০৭:০৯ এম
অবৈধ অভিবাসন বন্ধ বা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করেছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান রয়েছে, যেখানে আমরা ইতোমধ্যে ১২ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হারিয়েছি। যখনই কোনো মৃত্যু ঘটেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে বলেছেন, অবশ্যই যেন আমরা আহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তাদের খোঁজ-খবর নেই এবং মরদেহগুলো যথাযথভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। এই ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা
অবৈধ অভিবাসন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউরোপ রুটে, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের হাতে পড়ে যায়। বেশ কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি, কিছু বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এই অবৈধ অভিবাসন বন্ধ বা কমানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করেছে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, এই উইংয়ের মূল কাজ হলো অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংকট মোকাবেলা করা। এই বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি এটির পাশাপাশি জানিয়েছেন, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দিতে দূতাবাসগুলো দূরবর্তী এবং বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহরগুলোতে কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করছে। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু রয়েছে। यदि কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিপদে পড়েন তবে তারা সরাসরি দূতাবাস এবং দূতাবাস প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
অনিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য নিয়মিত ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশিকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আ.লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দাবি আবু হানিফের
লেবানন ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত এলাকায় কর্মহীন এবং বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের খাদ্য এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইওএমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূতাবাসগুলো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
দূতাবাসে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট দূতাবাসের ব্যাপারে তথ্য থাকে তাহলে আমাদের জানান। আমাদের ৮১টি মিশন রয়েছে এবং প্রতিটি মিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা যেন প্রবাসীদের সমস্যা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।
অবৈধভাবে ইউরোপগামী বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতালি এবং লিবিয়া রুটে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি দালালচক্রের মাধ্যমে যান। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এবং আইওএমের সঙ্গে কাজ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত দালালচক্রকে আইনের আওতায় আনা না যাবে, ততক্ষণ এই সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
আরও পড়ুন: যেভাবে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলে দিয়েছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন