মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৪ পি.এম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে অবৈধভাবে সিসা তৈরির একটি কারখানা, যা ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিচালিত হচ্ছিল, উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় সাত শ্রমিককে আটক করে, তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের কারণে।
এছাড়া, কারখানার মালিক শরাফ উদ্দিন এবং জমির মালিক, আমতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত উপজেলার ১২ নম্বর স্বদেশী ইউনিয়নের স্বদেশী উত্তরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কারখানাটিতে সিসা তৈরির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, র্যাব-১৪, ব্যাটালিয়ন আনসার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বদেশী উত্তরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যাটারি পোড়ানোর মাধ্যমে সিসা তৈরির কার্যক্রম চলছিল। এতে ওই এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখালেখি হলে তা প্রশাসনের নজরে আসে।
পরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় পানি দিয়ে কারখানার চুল্লি নিভিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সাত শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সবুজবাগ এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আ. মান্নান (৪৮), কৃষ্ণপুর এলাকার দুলহাজ দেওয়ানের ছেলে আ. রহিম (২৪), পাকুরতলা এলাকার আ. মতিন মণ্ডলের ছেলে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (২৪), খুবজিপুর এলাকার আসলাম মিয়ার ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২২), কামালিয়াপাড়া এলাকার মো. আ. রশিদ ব্যাপারীর ছেলে মো. আনারুল ইসলাম (৪০), চাকুলী এলাকার মো. ফজলু মণ্ডলের ছেলে মো. মশিউর (২৮) এবং একই এলাকার আনোয়ার মণ্ডলের ছেলে মো. শিপন (২০)।
স্থানীয়রা জানান, পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কার্যক্রমের ফলে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বর্জ্য আশপাশের পরিবেশকে দূষিত করে। তাই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি কারখানা ও জমির মালিককেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. নূর কুতুবে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি ট্রাক, ১০০ বস্তা কয়লা, দুটি ব্লু-আর মেশিন, একটি স্কেল এবং ১৫০টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে পরিচালিত ওই কারখানার সঙ্গে জড়িত মালিক ও জমির মালিকের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে সিসা তৈরির কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজতর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চীন। আসন্ন ১৪০তম চীন আমদানি ও রপ্তানি মেলায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগকে সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস বিশেষ ভিসা সুবিধার ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন ধাপে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কুয়াংতুংয়ের রাজধানী গুয়াংঝুতে ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা চালু করা হয়েছে।
ক্যান্টন ফেয়ারের ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে মেলা কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক ‘আমন্ত্রণপত্র’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য আবেদনকারীদের পূর্ববর্তী ভিসা, ভ্রমণের রেকর্ড এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি লেটার অনলাইন আবেদনের সঙ্গে আপলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাস গ্যারান্টি লেটারকে ঐচ্ছিক নথি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদনপত্র সরাসরি ফেরত দেওয়া হবে। ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিঘ্ন এড়াতে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আমন্ত্রণপত্র পরিবর্তন, মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা জাল নথি জমা দিলে আবেদন স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের হয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ভিসাসংক্রান্ত সেবার জন্য কোনো এজেন্সি বা ব্যক্তিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। ‘নিশ্চিত ভিসা’, ‘ভিসা না হলে টাকা ফেরত’ কিংবা ‘বিশেষ চ্যানেল’-এর মতো প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হতে আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে দূতাবাস।
দূতাবাস আরো জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ ও চীনে প্রবেশের অনুমতি কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে।অতএব, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথিত প্রভাব কিংবা বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চীনা দূতাবাস আইনানুগ ও স্বচ্ছ ভিসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বা স্থানীয় কর্মী ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ মঙ্গলবার বিমান মন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রমুখ।
বিমান মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর তারিখকে সম্ভাব্য বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন তদারকি করেন এবং উপস্থিত জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, প্রথম দিনে চলাচল করবে ২০টি উড়োজাহাজ। তবে পুরোপুরি চালু হতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। বিগত সরকারের আমলে এই টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়নি। টার্মিনালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।
ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সেবার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগ করা হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যক কি পারফরমেন্স ইনডিকেটর (কেপিআই)-এর মাধ্যমে সেবার মান মনিটরিং করা হবে। বর্তমানে প্রথম ব্যাগেজ ১৮ মিনিটে যাত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই সময়কে আরো কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান। তাছাড়া টার্মিনালের এয়ারক্রাফট ল্যান্ডিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে।
টার্মিনালের রেভিনিউ শেয়ারিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্বে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান সরকার আলোচনার মাধ্যমে সেই অনুপাত পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। আর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
পরিদর্শনকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ ঋণ হিসেবে যোগান দিয়েছে জাপানি সংস্থা জাইকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সবুজবাগ ও লালবাগ থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বর্তমান দুই থানার ওসিকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক কার্যালয় আদেশে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
আদেশের আলোকে, গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে সবুজবাগ থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগে কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জামিল হোসেনকে লালবাগ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
একই আদেশে, সবুজবাগ থানার বর্তমান ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে ডিএমপির ক্রাইম বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, লালবাগ থানার ওসি মো. ইয়াছিন আলীকে ডিএমপির প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কশপ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
উত্তরখান থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ছামিউল হককে তেজগাঁও থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ উদ্যোগটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ ধারণাটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।’
আজ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটির এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন হয়নি। ফলে ট্যাব বিতরণ শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখও সরকার নির্ধারণ করেনি।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষায় প্রস্তাবিত এ উদ্যোগটি মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মসূচি’, প্রস্তাবিত ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ’ প্রকল্প এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচিসহ’ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। প্রস্তাবিত পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্যাব ক্রয় ও বিতরণ শুরু হতে পারে।
ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লাইস’ প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষককে ব্লেন্ডেড লার্নিং প্রশিক্ষণ এবং ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত নেক্সটজেন কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসককে দেশে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ১৩১ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকের সংখ্যা ও তাদের প্রয়োজন নিরূপণ, ডিভাইসের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত, ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ও ডিভাইসের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা কর্মসূচির অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ