেত্রে লাগেজ পেতে বিলম্ব, চেক-ইন কার্যক্রমের গতি, সহায়তা প্রদান এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হবে সেবার মান যাচাইয়ের প্রধান সূচক।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় থাকা চার প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক কার্যক্রমের পরিধি, কর্মীসংখ্যা ও পরিচালন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশে ৩১০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার এবং বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে; বছরে প্রায় ৬২ লাখ টন কার্গো ব্যবস্থাপনা করে সুইসপোর্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা ৩৫টি দেশে ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি, পাশাপাশি প্রায় ৩২ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে। তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। তবে চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতার এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ের হতে পারে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশনের ৬৫টি দেশে ৩৪৭টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি এবং বছরে প্রায় ৫৩ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

তবে বৈশ্বিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মেনজিস এভিয়েশনের সেবার মান নিয়েও অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সে সময় কয়েক হাজার যাত্রীর লাগেজ আটকে পড়া, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থতা এবং অভিযোগের যথাযথ সমাধান না করার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গ্রাহক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম ট্রাস্টপাইলটে মেনজিস এভিয়েশনের রেটিং ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৫। সেখানে যাত্রীদের একাংশ কর্মীদের আচরণ, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে অনলাইন রিভিউ সামগ্রিক সেবার মানের চূড়ান্ত পরিমাপক নয়।

এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমপিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বায়োসিকিউরিটি আইন মেনে চলার নির্দেশনা লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০২৫ সালে মেনজিস এভিয়েশন লিমিটেডকে দেড় লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। অকল্যান্ড বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ছয়টি চালান যথাযথভাবে মোড়কজাত না করা এবং পরিদর্শনকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয়টি আদালতের রায়ে উঠে আসে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বা কর্মীসংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, লাগেজ সরবরাহের সময়, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড, যাত্রীসেবার মান এবং অনিয়ম বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষমতার মতো পরিমাপযোগ্য সূচককে গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকি অতীত অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা অভিজ্ঞতা দেখলে হবে না। অতীতে তাদের সেবার মান কেমন ছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডে কতটা দক্ষতা রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে বড় প্রতিষ্ঠান হলেই যে তারা সব জায়গায় সমান মানের সেবা দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই অপারেটর নির্বাচনের পাশাপাশি সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাব (ডিইউসিসি)। তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশের উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) উদ্যোগে ‘বিটিএফ-ডিইউসিসি ফিদে র‍্যাপিড রেটেড চেস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল-কলেজ, দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে পয়েন্ট ও চূড়ান্ত অবস্থানের ভিত্তিতে সেরা ১০ জন দাবাড়ুকে পুরস্কৃত করা হয়। দুই বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে আট হাজার, ছয় হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকারীরা তিন হাজার টাকা করে পান। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের পদক দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হন সুব্রত বিশ্বাস। প্রথম রানারআপ হন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, যিনি ৬ পয়েন্ট অর্জন করেন। দ্বিতীয় রানারআপ হন অমিত বিক্রম রায়, যিনি ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট অর্জন করেন। এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থানে যথাক্রমে এ এস এম সয়েব রেজা, তানভীর আলম, তাহমিদুল হক, মাইনুল আলম, রাকিবুল হাসান ইমন, মো. রাইসান ইসলাম রাতুল ও আবরার রহমান স্থান লাভ করেন।

স্কুল-কলেজ বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন রায়ান রশিদ মুগ্ধ। প্রথম রানারআপ হন মো. আজমাঈন পারভেজ সায়র, যিনি ৬ পয়েন্ট অর্জন করেন। দ্বিতীয় রানারআপ হন সাফায়াত কিবরিয়া আজান, যিনি ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট অর্জন করেন। এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থানে যথাক্রমে সিয়াম চৌধুরী, শাদাত কিবরিয়া আয়ান, আজরাফ আনান, আওসাফ চৌধুরী, মুহতাদি তাজওয়ার নাশীদ, রাইয়ান সায়েদী ও মোহাম্মদ মাহীন রহমান স্থান লাভ করেন।

বিকালে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি ও ডিআইজি ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসান পরাগ, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান, ইনার হুইল ক্লাব অব লবেলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাজেদা আক্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাবের সভাপতি ফারিহা সুমনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" নিয়মিত দাবা চর্চা মনোযোগ, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

ইনার হুইল ক্লাব অব লবেলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাজেদা আক্তার বলেন, "মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।" এ পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে জয়শ্রী জামান বলেন, "মানসিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।" সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা গেলে মানুষের বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করা সম্ভব। এ ভাবনা থেকেই দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।" তবে মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানুষের জীবনযাপনে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের চর্চা বাড়ানো জরুরি। দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলাকে অবহেলা না করে এর বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জয়শ্রী জামান বলেন, "জীবনের সিদ্ধান্তগুলো দাবার চালের মতো ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভুল পদক্ষেপের কারণে বড় ক্ষতি না হয়।" আত্মহত্যা ও বিষণ্নতাকে না বলার পাশাপাশি মানসিক শক্তি ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মানসিক কষ্ট একা চেপে না রেখে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "কখনো মনের মধ্যে কোনো কষ্ট চাপা রাখবে না।" কারও সঙ্গে শেয়ার করলে অনেকটা হালকা হওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোমার গোপন কথাটি, সখী, রেখো না মনে’ পঙ্ক্তির কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%