বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৩ এম
রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রী ওঠানামার জন্য সড়কে যেখানে-সেখানে বাস থামানোর ঘটনা ঘটে। এক বাসকে আটকাতে অন্য বাসের চালকের রাস্তা অবরোধ এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অংশ। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সরকার বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর ৯৮টি বাস রুটকে কমিয়ে ৩২টি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি থাকবে, যা সব বাস পরিচালনা করবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। তবে পুরো ব্যবস্থাটি গতিশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আসতে পারে।
ডিটিসিএর দাবি, পূর্বে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ সফল হয়নি। তবে এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি রুট আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অন্য রুট হিসেবে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়ে আলোচনা চলছে।
উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক সমিতিও কাজ শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনার পর পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে কাজ চলছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মালিকরা।
ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মন্তব্য করেছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ব্যবসায়িক মডেল, মালিকদের লোকসান এড়ানোর নিশ্চয়তা এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া উদ্যোগটি সফল করা কঠিন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক জানিয়েছেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, মালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেটের গতির হ্রাসের জন্য মার্কিন সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছেন স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক। নতুন গতিসীমা আরোপের ফলে ইউক্রেনের বেশ কিছু দ্রুতগামী অস্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক অভিযানকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্পেসএক্স-এর পক্ষ থেকে স্টারলিংকের গতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল (১৬০ কিমি/ঘণ্টা)-এ সীমাবদ্ধ করা হয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে, এই গতির চেয়ে দ্রুতগামী অস্ত্র ও ড্রোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষা এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন পরিচালনার জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলন মাস্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘স্টারশিল্ড’ সেবাটির মূল নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে রয়েছে। তাই এর গতির বা ব্যবহারের যেকোনো বিধিনিষেধ মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশে নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখে দ্রুত সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন—কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের অব্যাহত হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তির পর জেলেনস্কি নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ বলে মন্তব্য করেন। চলমান এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। সেখানে যুক্তরাজ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ড্রোন ধ্বংসে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের অরোরা এলাকায় হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সি আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাপোরাকিস পালাটাইন এলাকার একজন বাসিন্দা এবং একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সম্ভাব্য বন্দুক হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের সময় পাপোরাকিসের কাছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের একটি নথি পাওয়া যায়, যেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ ছিল।
তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তাদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, পাপোরাকিস ১১ অক্টোবর অরোরা এলাকার একটি হিন্দু উপাসনালয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, একাধিক ম্যাগাজিন, বিপুলসংখ্যক গুলি, বডি আর্মার ও কৌশলগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের সহকর্মীদের কাছেও হামলার পরিকল্পনার তথ্য ছিল। গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০ অক্টোবর তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
হিন্দুদের নবরাত্রি উৎসবের শুরুতে এ ঘটনা ঘটেছে। এর দুই সপ্তাহ আগে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৭৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, মাদকদ্রব্য এবং চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মোট ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়।
ডিএমপি জানায়, অভিযানের মধ্যে সর্বাধিক ২৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে মিরপুর বিভাগে। তেজগাঁও বিভাগে ১৯৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৯ জন, গুলশান বিভাগে ৪২ জন, লালবাগ বিভাগে ৪০ জন, উত্তরা বিভাগে ৪০ জন, রমনা বিভাগে ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় আটকদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ২২ কেজি ৮৯৬ গ্রাম গাঁজা, ১৭০ পিস ইয়াবা, ৬ হাজার ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল এবং ১৪৯ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, ৭৯০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট, ১টি মোটরসাইকেল, ৯টি মোবাইল ফোন, ১.৫ আনা ওজনের ১টি স্বর্ণের কানের দুল, ৩৭ হাজার ৫৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে অপহৃত বা ভিকটিম ১ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার একটি ঘটনায় প্রেমের ফাঁদে (হানি ট্র্যাপ) ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপহরণের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা শহরের পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন, তার স্বামী জামাল হোসেন (৪৩) এবং মহাদেবপুর এলাকার উকিল সর্দার (৪৩)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলি খাতুনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলে ভুক্তভোগীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা পলির সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাতে তুলে অপহরণ করেন। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তার পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী তার ছেলের মোবাইল ফোনে কল করে জানান, তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে এনে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বাবার অপহরণের খবর পেয়ে ছেলে (২৬) বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাবনা থানাধীন শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলি খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালানোয় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ