প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেচযন্ত্রগুলোর জন্য গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পানি দেওয়ার জন্য। রোপা আমন ধানের পেটে শীষ দেখা দিয়েছে, এবং কোথাও কোথাও ধান চালে চেপে গেছে। এ অবস্থায় সেচকাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম বিফলে যাবে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ভারী বৃষ্টির অভাবে ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। এর ফলে বৃদ্ধ, শিশু এবং সকল মানুষের মধ্যে ঠান্ডাজনিত অসুখ দেখা দিচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে অব্যাহতভাবে লোডশেডিংয়ের কারণে মসজিদে এবং ঘরে-বাইরে শান্তি নেই। ফ্যান, মোটর, এসি এবং পানির পাম্পগুলো কাজ করছে না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে। বৃদ্ধ, ছাত্র ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, হাম এবং চর্মরোগসহ নানা রোগে ভুগছে। ১৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা শঙ্কিত।
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক আবদুল্লাহ আল মামুন আবুল জানান, এবারের ১০ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর পর থেকে লোডশেডিং, সার, কীটনাশক, বীজ এবং কৃষি শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তিনি বেসামাল হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুদিন পর পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন ইনশাল্লাহ।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষক আবদুল মাতিন বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, এবং সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবারের বোরো চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তবুও এ অঞ্চলের কৃষকেরা বোরো চাষ করছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ইরি-বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর। সবুজ ও সোনালী ধানের শীষগুলো সকালে-বিকালে হালকা হাওয়ায় দুলছে, সেই সাথে কৃষকের স্বপ্নও দুলছে।
শিবসাগর এলাকার অধিবাসী আবদুল হক (৬৫) জানান, মসজিদে মাগরিব ও আসরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। মুসল্লিগণ ঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন