প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ মঙ্গলবার বিমান মন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রমুখ।
বিমান মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর তারিখকে সম্ভাব্য বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন তদারকি করেন এবং উপস্থিত জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, প্রথম দিনে চলাচল করবে ২০টি উড়োজাহাজ। তবে পুরোপুরি চালু হতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। বিগত সরকারের আমলে এই টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়নি। টার্মিনালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।
ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সেবার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগ করা হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যক কি পারফরমেন্স ইনডিকেটর (কেপিআই)-এর মাধ্যমে সেবার মান মনিটরিং করা হবে। বর্তমানে প্রথম ব্যাগেজ ১৮ মিনিটে যাত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই সময়কে আরো কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান। তাছাড়া টার্মিনালের এয়ারক্রাফট ল্যান্ডিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে।
টার্মিনালের রেভিনিউ শেয়ারিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্বে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান সরকার আলোচনার মাধ্যমে সেই অনুপাত পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। আর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
পরিদর্শনকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ ঋণ হিসেবে যোগান দিয়েছে জাপানি সংস্থা জাইকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন