ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব


শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে জাপানি কনসোর্টিয়াম, যারা টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচেটিয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা চালুর লক্ষ্যে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাপানি কনসোর্টিয়াম ইতোমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ছাড়পত্র চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে তালিকা জমা দিয়েছে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নির্বাচন করবে কনসোর্টিয়াম। এরপর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্স প্রদান করবে বেবিচক।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

বেবিচক সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তাজনিত, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্য কোনো আপত্তি রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। নতুন অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতে থাকবে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন, র‍্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর সরাসরি নির্ভর করে যাত্রীসেবার মান, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও সামগ্রিক যাত্রী-অভিজ্ঞতা।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের বিষয়টি কেবল নতুন একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণকাজের পর আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে, এ সিদ্ধান্ত তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যাত্রীদের ক্ষেত্রে লাগেজ পেতে বিলম্ব, চেক-ইন কার্যক্রমের গতি, সহায়তা প্রদান এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হবে সেবার মান যাচাইয়ের প্রধান সূচক।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় থাকা চার প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক কার্যক্রমের পরিধি, কর্মীসংখ্যা ও পরিচালন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশে ৩১০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার এবং বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে; বছরে প্রায় ৬২ লাখ টন কার্গো ব্যবস্থাপনা করে সুইসপোর্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা ৩৫টি দেশে ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি, পাশাপাশি প্রায় ৩২ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে। তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। তবে চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতার এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ের হতে পারে।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশনের ৬৫টি দেশে ৩৪৭টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি এবং বছরে প্রায় ৫৩ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

তবে বৈশ্বিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মেনজিস এভিয়েশনের সেবার মান নিয়েও অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সে সময় কয়েক হাজার যাত্রীর লাগেজ আটকে পড়া, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থতা এবং অভিযোগের যথাযথ সমাধান না করার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গ্রাহক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম ট্রাস্টপাইলটে মেনজিস এভিয়েশনের রেটিং ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৫। সেখানে যাত্রীদের একাংশ কর্মীদের আচরণ, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে অনলাইন রিভিউ সামগ্রিক সেবার মানের চূড়ান্ত পরিমাপক নয়।

এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমপিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বায়োসিকিউরিটি আইন মেনে চলার নির্দেশনা লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০২৫ সালে মেনজিস এভিয়েশন লিমিটেডকে দেড় লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। অকল্যান্ড বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ছয়টি চালান যথাযথভাবে মোড়কজাত না করা এবং পরিদর্শনকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয়টি আদালতের রায়ে উঠে আসে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বা কর্মীসংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, লাগেজ সরবরাহের সময়, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড, যাত্রীসেবার মান এবং অনিয়ম বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষমতার মতো পরিমাপযোগ্য সূচককে গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকি অতীত অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা অভিজ্ঞতা দেখলে হবে না। অতীতে তাদের সেবার মান কেমন ছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডে কতটা দক্ষতা রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে বড় প্রতিষ্ঠান হলেই যে তারা সব জায়গায় সমান মানের সেবা দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই অপারেটর নির্বাচনের পাশাপাশি সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাব (ডিইউসিসি)। তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশের উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) উদ্যোগে ‘বিটিএফ-ডিইউসিসি ফিদে র‍্যাপিড রেটেড চেস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল-কলেজ, দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে পয়েন্ট ও চূড়ান্ত অবস্থানের ভিত্তিতে সেরা ১০ জন দাবাড়ুকে পুরস্কৃত করা হয়। দুই বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে আট হাজার, ছয় হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকারীরা তিন হাজার টাকা করে পান। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের পদক দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হন সুব্রত বিশ্বাস। প্রথম রানারআপ হন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, যিনি ৬ পয়েন্ট অর্জন করেন। দ্বিতীয় রানারআপ হন অমিত বিক্রম রায়, যিনি ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট অর্জন করেন। এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থানে যথাক্রমে এ এস এম সয়েব রেজা, তানভীর আলম, তাহমিদুল হক, মাইনুল আলম, রাকিবুল হাসান ইমন, মো. রাইসান ইসলাম রাতুল ও আবরার রহমান স্থান লাভ করেন।

স্কুল-কলেজ বিভাগে ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন রায়ান রশিদ মুগ্ধ। প্রথম রানারআপ হন মো. আজমাঈন পারভেজ সায়র, যিনি ৬ পয়েন্ট অর্জন করেন। দ্বিতীয় রানারআপ হন সাফায়াত কিবরিয়া আজান, যিনি ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট অর্জন করেন। এ বিভাগে চতুর্থ থেকে দশম স্থানে যথাক্রমে সিয়াম চৌধুরী, শাদাত কিবরিয়া আয়ান, আজরাফ আনান, আওসাফ চৌধুরী, মুহতাদি তাজওয়ার নাশীদ, রাইয়ান সায়েদী ও মোহাম্মদ মাহীন রহমান স্থান লাভ করেন।

বিকালে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি ও ডিআইজি ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসান পরাগ, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান, ইনার হুইল ক্লাব অব লবেলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাজেদা আক্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাবের সভাপতি ফারিহা সুমনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" নিয়মিত দাবা চর্চা মনোযোগ, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

ইনার হুইল ক্লাব অব লবেলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাজেদা আক্তার বলেন, "মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।" এ পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে জয়শ্রী জামান বলেন, "মানসিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।" সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা গেলে মানুষের বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করা সম্ভব। এ ভাবনা থেকেই দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।" তবে মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানুষের জীবনযাপনে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের চর্চা বাড়ানো জরুরি। দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলাকে অবহেলা না করে এর বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জয়শ্রী জামান বলেন, "জীবনের সিদ্ধান্তগুলো দাবার চালের মতো ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভুল পদক্ষেপের কারণে বড় ক্ষতি না হয়।" আত্মহত্যা ও বিষণ্নতাকে না বলার পাশাপাশি মানসিক শক্তি ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মানসিক কষ্ট একা চেপে না রেখে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "কখনো মনের মধ্যে কোনো কষ্ট চাপা রাখবে না।" কারও সঙ্গে শেয়ার করলে অনেকটা হালকা হওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোমার গোপন কথাটি, সখী, রেখো না মনে’ পঙ্ক্তির কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এএসআই দেলোয়ার সাময়িক বরখাস্ত, মাদকবিরোধী নীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন সুশান্ত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


এএসআই দেলোয়ার সাময়িক বরখাস্ত, মাদকবিরোধী নীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন সুশান্ত সরকার

বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর নির্দেশক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার। তালাশ বিডিকে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের কড়াপুর ইউনিয়নে মিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

পরবর্তী সময়ে এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটক দেলোয়ার হোসেনকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তাঁর কাছে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ দিনের আরআরএল ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তাঁর আটকের বিষয়টি জানার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া বিভাগীয় ব্যবস্থা। অন্যদিকে, অভিযানের সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা, দেলোয়ার হোসেনের পুলিশ পরিচয় দেওয়া, তাঁর কাছে মাদক না পাওয়া এবং তাঁকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য।

তাই সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে মাদকদ্রব্য রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল কিংবা অন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজ সংবাদ: লালমনিরহাটে জুমার নামাজে এসে নিখোঁজ ১৪ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র রনি, সন্ধান চায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

(মো আব্দুল বারেক উপজেলা প্রতিনিধি)

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


নিখোঁজ সংবাদ: লালমনিরহাটে জুমার নামাজে এসে নিখোঁজ ১৪ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র রনি, সন্ধান চায় পরিবার

লালমনিরহাটে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে মোঃ রনি (১৪) নামের এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) লালমনিরহাট মডেল মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনেরা।

নিখোঁজ মোঃ রনি লালমনিরহাট জেলার দারুল হুদা মাদরাসার ছাত্র। তার পিতার নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি হাজিগঞ্জ সংকরটারী এলাকায়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সে লালমনিরহাট মডেল মসজিদে আসে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

নিখোঁজ ছাত্রের পরিচয় - নাম: মোঃ রনি
- বয়স: ১৪ বছর
- পিতার নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম
-- গ্রাম/বাড়ি: হাজিগঞ্জ সংকরটারী, লালমনিরহাট
-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: দারুল হুদা মাদরাসা, লালমনিরহাট
-উচ্চতা: আনুমানিক ৪ ফুট
-নিখোঁজের সময় পরনে ছিল-সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা
-নিখোঁজের তারিখ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার

সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুল আবেদন

১৪ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি মোঃ রনিকে কোথাও দেখতে পেলে অথবা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারলে নিচের মোবাইল নম্বরগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যোগাযোগের নম্বর:
01793670940

একটি শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পোস্টটি নিজ নিজ ফেসবুক আইডি, বিভিন্ন স্থানীয় গ্রুপ ও পরিচিতজনদের মধ্যে শেয়ার করে শিশুটির সন্ধান পেতে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আপনার একটি শেয়ার, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য তথ্যও ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুকে তার পরিবারের কাছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পাবনায় বিশেষ অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ সজিব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পাবনায় বিশেষ অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ২

পাবনা সদর থানা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি ও মাদকদ্রব্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা জেলা পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানাধীন চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরি ডাঙ্গি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, একটি শুটার গান, ২২ বোরের আট রাউন্ড তাজা গুলি এবং অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ তমসের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিনে পাবনা সদর থানাধীন চক ছাতিয়ানী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৩৬ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘ইস্কাফ’ (Eskuf) উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোঃ বাপ্পি (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শরিফুল ইসলাম, পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিকুল ইসলাম এবং ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহার সমন্বিত তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এতে পাবনা সদর থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সিআরটি টিম, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ এবং পুলিশ লাইন্স থেকে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%