০৭:৪৪ পি.এম
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার অনুমতি প্রদান করে না; বরং চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত যে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তার প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করা এর মূল উদ্দেশ্য- এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আঙ্কারায় হাঙ্গেরির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বুধবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের কাছে চুক্তি বিষয়ে চূড়ান্ত উপস্থাপনা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি পার্লামেন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফিদান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করবে। তবে অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তুরস্ক সেনা পাঠাবে না।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
সউদী আরবের প্রতিরক্ষায় সহযোগিতার উদ্যোগ : সউদী আরবকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান ফিদান। গত ৫ অক্টোবর সউদী আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত চুক্তির কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে তুরস্কের অংশগ্রহণের পেছনেও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সামরিক সদর দপ্তর, সচিবালয় এবং নতুন সচিব নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় সউদী আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ইয়েমেন সংঘাতের সমাধানে শান্তি ও সংলাপের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কৃষ্ণসাগরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ফিদান সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত যেন কৃষ্ণসাগরে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি না করে। তাঁর মতে, যুদ্ধটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তুরস্ক কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে মন্ট্রো কনভেনশন বাস্তবায়ন এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনের উদ্যোগে দেশটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ফিদান আরো বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বেসামরিক জাহাজে হামলা মানুষের জীবন, সম্পদ, নৌ চলাচল ও পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। একই সঙ্গে শস্য পরিবহন ব্যাহত হলে বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান : গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ফিদান। তিনি জানান, সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি গাজা, পশ্চিম তীর ও আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্কের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা; অন্য দেশে সামরিক আক্রমণ চালানোর সুযোগ তৈরি করা নয়।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন