১০:৪৬ পি.এম
ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে নির্মিত যাত্রী ছাউনির নির্মাণে অনিয়ম ও স্থান নির্বাচনে ত্রুটি নিয়ে সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। কারণ, যাত্রী ছাউনিটি অপরিকল্পিত স্থানে নির্মিত হওয়ায় এটি সাধারণ যাত্রীদের কোন কাজে আসছে না। স্থানীয়দের দাবি, এই ছাউনিটি এখন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেই সড়কটিতে বাস চলাচল করে না, সেখানে তিন চাকার অটোরিকশার দাপট রয়েছে। সেই সড়কের পাশেই যাত্রী ছাউনিটি নির্মিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় তার বাড়ির সামনে ভুল স্থানে যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় সংগঠিত হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এটি পথচারীদের বিশ্রাম বা অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সুবিধার জন্য নয়, বরং চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তার বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান পলাতক থাকায়, এটি পুরোপুরি বৈঠকখানায় রূপ নেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। সরকারি তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার হয়ে সাটুরিয়া পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনস্থ। সেখানে কালামপুর থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত কোন যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না। এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ সাধারনত সুবিধাজনক স্থান থেকেই তিন চাকার যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছান। এরপরও, যাত্রী ছাউনির প্রয়োজন না থাকলেও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোয়ালদী গ্রামের আউলাদ হোসেন ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে কৌশলে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়নি।
পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে প্রায় আট মাস আগে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে এটি নির্মাণ করে সরকারের অর্থের অপচয় করাটাই হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের বাড়ির সামনে পুকুরের পূর্বপাশের কোণায় যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে কোন সাইনবোর্ড নেই এবং এটি দেখে মনে হয় যে এই স্থানটি যাত্রী ছাউনি নয়; বরং এটি পুকুরপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন বা পারিবারিক আড্ডার স্থান বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণত সড়কমুখী করে যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হলেও এটি পুকুরমুখী করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, সড়কের পাশে অবস্থান করলেও এটি যাত্রীদের কাজে আসছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই স্থানে যাত্রী ছাউনির প্রয়োজনই ছিল না। অথচ এর প্রায় ১০০ গজ পূর্বদিকে তিন রাস্তার মোড়ে যাত্রীরা অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা যায়। কিন্তু এই ছাউনিটি বাস্তবে কোনো কাজে আসছে না। তাঁদের মতে, সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি উদাহরণ এটি। অনেকে এটিকে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল ও নিয়ামত আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে।
পলাতক সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি জেনে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন