০৯:৫১ পি.এম
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য আলোচনা ও সভা-সেমিনারের বাইরে গিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সম্পৃক্ত করে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে উলবাখিয়া (Wolbachia) প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানবিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে নেমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভিক্ষা করে ছেলের চিকিৎসা করালাম, এখন খোঁজও নেয় না: হাফেজ তাশরীফের বাবা
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব। সভা-সেমিনার বা পডকাস্টের বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ডেঙ্গু দমনে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। জনস্বাস্থ্যের এই সংকট দ্রুত মোকাবিলায় বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কার্যকর সমাধানে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা এবং সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। সাশ্রয়ী ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দেশের আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণার জন্য টেমাসিক ফাউন্ডেশন ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অনুদানে একটি পাইলট প্রকল্প শিগগিরই কাজ শুরু করবে। এই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা দেশীয় গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটিকে আরও ফলপ্রসূ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কের
সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ঝিয়ং শি বক্তব্য দেন। এছাড়া সিমবায়োসিয়া এসইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কুয়েক ইয়ং কি তাঁর দলের সদস্যদের নিয়ে সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিসিএসআইআরের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন