শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫১ এম
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম তাহসিফ সৌরির অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলটি তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এই ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। নেতৃদ্বয় বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা বহুল আলোচিত একটি ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনা বা অন্য কোনো বিষয়ের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়।
তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তে না গিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুন, অপহরণ, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাহসিফের অস্বাভাবিক মৃত্যু সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, তাহসিফের মৃত্যু দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক কোনো কারণে, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে—তা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে। তদন্তের আগেই কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা প্রকৃত সত্য আড়াল করার কোনো প্রচেষ্টা জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করবে। ঘটনার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে পরিচয় ও অবস্থান বিবেচনা না করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ, তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগের ও পরের ঘটনাপ্রবাহ এবং তাঁর সর্বশেষ যোগাযোগ ও চলাচল যথাযথভাবে অনুসন্ধান, প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে দেশবাসীকে নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কোনো গড়িমসি করা চলবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এড়াতে পারবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ঢাকা জেলা প্রশাসক পেয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে হংকংভিত্তিক বস্ত্র ও পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হান্ডা কোম্পানির বিনিয়োগে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ৩৬ দশমিক ৭১৮০ একর জমির দখল আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম হস্তান্তর করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দা বিসিক শিল্পনগরীর নতুন ব্রিজসংলগ্ন নির্ধারিত স্থানে ঢাকা জেলার ডিসি ফরিদা খানম ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পরিচালক শাহীন আক্তার সুমির কাছে জমির দখল হস্তান্তর করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক মো. রাশেদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, হান্ডা কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
এ লক্ষ্যে ‘হান্ডা (ঢাকা) টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হান্ডা নিট টেক্সটাইল, কাপড় রং করা (ডাইং) এবং তৈরি পোশাক উৎপাদন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কেরানীগঞ্জে শিল্পায়ন সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। জমির দখল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, দেশে শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেরানীগঞ্জে হান্ডা কোম্পানির প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সম্প্রসারিত হবে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বেজার মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় মোট ৩৬ দশমিক ৭১৮০ একর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২১০ কোটি ৬৯ লাখ ২৭ হাজার ৯১৫ টাকা। জমির দখল হস্তান্তর ও ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিককে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে। হান্ডা কোম্পানির প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কেরানীগঞ্জে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের জনসমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গত বুধবার সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপ বলেছেন, ‘জ্ঞানুকে (সিইসি জ্ঞানেশ কুমার) যেতেই হবে ... দেশ সবার ওপরে।’ এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
এক্সে প্রকাশিত ওই পোস্টের সঙ্গে সিজেপির সমর্থনপত্রটি দীপকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে বিরোধীদের লড়াইয়ের পাশে তারা রয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি এবং এসআইআর পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে সমাবেশ আয়োজন করেছে ইন্ডিয়া জোট।
সিজেপি জানিয়েছে, গণতন্ত্রে জনগণ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে, সরকার যদি তার পছন্দমতো ভোটার বাছার চেষ্টা করে, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি এসআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে ধ্বংস করে জ্ঞানেশ কুমার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের জন্য জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা আবশ্যক।
এদিকে, এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেছেন, এ সমাবেশ গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট চুরি বন্ধ এবং সংবিধান রক্ষার জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে যারা অসন্তুষ্ট, তাদের সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি তাঁর আহ্বান হলো– রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হবে।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে। ভারতের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ব্যালট পেপারে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করতে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে তিনি বিজেপিকে এই চ্যালেঞ্জ জানান।
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোট
ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে খাড়গের এই বক্তব্য কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘রেজিম চেঞ্জ চেষ্টায় জড়িতরা চাকরি পাবে না’– ভারতের উত্তরপ্রদেশে সহিংস উপায়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেস। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন চলছে। কেপটাউন টেস্টের খেলা অব্যাহত রয়েছে।
ক্রিকেট
মিরপুর টেস্ট: ৩য় দিন
বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সকাল ৯–৩০ মি., টি স্পোর্টস
হংকং সিক্সেস
বাংলাদেশ–স্কটল্যান্ড
সকাল ৭–৪০ মি., সনি স্পোর্টস ২
বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা
বেলা ১১–২০ মি., সনি স্পোর্টস ২
৪র্থ টি–টোয়েন্টি
নিউজিল্যান্ড–ভারত
বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ১
কেপটাউন টেস্ট: ৪র্থ দিন
দক্ষিণ আফ্রিকা–অস্ট্রেলিয়া
বেলা ২–৩০ মি., ট্যাপম্যাড
হকি
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া
বেলা ৩টা, স্টার স্পোর্টস ২
দক্ষিণ কোরিয়া–চীন
বিকেল ৫–১৫ মি., স্টার স্পোর্টস ২
ভারত–জাপান
সন্ধ্যা ৭–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২
ফুটবল
ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান
লে আভর–পিএসজি
রাত ১২টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২
লা লিগা
ভিয়ারিয়াল–এসপানিওল
রাত ২টা, টি স্পোর্টস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর কারণে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখা গেছে দেশে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে চলতি মাসে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি, যা চলতি বছরের মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেক। বিশেষজ্ঞরা নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও হটস্পট ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি মৌসুমের ১০ মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসেবে গত দুই যুগের মধ্যে ২০২৬ সাল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। তিন বছর আগে ডেঙ্গুর কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
অক্টোবরের প্রথম দিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই প্রবণতা মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৯ দিনে মোট ৪১৫ জন মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই অক্টোবরে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশে এডিস মশার ঘনত্বের ইনডেক্স ২০-এর বেশি, যা ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পট ব্যবস্থাপনা এবং এসব কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মন্তব্য করেন, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট বা ক্লাস্টার রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্বাভাস অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগের তুলনায় ডেঙ্গুর চিকিৎসাসেবার উন্নতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দুই মাস আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া মশা নিধনে নতুন কিছু প্রযুক্তি এসেছে। জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করছে। দেশীয় কয়েকজন প্রযুক্তিবিদও তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ