প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলের মহোৎসব চলছে। বাজারের দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের যাতায়াত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
কাউখালী বাজারে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, স্বরূপকাঠি ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মূল রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চিরাপাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে শুরু করে দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল সাজিয়ে রাখার কারণে হেঁটে চলারও উপায় নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে গাড়ি চলাচলের পথে চলতে হচ্ছে। এর ফলে গাড়ি চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, মূল সড়কের ওপর চাকাযুক্ত ভ্যানগাড়িতে দোকান সাজিয়ে বসায় এবং ইজিবাইক/অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে বাজারে আসা মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত দখলের বিষয়ে আলোচনা শেষে রেজুলেশনের মাধ্যমে ফুটপাত সর্বদা হকার ও দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। প্রশাসন কর্তৃক মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কিছুদিন ফুটপাত দখলমুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ বাজার থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত পুনরায় অধিকাংশ ফুটপাত ও রাস্তা দখলদারদের দখলে চলে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন:
"বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা হাটের দিনগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যানগাড়ির দোকান ও ফুটপাত মুক্ত করলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।"
প্রশাসনের বক্তব্যে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান:
"বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন:
"আমি নতুন যোগদান করেছি এবং অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপে কাউখালী বাজার দ্রুতই দখলমুক্ত হবে এবং ক্রেতা-সাধারণের স্বস্তি ফিরে আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন