সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৮ পি.এম
ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছে দেশের স্বাস্থ্যখাতে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রতিবাদে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টায় জেলা ড্যাবের ব্যানারে এই কর্মসূচি কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা সৃষ্টির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক সংগঠনগুলোর আলোচনায় উঠে এসেছে।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. মাহফুজার রহমান (মারুফ), কোষাধ্যক্ষ ডা. রেদোয়ানুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আক্তারুজ্জামান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডা. আরিফুল হাসান, ডা. মারুফা জাহান মীম, ডা. খাইরুম মুনিরা, ডা. আব্দুস সালাম ও ডা. আসিফ ইকবাল।
বক্তারা উল্লেখ করেন, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ রোগীদের ওপর পড়ে। বক্তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া, ড্যাব সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরলে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে বিরল উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করেন দিনাজপুর-০২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনিসুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মির্জা সাহেরুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাদশা প্রমুখ।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ২৩৩ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটেছে মোত্তাকিন মিয়া (১১) নামে এক মাদরাসাছাত্রের। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মাদারগড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মোত্তাকিন মিয়া উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের মুন্সিবাড়ির দুলাল মিয়ার সন্তান। কিছু মাস আগে সে মাদারগড়া নূরে মদীনা হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়েছিল।
এর আগে মোত্তাকিন দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার পঞ্চম শ্রেণিতে রোল নম্বর ছিল ২। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে মেধাবী ছাত্র হিসেবে জানতেন। চলতি বছরের প্রথম সাময়িক পরীক্ষাতেও সে অংশগ্রহণ করেছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মাদরাসায় ভর্তি করা হয়।
দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন মন্তব্য করেন, ‘মোত্তাকিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। চলতি বছরের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায়ও সে অংশ নিয়েছিল। পরে তার পরিবার তাকে মাদরাসায় ভর্তি করে।’
মাদারগড়া নূরে মদীনা হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ট্যাংকির পানি শেষ হয়ে যায়। টিউবওয়েলও নষ্ট ছিল। এই কারণে ছাত্রদের পুকুরে গোসল করতে পাঠানো হয়। মোত্তাকিন সাঁতার জানত না। গোসলের সময় সে পানিতে ডুবে যায়। পরবর্তীতে অন্যান্য ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে মাদরাসায় নিয়ে আসে।
পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত মোত্তাকিনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা সাহনুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসাথে ৩ পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কল্পনা বেগমের জীবন দুশ্চিন্তায় কাটছে। গত রবিবার কিছু গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের নজরে আসলে, আজ সোমবার দুপুরে তিনি কল্পনা বেগম ও তার পরিবারকে নিজ দপ্তরে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। কল্পনা বেগম (২৫) নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার জায়দুল হকের স্ত্রী।
বর্তমানে কল্পনা বেগম তার দিনমজুর বাবার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন। কল্পনার স্বামী একজন বাকপ্রতিবন্ধী এবং হোটেলে দিন মজুরের কাজ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কল্পনা তিন সন্তানের জন্ম দেন। তিন সন্তানের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের পর হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।
সন্তান তিনটির বয়স এক মাস পেরিয়েছে। সন্তান তিনটি সুস্থ থাকলেও কল্পনা বেগমের অপারেশন স্থলে ইনফেকশন হওয়ার কারণে তিনি গত এক মাস ধরে অসুস্থ। বর্তমানে তিন নবজাতক ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা খরচ এবং খাবার জোগাতে গিয়ে ওই দিনমজুর পরিবারের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে।
কল্পনা বেগম জানান, বর্তমানে তার নিজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ এবং তিন নবজাতকের জন্য দুই প্যাকেট দুধ প্রয়োজন। এতে প্রায় ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
"ইউএনও স্যার আমাকে আজ দশ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমি খুব খুশি। আমার সন্তান তিনটিকে বাচাতে সকলের সহযোগিতা চাই।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ জানান, পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে প্রথমে তিন হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। আজ (সোমবার) ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মাছরং গ্রামে ১৩ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওই কিশোরী।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মাছরং গ্রামের ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের চেষ্টা করছিল পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তবে কিশোরী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে পরিবারের চাপ থেকে রক্ষা পেতে এবং বিয়ে বন্ধের সহযোগিতা চাইতে নিজেই বানারীপাড়া থানায় উপস্থিত হয় কিশোরীটি। সেখানে সে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে বিয়ে করতে রাজি নয় বলে জানায় এবং নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চায়।
কিশোরীর অভিযোগ, তার মা, নানী ও খালাদের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী বক্তব্য রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, ১৩ বছর বয়সী কোনো কিশোরীর বিয়ে আইনত বাল্যবিবাহের আওতাভুক্ত। তাই অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর বক্তব্য ও অভিযোগ যাচাই করে বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ