ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অরুণাচল সীমান্তে উত্তেজনা, চীন-ভারতের মুখোমুখি সংঘাত অব্যাহত


অরুণাচল সীমান্তে উত্তেজনা, চীন-ভারতের মুখোমুখি সংঘাত অব্যাহত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে চীনা সেনাদের সঙ্গে একাধিক স্থানে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি জানান, গত জুলাই মাস থেকে এই পরিস্থিতি চলমান রয়েছে। সীমান্তে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।

ছয় বছর আগে ২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ওই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে দিল্লি ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে গত কয়েক বছরে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শত্রুজিৎ কাপুর উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

গত জুলাই মাসে অরুণাচলের তাকসিং এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্টে উত্তেজনা দেখা দেয়। আইটিবিপি প্রধান জানান, চীন সীমান্তের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাহিনীর সব সীমান্ত ইউনিটে ড্রোন প্লাটুন গঠন করা হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো তৈরির কাজও চলছে।

এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের সংসদ সদস্য জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, অরুণাচলে টহল পয়েন্টে প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কা, চীনের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন এবং বড় বাঁধ নির্মাণের মতো বিষয়গুলোতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

ডোকলাম ও পূর্ব লাদাখের পর অরুণাচল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া তৈরি, এতে কী রয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া তৈরি, এতে কী রয়েছে?

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি মুহূর্তে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাহায্যকারী পথচারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বারবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রেখে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (আরটিএইচডি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো— সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা, যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো গড়ে তোলা।

এই খসড়া আইনে মোট ১৫টি অধ্যায়, ১১১টি ধারা এবং ২টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করেছি, যা শিগগিরই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’

প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজারো প্রাণহানি ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। তবে বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫ হাজার ৪৯০ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমানের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ কম।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় সড়ক দুর্ঘটনাকে ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের একটি হিসাব উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইনের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে অঙ্গীকার করেছিল বাংলাদেশ।

চলতি বছরের ২০-২১ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন এবং অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনা করে খসড়া প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

গত ১৪ অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আবারও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে আইনটি চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যে একটি গতি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল এবং হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার।

নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক প্রযুক্তি

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে সড়ক নেটওয়ার্ক ও মোড়গুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডিজাইন করা, পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ এলাকাগুলো নিয়মিত চিহ্নিত ও সংশোধন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আইনে পথচারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব অবকাঠামো— যেমন পর্যাপ্ত ফুটপাত, র‌্যাম্প বা লিফটসহ ফুটওভার ব্রিজ এবং নিরাপদ রিফিউজ আইল্যান্ড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া নারী, অন্তঃসত্ত্বা, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের গণপরিবহনে গমনাগমন সহজ করার জন্য পরিবহন পরিচালনাকারীদের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য গতি পরিমাপক ক্যামেরা, স্পিড হাম্প, রাম্বল স্ট্রিপ এবং ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ (আইটিএস) বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। সেই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্টার-রেটিং সিস্টেম’, পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা অডিট এবং পরিদর্শনের বিধানও রাখা হয়েছে।

মনোযোগহীন অবস্থায় গাড়ি চালানো, শিশুদের নিরাপত্তা

খসড়া আইন অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল বা একই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা, ধূমপান করা, খাবার খাওয়া কিংবা উচ্চ শব্দে গান শোনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চালকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিভ্রান্ত করে— যাত্রীদের এমন কোনো আচরণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চালক এবং যাত্রী উভয়ের জন্যই সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু অথবা ১৩৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে কম উচ্চতার শিশুদের সামনের সিটে বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত সুরক্ষামূলক ‘রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ ব্যবহার আবশ্যক করা হয়েছে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ ও অনুমোদিত কর্মকর্তারা ব্রেথঅ্যালাইজার টেস্ট কিংবা ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালাতে পারবেন।

হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক

মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহী— উভয়ের জন্যই বিএসটিআই-অনুমোদিত মানসম্মত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছয় বছরের কম বয়সীদের মোটরসাইকেলের যাত্রী হিসেবে যাতায়াত নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যেখানে রাস্তার অবস্থা অনুকূল, সেখানে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন নির্দিষ্ট করা এবং সাইকেল চালকদের জন্য হেলমেটসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরা বাধ্যতামূলক করার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে।

পথচারীদের জন্য বিদ্যমান ফুটপাত ব্যবহার করা এবং জেব্রা ক্রসিং ও রিফিউজ আইল্যান্ডসহ নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

ডিমেরিট পয়েন্ট ও অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে দ্বিগুণ শাস্তি

প্রস্তাবিত ‘ডিমেরিট পয়েন্ট' ব্যবস্থার আওতায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পয়েন্ট কাটা যাবে। নির্দিষ্ট পরিমাণের পয়েন্ট কাটা গেলে বা পয়েন্ট জমা হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ব্যক্তি একই অপরাধ দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে করলে সর্বোচ্চ নির্ধারিত শাস্তি বা জরিমানা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।

প্রস্তাবিত ৭৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পথচারী ফুটপাত ব্যবহারে ব্যর্থ হলে প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

‘গোল্ডেন আওয়ারে’ বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা

খসড়া আইনটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো— দুর্ঘটনার পরপরই সংকটপূর্ণ সময় বা ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ আহতদের জন্য বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, অগ্রিম টাকা বা টিকিট ছাড়া হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা প্রদানের কঠোর ও বাধ্যতামূলক বিধান না থাকা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বড় একটি ঘাটতি।

তাহলে নতুন আইনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য এই সংকটময় মুহূর্তে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা দুর্ঘটনাকবলিতদের জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা

পুলিশি হয়রানি, ফৌজদারি মামলা এবং আদালত চালানের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খসড়ায় স্বেচ্ছাসেবী বা উদ্ধারকারীদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনি জটিলতার ভয় ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন এগিয়ে এসে জীবন বাঁচাতে উৎসাহিত হন, সেজন্যই এই সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ডাটাবেস ও গবেষণা তহবিল

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রকাশ ও সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেস সিস্টেম’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দুর্ঘটনের তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরদার, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তার উদ্যোগগুলোতে অর্থায়নের জন্য একটি আলাদা ‘গবেষণা তহবিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে চালকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা তদন্ত, দুর্ঘটনা পরবর্তী চিকিৎসা খরচ এবং যাত্রী বীমার মতো বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইনের দুটি তফসিলে দুর্ঘটনা পরবর্তী সেবা প্রদান এবং অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করে যানবাহন চালানো সম্পর্কিত বিধিবিধান যুক্ত করা হয়েছে।

কেন এই পৃথক আইন

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’তে আরও সংশোধনী আনলেও রোড ইঞ্জিনিয়ারিং, যানবাহনের মান নির্ধারণ, গতি ব্যবস্থাপনা, পথচারীদের সুরক্ষা, জরুরি চিকিৎসা সেবা, গবেষণা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়।

তাহলে বৈশ্বিক ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন আইনটি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক পুলিশিং ও ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, পরিবার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, পরিবার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রটি গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা হয়। অপ্রতিমের পরিবার এখন দ্রুত ও ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, "আমাদের কাজ শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়েছি। এখন বাকি কাজ আদালত করবে।"

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ার কারণে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার জন্য সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, পরিকল্পনায় সিয়াম জড়িত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে যে, এর ফলে অপ্রতিমের মৃত্যু ঘটে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তার মুঠোফোন নিয়ে।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।

মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, "গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আশা করছি, আদালতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। বয়সের ফাঁক যেন আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে না দেয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালী সাপ্তাহিক বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


কাউখালী সাপ্তাহিক বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলের মহোৎসব চলছে। বাজারের দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের যাতায়াত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

কাউখালী বাজারে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, স্বরূপকাঠি ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মূল রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চিরাপাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে শুরু করে দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল সাজিয়ে রাখার কারণে হেঁটে চলারও উপায় নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে গাড়ি চলাচলের পথে চলতে হচ্ছে। এর ফলে গাড়ি চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, মূল সড়কের ওপর চাকাযুক্ত ভ্যানগাড়িতে দোকান সাজিয়ে বসায় এবং ইজিবাইক/অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে বাজারে আসা মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত দখলের বিষয়ে আলোচনা শেষে রেজুলেশনের মাধ্যমে ফুটপাত সর্বদা হকার ও দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। প্রশাসন কর্তৃক মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কিছুদিন ফুটপাত দখলমুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ বাজার থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত পুনরায় অধিকাংশ ফুটপাত ও রাস্তা দখলদারদের দখলে চলে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন:
"বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা হাটের দিনগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যানগাড়ির দোকান ও ফুটপাত মুক্ত করলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।"

প্রশাসনের বক্তব্যে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান:
"বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন:
"আমি নতুন যোগদান করেছি এবং অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপে কাউখালী বাজার দ্রুতই দখলমুক্ত হবে এবং ক্রেতা-সাধারণের স্বস্তি ফিরে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাকে দেখাশোনার জন্য বিয়ে করেননি, সমু চৌধুরীর জীবনে নানা মোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


মাকে দেখাশোনার জন্য বিয়ে করেননি, সমু চৌধুরীর জীবনে নানা মোড়

তিন দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সমু চৌধুরী দর্শকের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। অভিনয়জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। মায়ের দেখাশোনার কথা চিন্তা করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এই অভিনেতার জীবন এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন সমু চৌধুরী। ছাত্রজীবনে যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশগ্রহণ করেন। পরে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১৯৯০ সালের ২২ মার্চ আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি ৭০০ টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘বিবর্ণ প্রজাপতি’, ‘কালো জোছনা’, ‘রঙের মানুষ’, ‘নিশিকুটুম্ব’ ও ‘উঠোন’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘গলুই’ ও ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ ও ‘নয়া নোট’-এর মতো কাজেও তাকে দেখা গেছে।

তবে অভিনয়জীবনে সব সময় সমানভাবে সক্রিয় থাকতে পারেননি সমু চৌধুরী। এক সময় প্রায় তিন বছর তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। ঢাকার কর্মব্যস্ততা ছেড়ে যশোরের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবারও অভিনয়ে ফিরেন।

সমু চৌধুরীর ব্যক্তিজীবনে একটি বড় ট্র্যাজেডি ঘটে ১৯৯৩ সালের ২৬ জুলাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায়। ওই দুর্ঘটনায় তিনি বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী ও ছোট বোন রোজিনা চৌধুরী রুবিকে হারান। যশোরের নাভারন থেকে ফেরার পথে ঝিকরগাছা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে ২০১৮ সালে ছোট ভাই সনু চৌধুরীকেও তিনি হারান।

প্রিয়জনদের হারানোর বেদনার পাশাপাশি, পরিবারের দায়িত্বও তার কাঁধে এসে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে সমু চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মায়ের দেখাশোনার কথা বিবেচনা করেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত এই অভিনেতার জীবনে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালের জুনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুখী শাহ মিসকিন মাজারে গামছা পরা অবস্থায় সমু চৌধুরীর একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে অভিনেতা জানান, ওরস উপলক্ষে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কাপড় শুকানোর সময় গামছা পরে গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল।

এই ঘটনায় তার স্বজন ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তিনি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান।

এরপর ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী। ঘটনাটি তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করে।

এক সময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন এই শিল্পী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও, ব্যক্তিজীবনে তাকে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার জীবনযাপনের বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কটূক্তি করছেন, আবার কেউ তার পরিস্থিতি দেখে প্রকাশ করছেন আক্ষেপ।

তবে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার প্রতি মানবিকতা ও সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ সব মিলিয়ে সমু চৌধুরীর জীবন যেন সাফল্য ও সংগ্রামের এক ভিন্ন গল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%