০৯:৪৩ পি.এম
প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে মাত্র এক বা দুটি ক্লাশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই অবস্থার মধ্যে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে। ইংরেজি বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকসংকটে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খুসবো তারান্নুম জানান, প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিত এক থেকে দুটির বেশি ক্লাশ হয় না। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ বলেন, নয়টি ক্লাশের বিপরীতে গড়ে হয় মাত্র একটি। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির পাঠগ্রহণে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।
বিভাগটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী একই সমস্যায় ভুগছেন। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রি এবং ১৪টি বিষয়ে সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এর প্রভাবের মুখে পড়ছেন। কারণ, সম্মান শ্রেণিতে সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি
কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চারটি। এর মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ প্রায় আট বছর ধরে শূন্য রয়েছে। প্রভাষক কাজী আশরাফুন হুমায়রা জানান, একজন সংযুক্ত শিক্ষক ও বাইরে থেকে আনা তিনজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজন মিটছে না। তার হিসাবে, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৯টি ক্লাশ নিতে হয়।
বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রভাষক রানা আহমেদ বলেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদানের জন্য মানসম্মত অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পাঠ দিতে না পারায় আমাদেরও খারাপ লাগে।
গণিত ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গণিত বিভাগে চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন দুজন। উচ্চমাধ্যমিক ও বিএসসি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াতে হচ্ছে।
প্রভাষক শাহীজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত ক্লাশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন দুজন।
আরও পড়ুন: ভোলায় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মেলন
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন। কলেজে শিক্ষকের প্রয়োজন ২৩৭ জন। অথচ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৫টি। এর মধ্যে ২৯টি পদ শূন্য; কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩৬ জন।
উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির জানান, সমপর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কলেজে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হলেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তা হয়নি।
অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেন, শিক্ষকসংকট নিরসনে ১৭০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংকট অনেকটাই কমবে। এ ছাড়া ছেলেদের জন্য ছয়তলা আবাসিক হল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মৌলিক এআই কোর্সের সুখবর
তবে যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন