০৯:৪৪ পি.এম
রাজধানী ঢাকায় চীনা দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। বুধবার দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি, সাবিকুন্নাহার এমপি এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমদ মাবরুর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং, ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা, পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: সরকার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে দলের সঙ্গে দলের মতবিনিময়ের ভূমিকা’ শীর্ষক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। গত বছর দুই দেশ এই সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৬ সালে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী এবং জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী চীন সফর করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চীনের আমন্ত্রণে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে।
তিনি বলেন, এসব সফর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। তাই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের ঐক্য অটুট বলছেন নেতারা
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা গভীর আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করছে। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের কার্যক্রম আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজ নিজ আদর্শিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। এ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। কারণ আজকের তরুণ নেতৃত্বই আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।
রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা ও সংকটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় বিশ লাখ রোহিঙ্গার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে গড়ে ওঠে না। নিয়মিত যোগাযোগ, আন্তরিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক আস্থার মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয়। এ সম্পর্ক জোরদারে জামায়াত নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান হাসান সরকারের
বক্তব্যের শুরুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে এ আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন