০৫:২৯ পি.এম
বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো যেন মূলত ‘সংগ্রহ, পরিবহন ও ফেলে দেওয়া’ নির্ভর। ফলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগছে না।
উন্মুক্ত স্থানে, জলাভূমি ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলানোর কারণে দূষণ, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধানের রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার। তিনি মন্তব্য করেন, ইউরোপের বর্জ্য ও বাংলাদেশের বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। সুতরাং, দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রযুক্তির সঠিক নির্বাচন করা অপরিহার্য। পরিবেশ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. নাসির উদ্দীন খান। তিনি দাবি করেন যে, বাংলাদেশের বর্জ্যের ধরন ও আর্দ্রতা যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট ও আরডিএফ (রিফিউজ ড্রাইভড ফুয়েল) প্রযুক্তি অধিক কার্যকর হতে পারে। সহজ প্রযুক্তি, দেশীয় বিনিয়োগ এবং স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততায় বর্জ্যকে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্জ্য ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্প চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
যদি প্রকল্পটি চালু হয়, তবে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ যেভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। তিনি বলেন, এ জন্য বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, বায়োগ্যাস-কম্পোস্ট ও আরডিএফ উৎপাদনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন ও ডেটাবেইস তৈরির পাশাপাশি পৃথক কার্বন ক্রেডিট সেল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন