ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ওমরার নিয়ত করে ইহরাম পরা অবস্থায় ইন্তেকাল, মক্কায় যেতে পারলেন না তুর্কি ইমাম


ওমরার নিয়ত করে ইহরাম পরা অবস্থায় ইন্তেকাল, মক্কায় যেতে পারলেন না তুর্কি ইমাম

পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কার দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন ৬৮ বছর বয়সী তুর্কি অবসরপ্রাপ্ত ইমাম আবদুল্লাহ ওজকান। কিন্তু সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার পূর্বেই কনিয়া বিমানবন্দরে নামাজরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটে যখন তিনি সঙ্গী ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী দোয়া পরিচালনা করছিলেন ইহরাম পরা অবস্থায়।

তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে কনিয়ার বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহ ওজকান ছিলেন কনিয়া প্রদেশের বেইশেহির জেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত ইমাম এবং তিনি একটি হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৮০ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন আবদুল্লাহ ওজকান। রাত ২টার দিকে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁরা। এ সময় তিনি যাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সৌদি আরবে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা

নামাজ শেষে কালিমায়ে শাহাদাত, তালবিয়া এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সময় হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দরুদ পাঠের শেষ পর্যায়ে তিনি সামনের দিকে ঢলে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় আশপাশে থাকা ওমরাহযাত্রীরা দ্রুত তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। বিমানবন্দরের চিকিৎসাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও হৃদ্‌যন্ত্র সচল করার চেষ্টা (সিপিআর) চালান। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সেলচুক বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আবদুল্লাহ ওজকানের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করেছেন ইসমাইল গুমুশ। ঘটনার সময় তিনিও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে ওজকানের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গুমুশ বলেন, নামাজ শেষ করার পর মহানবী সা.-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে এবং এরপর তিনি সামনের দিকে পড়ে যান।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

বেইশেহিরের মুফতি এনেস আকতাশ আবদুল্লাহ ওজকানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।

শুক্রবার বেইশেহির জেলার চারশি মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বেইশেহির কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরে যাত্রা শুরু করলেও আবদুল্লাহ ওজকান মক্কায় পৌঁছাতে পারেননি। বিদায়ী দোয়া পরিচালনার সময়েই থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা।

আরও পড়ুন: যে দোয়া পাঠে জান্নাত অবধারিত হয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালে ২ ঈদে কতদিন ছুটি, জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


২০২৭ সালে ২ ঈদে কতদিন ছুটি, জানা গেল

২০২৭ সালে দুই ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ছুটির সুবিধা পাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরে মোট পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। অন্যদিকে, ঈদুল আজহায় ছুটির সংখ্যা হবে ছয় দিন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পূর্বে দুই দিন এবং পরে দুই দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ফলে ঈদুল ফিতরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।

ঈদুল আজহার দিনও সাধারণ ছুটি থাকবে। এর আগে দুই দিন এবং পরে তিন দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ফলে ঈদুল আজহায় মোট ছয় দিন ছুটি পাওয়া যাবে।

দুই ঈদ মিলিয়ে আগামী বছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোট ১১ দিন ছুটি উপভোগ করবেন।

২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১০ মার্চ, বুধবার হতে পারে। ঈদুল আজহা হতে পারে ১৭ মে, সোমবার। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

২০২৭ সালে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন।

এসব ছুটির মধ্যে সাত দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে। শারদীয় দুর্গাপূজায় ছুটি থাকবে দুই দিন। এর মধ্যে বিজয়া দশমীর দিন সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মনপুরায় স্ত্রীকে দিয়ে স্বামীর যৌন ব্যবসা, দম্পতি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


মনপুরায় স্ত্রীকে দিয়ে স্বামীর যৌন ব্যবসা, দম্পতি আটক

ভোলার মনপুরায় যৌন ব্যবসা করার সময় স্থানীয়দের দ্বারা স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই খদ্দের পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯ টায় হাজিরহাট ইউনিয়নের পুরান হাসপাতাল এলাকার স্লুইসগেট সংলগ্ন ঝোঁপ থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে ২৬ টি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১১টায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ। আটক স্বামী মিজান উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্ত্রী রাণি বেগম (ছদ্মনাম) দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এলাকায় মিজানকে জাটকি মিজান নামে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে হোন্ডা চালক মাজেদের সহায়তায় হাজিরহাট ইউনিয়নের পুরাতন হাসপাতাল এলাকার স্লুইসগেট সংলগ্ন বেড়ীবাঁধার ওপর স্ত্রীকে নিয়ে আসে স্বামী মিজান। হোন্ডা চালক মাজেদের মধ্যস্থতায় দুই খদ্দেরের সাথে যৌনকর্মের জন্য ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে মিজান। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলে তারা স্লুইজগেট সংলগ্ন ঝোঁপে লুকিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে। তবে হোন্ডা চালক মাজেদ ও দুই খদ্দের পালিয়ে যায়। পুলিশ আটক স্ত্রী রাণি বেগম (ছদ্মনাম) কাছ থেকে ২৬ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।

আটককৃত স্বামী মিজান ও স্ত্রী জানান, পেটের দায়ে তারা যৌন ব্যবসা করছে। তবে তারা দাবি করেন যে নিষিদ্ধ ইয়াবা তাদের নয় এবং হোন্ডা চালক মাজেদ তাদের কাছে রেখে পালিয়ে যায়।

মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম জানান, আটকের পর দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী অন্দরমহল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী অন্দরমহল

ফ্লোরিডার অভিজাত অঞ্চলে সমুদ্রের তীরে একটি বিশাল প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। সোনায় মোড়ানো দেয়াল, শতাব্দীপ্রাচীন টাইলস, নান্দনিক কারুকাজ এবং বিলাসবহুল আয়োজন—সব মিলিয়ে এটি যেন একটি রূপকথার রাজপ্রাসাদ। ধনকুবের ও অভিজাতদের অবকাশযাপনের জন্য পরিচিত এই স্থানটির নাম মার-আ-লাগো। এটি কেবল বিলাসিতার কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘকালীন আবাসস্থলও। প্রাসাদটির চারপাশে রয়েছে শত বছরের ইতিহাস, বিপুল অর্থের লেনদেন এবং এক বিশেষ অভিজাত জীবনযাত্রার গল্প।

রাজকীয় প্রাসাদের পেছনের ইতিহাস

ফ্লোরিডার অন্যতম ধনী এলাকা সমুদ্রসৈকতের পাশে অবস্থিত মার-আ-লাগো। ধনীদের অবকাশযাপনের জন্য পরিচিত এই স্থানটি একসময় বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ধনকুবের মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল। তিনি খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সি ডব্লিউ পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা সি ডব্লিউ পোস্টের কন্যা ছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সংবাদ সম্মেলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগে এই প্রাসাদের মালিক ছিলেন পোস্ট। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে মার-আ-লাগোকে নিজের সম্পদ ও অর্জনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি প্রাসাদটিকে তার 'সমতার প্রতি অঙ্গীকারের' উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।

জলাভূমি থেকে বিলাসবহুল প্রাসাদ

১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্ট একটি উপযুক্ত বাড়ির সন্ধানে নামেন। মার-আ-লাগো ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পাম বিচে নিজের জন্য আদর্শ একটি সম্পত্তি খুঁজে পেতে তাকে বেশ কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পাম বিচের সমাজজীবনে তিনি যখন অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠছিলেন, তখনই নতুন একটি বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। সে সময় এলাকাটির বড় অংশজুড়ে ছিল ঝোপঝাড়, জলাভূমি ও জঙ্গলসদৃশ পরিবেশ। বাড়ি তৈরির উপযোগী জমি খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না।

নিজের রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে পোস্ট নিজেই ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে উপযুক্ত জমির সন্ধান করতেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর যে জায়গাটি তার পছন্দ হয়, সেখানেই গড়ে ওঠে আজকের বিখ্যাত মার-আ-লাগো প্রাসাদ।

স্প্যানিশ ভাষায় 'মার-আ-লাগো' শব্দের অর্থ 'সমুদ্র থেকে হ্রদ'। নামের সঙ্গে মিল রেখেই সমুদ্র ও হ্রদের মাঝামাঝি অবস্থানে তৈরি করা হয় এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।

১৯২৭ সালে প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে নিজের পছন্দমতো প্রাসাদটি নির্মাণ করেন পোস্ট। সে সময়ের হিসাবে এটি ছিল বিপুল অর্থের বিনিয়োগ। টাইম সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রায় ১৭ একর জমির ওপর নির্মিত প্রাসাদটিতে ছিল ১১৫টি কক্ষ।

ঐতিহাসিক স্থাপনার মর্যাদা

মার-আ-লাগোর গুরুত্ব কেবল এর আকার কিংবা বিলাসিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেও রয়েছে এর বিশেষ স্থান।

১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাসাদটিকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৭৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস এটিকে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেসে অন্তর্ভুক্ত করে।

একই বছর ৮৬ বছর বয়সে মারা যান মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্ট। মৃত্যুর আগে তিনি প্রাসাদটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নামে উইল করে যান। তার ইচ্ছা ছিল, এটি যেন শীতকালীন হোয়াইট হাউস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও বিদেশি অতিথিদের অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবেও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

তবে পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮০ সালে টাইম সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাসাদটির বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিপুল এই খরচের কথা বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তারা সম্পত্তিটি পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ হারান।

সোনায় মোড়ানো অন্দরসজ্জা, চোখধাঁধানো কারুকাজ

মার-আ-লাগোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি এর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। প্রতিটি কক্ষেই রয়েছে আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের ছাপ।

পাম বিচ পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাসাদের বসার ঘরে রয়েছে সোনার পাতের কারুকাজ। খাবার ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে হাতে আঁকা ফ্রেস্কো বা দেয়ালচিত্র। আর প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে ১৫ শতকের প্রাচীন টাইলস দিয়ে।

ট্রাম্পের বিলাসবহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার প্রতি আগ্রহের কথা অনেকেরই জানা। তাই প্রাসাদের এই অন্দরসজ্জা তার রুচির সঙ্গে বেশ মানানসই মনে হতে পারে। তবে মজার বিষয় হলো, এসব নকশা ও সাজসজ্জার অধিকাংশই ট্রাম্পের তৈরি নয়; এগুলো আগের মালিক মার্জরি মেরিওয়েদার পোস্টের সময়েই স্থাপন করা হয়েছিল।

১৯৮৫ সালের শেষ দিকে প্রাসাদটি কেনেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্পত্তিটি কিনতে তিনি ১ কোটি থেকে দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছিলেন।

মার-আ-লাগো ক্লাবের ওয়েবসাইটে সম্পত্তিটিকে ফ্লোরিডার সবচেয়ে মূল্যবান জমির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের মালিকানায় আসার পর প্রাসাদটিতে আরও ১১টি কক্ষ যুক্ত করা হয়। ফলে কক্ষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৬-এ।

১২৬ কক্ষের প্রাসাদ থেকে অভিজাত ক্লাব

এত বিশাল প্রাসাদ ব্যক্তিগত বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করাকে একসময় বেশ বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন ট্রাম্প। ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার একটি ছবির পাশে স্বাক্ষরসহ একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে তিনি প্রাসাদটিকে ক্লাবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, ১২৬টি কক্ষ নিয়ে বাড়িটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বড় মনে হচ্ছিল।

তবে ক্লাব চালু করলেও প্রাসাদের সব অংশ সাধারণ সদস্যদের জন্য ছেড়ে দেননি ট্রাম্প। নিজের ব্যবহারের জন্য কিছু ব্যক্তিগত কক্ষ রেখে দেন। একই সঙ্গে ক্লাবের সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেন।

এভাবেই ব্যক্তিগত প্রাসাদটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভিজাত ক্লাবে।

সবার জন্য উন্মুক্ত, তবে প্রবেশের মূল্য লাখ ডলার!

পাম বিচের সমুদ্রতীরবর্তী একটি সদস্যনির্ভর অভিজাত ক্লাব যে সবার জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য হবে, তা ভাবা কঠিন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল ভিন্ন।

'গুড মর্নিং আমেরিকা' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার-আ-লাগো ক্লাবকে সমতার প্রতি নিজের অবদানের অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ক্লাবটি 'সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত'।

তবে বাস্তবতা হলো, সেখানে প্রবেশের জন্য গুনতে হয় বিপুল অর্থ।

ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্ন্ড লেম্বকে এবিসি নিউজকে জানান, সে সময় ক্লাবের সদস্য হতে এক লাখ ডলার ফেরত-অযোগ্য ভর্তি ফি দিতে হতো। এর বাইরে প্রতিবছর সদস্যদের ১৪ হাজার ডলার বার্ষিক চাঁদা দিতে হতো। পাশাপাশি খাবারের জন্য বছরে অতিরিক্ত দুই হাজার ডলার খরচ করাও বাধ্যতামূলক ছিল।

অর্থাৎ শুধু সদস্যপদ ধরে রাখতেই বছরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতো।

তবে অর্থ থাকলেই যে কেউ সরাসরি সদস্য হতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়। আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রথমে ক্লাবের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এরপর আবেদন অনুমোদিত হলে তাতে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় বলে জানান লেম্বকে।

মাত্র ৫০০ সদস্যের অভিজাত জগৎ

মার-আ-লাগো ক্লাবে ঠিক কতজন সদস্য রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে চাননি ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার ব্যাখ্যা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং পুরোনো সদস্যদের পদত্যাগের কারণে সংখ্যাটি নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে বয়সজনিত সমস্যা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকে সদস্যপদ ছেড়ে দেন।

তবে তিনি জানান, ক্লাবটি সর্বোচ্চ ৫০০ সদস্যের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

ক্লাবের সদস্যদের সামাজিক ও জাতিগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। জবাবে লেম্বকে জানান, সদস্য হওয়ার আবেদনপত্রে কারও জাতিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয় না।

সব মিলিয়ে মার-আ-লাগো কেবল একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ নয়। এর প্রতিটি দেয়াল, কক্ষ ও স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস। একসময় যে প্রাসাদ তৈরি হয়েছিল এক ধনকুবের সমাজসেবীর ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে, সময়ের পরিক্রমায় সেটিই হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবন, সামাজিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ সাহানে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

মাহফিলের সময় পবিত্র কুরআন খতমের পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করা হয়।

এ সময় মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%