বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১০ পি.এম
নেপাল সীমান্তে নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ভূমিধসের ক্ষত শুকানোর আগেই। চীনের গিরং কাউন্টিতে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে ভূমিধসের কারণে। ধসে পড়া মাটি দিয়ে তৈরি অস্থিতিশীল বাঁধে আটকে থাকা পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, গিরং কাউন্টিতে এখনো ভূমিধস, কাদাধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বিদ্যমান। আগামী তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিসিটিভিতে সম্প্রচারিত সর্বশেষ ড্রোনের ফুটেজে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী একটি ভূমিধসে তৈরি ক্ষতচিহ্নের মধ্যে পানি জমে নতুন একটি হ্রদ গড়ে উঠেছে। হ্রদটি গিরং বন্দরের নিকটে অবস্থিত, তবে এটি নেপালের অংশে বলে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্য অনুসারে, নতুন তৈরি হওয়া হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। পানি ইতোমধ্যে উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবাহিত হতে পারে। এতে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।
নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় চীনা সামরিক বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডের কয়েকটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সিসিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় কমান্ডের সদস্য চেন শি জানান, ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে কয়েকটি ইউনিট একটি কমান্ড সেন্টারে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
চেন শি বলেন, আশপাশের পাহাড়ের ঢাল যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। কারণ সড়কটি খাড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নতুন করে কাদাধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের নজর এখন মূলত ভূমিধসে তৈরি হওয়া নতুন হ্রদটির দিকে। সেখানে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা, সিনেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সম্প্রতি বড় ধরনের সাইবার অভিযান চালিয়েছেন চীনা হ্যাকাররা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় অবশ্য চীনা হ্যাকারদের এই অভিযান অনেকাংশে করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ওই সাইবার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।
মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানিও ছিল।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।’
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয় ব্যবহার করে ‘চীনকে কলঙ্কিত বা অসম্মান করার চেষ্টা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার পরিচালনা করত চীনে অবস্থিত নানজিং শিনজিউয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
আদালতে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীনা হ্যাকাররা। তবে, তাদের সব চেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একটি দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এফবিআই, এনএসএ এবং মার্কিন সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্রে বছরের পর বছর ধরে চালানো একাধিক হ্যাকিং প্রচেষ্টার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে অজ্ঞাত কয়েকটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও ছিল।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট এবং একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগও প্রশ্নগুলো বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। তবে, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বিচার বিভাগ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে এফবিআই কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, হ্যাকাররা এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংস্থার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই অনুপ্রবেশের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।
চীনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি কমিটির নেটওয়ার্ক এবং একাধিক বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপের দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯তলার করিডোরে প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি সাপ দেখা যায়। এই তলাতেই শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের কার্যালয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বলেন, ‘করিডোরে সাপের বিষয়টি শুনেছি। সত্য ঘটনা।’
মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তারা জানান, সকালে অফিসে প্রবেশের পর করিডোরে প্রথমে দুটি সাপ দেখতে পান তারা। কিছুক্ষণ পর সেখানে আরও একটি সাপ দেখা যায়। সাপগুলো করিডোরে ছোটাছুটি করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা তিনটি সাপই মেরে ফেলেন। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সচিবালয়ের ১৯ তলার মতো উঁচু ভবনের করিডোরে সাপের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের ভেতরের কোনো স্টোরেজ বা অন্য কোনো স্থানে আরও সাপ থাকতে পারে। এ কারণে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল একটি ‘ভাইব’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি এ সময় বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার করতে চায়। তবে আমরা জুলাই সনদের ধারেকাছেও যেতে পারিনি। বিরোধী দল তাদের প্রতিনিধি দিবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
তিনি আরও জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় থাকার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনাও প্রদান করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট তাকে সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ আগস্ট ধার্য করেন।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন বা সালমান শাহ মারা যান। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। আদালত অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সেসময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ