শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
কিছু সিনেমা শুধুমাত্র বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করে না, বরং দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নেয়। সেই সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তা ফিরিয়ে দেওয়ার পর আফসোস হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বলিউডের অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়ার ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শাহরুখ খান অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’তে কাজের সুযোগ পেয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই ছবির পাশাপাশি, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার আফসোসও রয়েছে তার।
সম্প্রতি নেহা তার চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্পোর্টস ড্রামা ও সেনাবাহিনীর প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পছন্দের এই দুই ধরনের কাজের সুযোগ পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পর্দায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
২০০৭ সালে মুক্তি পায় পরিচালক শিমিত আমিনের ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’। সিনেমাটিতে ভারতীয় নারী হকি দলের কোচ কবীর খানের চরিত্রে অভিনয় করে শাহরুখ খান ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। খেলাধুলার আবহে নির্মিত এই সিনেমাটি আজও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। সেই ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েও তা ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে নেহা এখন আফসোস করেন।
তবে নেহার হাতছাড়া হওয়া সুযোগের তালিকায় শুধুমাত্র শাহরুখের সিনেমা নেই। নেটফ্লিক্সের ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ অভিনয়ের সুযোগও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে নেহা বলেন, ‘আমি বরাবরই একটা ভালো স্পোর্টস ফিল্ম এবং একটা ভালো ফৌজি ফিল্ম করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই দুটো বড় সুযোগই হাতছাড়া করেছি।’
অভিনয়জীবনে কোন কাজ বেছে নেওয়া হবে এবং কোনটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এটি সহজ সিদ্ধান্ত নয়। চিত্রনাট্য, চরিত্র, কাজের সময়সূচি কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের মতো অনেক বিষয় শিল্পীদের বিবেচনায় নিতে হয়। তবে সময়ের সঙ্গে কিছু সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবনায় আসে। নেহা ধুপিয়ার ক্ষেত্রেও পছন্দের দুই ধরনের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হারানোর স্মৃতি এখন আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা টোকেন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বেলা ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে টোকেন সংগ্রহের জন্য শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গরু ও খাসি জবাইয়ের মাধ্যমে মাংস রান্নার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন আয়োজকেরা। নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের ৭০ টাকা ফি পরিশোধের প্রমাণ যাচাই করে টোকেন বিতরণ করা হচ্ছে। আয়োজকেরা জানান, টোকেন প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। খাবারের মেন্যুতে গরুর মাংস ও খিচুড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আয়োজকদের একজন মন্তব্য করেন, ‘সকাল থেকেই সুশৃঙ্খলভাবে গরু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার প্রস্তুতিসহ সব কাজ সম্পন্ন করেছি। যাঁরা আগে নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের নিবন্ধনের প্রমাণ যাচাই করে টোকেন দেওয়া হচ্ছে। গরুতে প্রায় তিন মণের মতো মাংস রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসিও রান্না করা হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির জন্য শিক্ষার্থীরা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু ক্রয় করেন। পাশাপাশি, সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা দিতে একটি খাসিও কেনা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচির সূচনা ঘটে। এর প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে তাঁরা শুক্রবার ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেচযন্ত্রগুলোর জন্য গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পানি দেওয়ার জন্য। রোপা আমন ধানের পেটে শীষ দেখা দিয়েছে, এবং কোথাও কোথাও ধান চালে চেপে গেছে। এ অবস্থায় সেচকাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম বিফলে যাবে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ভারী বৃষ্টির অভাবে ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। এর ফলে বৃদ্ধ, শিশু এবং সকল মানুষের মধ্যে ঠান্ডাজনিত অসুখ দেখা দিচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে অব্যাহতভাবে লোডশেডিংয়ের কারণে মসজিদে এবং ঘরে-বাইরে শান্তি নেই। ফ্যান, মোটর, এসি এবং পানির পাম্পগুলো কাজ করছে না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে। বৃদ্ধ, ছাত্র ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, হাম এবং চর্মরোগসহ নানা রোগে ভুগছে। ১৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা শঙ্কিত।
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক আবদুল্লাহ আল মামুন আবুল জানান, এবারের ১০ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর পর থেকে লোডশেডিং, সার, কীটনাশক, বীজ এবং কৃষি শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তিনি বেসামাল হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুদিন পর পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন ইনশাল্লাহ।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষক আবদুল মাতিন বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, এবং সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবারের বোরো চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তবুও এ অঞ্চলের কৃষকেরা বোরো চাষ করছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ইরি-বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর। সবুজ ও সোনালী ধানের শীষগুলো সকালে-বিকালে হালকা হাওয়ায় দুলছে, সেই সাথে কৃষকের স্বপ্নও দুলছে।
শিবসাগর এলাকার অধিবাসী আবদুল হক (৬৫) জানান, মসজিদে মাগরিব ও আসরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। মুসল্লিগণ ঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫১ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন মামলায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় মাদকসেবী এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের মধ্যে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২৫ জন মাদকসেবী, একজন মাদক মামলার আসামী, দুজন পরোয়ানাভুক্ত আসামী এবং একজন চুরি মামলার আসামী রয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক মন্তব্য করেন, ‘গ্রেপ্তার ২৯ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দুলাল কান্তি ভৌমিক আজ শুক্রবার সকালে নিজ বাসায় ফিরে এসেছেন। এর আগে, তার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তিনি অপহৃত হয়েছেন।
দুলাল কান্তি ভৌমিকের স্ত্রী কল্পনা হালদার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন। তার মতে, প্রথমে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয়েছিল এবং পরে জ্ঞান ফিরলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, অপহরণের সময় শিক্ষকের কাছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা ছিল, কিন্তু অপহরণকারীরা তা নেয়নি। অপহরণকারীরা তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল এবং তার ফোন নম্বরও চেয়েছিল। এই অপহরণের ঘটনায় চালকসহ পাঁচজন সুবেশী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।
বর্তমানে অধ্যাপক দুলাল কান্তি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকায় তিনি ঘটনার অনেক কিছু ভুলে গেছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার বাসা থেকে ওষুধ কেনার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হন দুলাল কান্তি। রাত ১০টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায়, তার স্ত্রী কল্পনা হালদার মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে অধ্যাপক দুলালের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সে সময় তিনি সৈয়দপুর থেকে বাসে করে একা বাসায় ফিরছেন বলে জানিয়েছিলেন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘তিনি বৃহস্পতিবার বলেছিলেন ফিরে এসে সব জানাবেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে কথা বলে তিনি নিরাপদে আছেন তা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’
এদিকে, শুক্রবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অধ্যাপক দুলালের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ