বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
বলিউডের কিং শাহরুখ খানের উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে অভিনেত্রী মিতা বাশিষ্ঠ একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। মণি রত্নমের ‘দিল সে’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন, তিনি পাহাড়ের খাড়া ঢালে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে শাহরুখ তাকে ধরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি মিতা এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন।
১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল সে’ সিনেমায় শাহরুখ খান এবং মিতা বাশিষ্ঠ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। এর আগে ১৯৯২ সালে মণি কৌলের ‘দ্য ইডিয়ট’ সিনেমাতেও তাদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। মিতা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে শাহরুখ বড় তারকা হয়ে উঠলেও তিনি তার প্রতি আগের মতোই আন্তরিক ছিলেন। শুটিংয়ের সময় তিনি সহশিল্পীদের প্রতি খেয়াল রাখতেন।
মিতা জানান, ‘দিল সে’ সিনেমার শুটিং হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসিতে হয়েছিল। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করতে হচ্ছিল তাদের। একটি দৃশ্যে হাতে একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে চোখ বাঁধা শাহরুখকে পথ দেখানোর দায়িত্ব ছিল মিতার। কিন্তু ঠান্ডার কারণে তার জুতার প্লাস্টিকের সোল পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল।
দৃশ্যের প্রয়োজনে পেছনের দিকে হাঁটতে গিয়ে একসময় মিতা পাহাড়ের খাড়া ঢালের কিনারায় পৌঁছে যান। পরিচালক মণি রত্নম বারবার তাকে পেছনে ফিরে যেতে বলছিলেন। এমন সময় শাহরুখ দ্রুত মিতার জ্যাকেটের সামনের অংশ ধরে টেনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। মিতার ভাষ্য, শাহরুখের দ্রুত প্রতিক্রিয়াই সেদিন তার জীবন বাঁচিয়েছিল।
শুটিংয়ের সময় শাহরুখের সঙ্গে আরো একটি ঘটনা ঘটেছিল মিতার। সিনেমার একটি মারামারির দৃশ্যে প্রায় ছয় মিনিটের একটি অংশ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ছবিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। ওই দৃশ্যে ছোট একটি পাথর দিয়ে শাহরুখকে আঘাত করার কথা ছিল মিতার। কিন্তু পাথরটি হাত থেকে পিছলে গিয়ে শাহরুখের মাথায় লাগে। এতে সামান্য কেটে যায় তার মাথা।
ঘটনাটি দেখে সেটে উপস্থিত অন্যরা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেও শাহরুখ স্বাভাবিক ছিলেন। বরং মিতার প্রতি আন্তরিক আচরণই বজায় রেখেছিলেন তিনি।
মণি রত্নম পরিচালিত ‘দিল সে’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করেন মনীষা কৈরালা। এতে আরো ছিলেন প্রীতি জিনতা, রঘুবীর যাদব, পীযূষ মিশ্র, সব্যসাচী চক্রবর্তী ও সঞ্জয় মিশ্র। অল ইন্ডিয়া রেডিওর সাংবাদিক অমর ও রহস্যময়ী মেঘনার প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেন এ আর রহমান। ছবির ‘ছাইয়্যা ছাইয়্যা’ গানটি এখনো দর্শকের কাছে জনপ্রিয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কুর্মিটোলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মিছিল থেকে পুলিশের টহল গাড়ির দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মো. এনামুল নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মোটরসাইকেল মিছিল থেকে আর্মি গলফ ক্লাবের সামনে পুলিশের একটি টহল গাড়ির দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় গাড়িতে থাকা চালক পুলিশ সদস্য আহত হন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আহত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, বনানীর দিক থেকে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিল। বহরটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশের ‘গলফ ক্লাব-৮৩’ টহল গাড়ির দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
ককটেল বিস্ফোরণের ফলে গাড়ির চালক কনস্টেবল মো. এনামুলের বাম চোখে সামান্য আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেখান থেকে তাকে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের নির্দেশে এ ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ইট ব্যবসায়ী রিফাত কবিরের বিরুদ্ধে থানার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. উজ্জল মিয়াকে অপহরণ, মারধর, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ ও পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ওসমানপুর বাজারে তার নিজস্ব অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী উজ্জল মিয়া এই অভিযোগ তুলে ধরে আইনী প্রতিকার দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি ওসমানপুর বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে কাসিয়াতলা গ্রামের মৃত হুমায়ন কবিরের ছেলে রিফাত কবিরের ইটভাটা থেকে ইট ক্রয়ের চুক্তিতে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প মূলে রিফাতকে ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু রিফাত ইট সরবরাহে ব্যর্থ হলে পরে পূবালী ও সোনালী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেন।
উজ্জল মিয়া অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রিফাত কৌশলে তাকে ওসমানপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে রিফাত এবং উজ্জল মিয়ার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলিফ ওরফে অভিসহ তাদের লোকজন তাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে। পরে তার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩টি চেকের পাতা ও ১০০ টাকা মূল্যমানের ৩টি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সেই স্ট্যাম্পে ৩৫ লাখ ও ২৫ লাখ টাকা লিখে নিয়ে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে এবং নতুন করে টাকা দাবি করে মামলার ভয় দেখাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর রিফাত কবির বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে উজ্জল মিয়াকে গ্রেফতার করায়। তবে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হলে আদালত সমস্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা ও জবানবন্দি শ্রবণ করে তাকে জামিনে মুক্তি প্রদান করেন।
উজ্জল মিয়া দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষরা এই ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনী ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নৌপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বিঘ্নে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৩৫টি ড্রেজার, ১৬১টি জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নদ-নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং বিভাগ ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম সংশোধিত) (বিশেষ সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নৌরুট ও ফেরি রুট সচল রাখা এবং ফেরি, লঞ্চ ও কার্গো ভেসেলসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ০৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী বিশেষ সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটি-এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ৩৫টি ড্রেজার ও ১২৬টি সহায়ক জলযান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬১টি জলযান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে সংস্থাটির ড্রেজিং বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও সহায়ক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা হলো বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা ৩২৬ দশমিক ৬৭ লাখ ঘনমিটার বৃদ্ধি করা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপথ সচল রাখতে নদীর নাব্যতা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সরকার বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, নতুন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান যুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন নদী ও নৌরুটে খনন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এর ফলে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই এগিয়েছে। ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের জন্য নির্ধারিত আটটির মধ্যে দুটি সংগ্রহ করা হয়েছে ও চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি দুটি দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের চারটির মধ্যে চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের ছয়টির মধ্যে চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং দুটি দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার দুটি, ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার একটি, পন্টুন মাউন্টেড গ্র্যাব ড্রেজার একটি ও ১০ ইঞ্চি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজার নয়টি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এসব ড্রেজারের কয়েকটির সংগ্রহ কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে হপার ড্রেজার ও গ্র্যাব ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
ড্রেজারের পাশাপাশি এসব যন্ত্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ক্রেনবোট, টাগবোট ও অন্যান্য সহায়ক জলযান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩টি ক্রেনবোট ও ১৭টি টাগবোট সংগ্রহ করা হবে। ক্রেনবোটের মধ্যে ২৮ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি, ২০ ইঞ্চি, ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের জলযান রয়েছে।
অন্যদিকে ২৫ টন, ৭ টন ও ১২ টন বোলার্ড পুলের টাগবোট সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি স্পিডবোট, একটি কু-হাউজবোট, ১৫টি পাইল ক্যারিং ডাম্ব বার্জ, একটি হাই স্পিড কেবিন ক্রুজার, একটি কেবিন ক্রুজার, একটি ওয়েল ক্লিনিং ভেসেল, চারটি রিভার ক্লিনিং ওয়ার্কবোট, নয়টি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজারের হাউজবোট, ১২টি ডং বুম অ্যাডাপ্টারের পন্টুন, ১১টি টার্মিনাল পন্টুন ও একটি সহায়ক পন্টুন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব জলযান ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার, সিলেট/সুনামগঞ্জ ও পাইকগাছা/জামালপুরে ড্রেজার বেইজ অফিস নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের জন্য ডরমিটরি নির্মাণে ৭ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত কক্সবাজার ড্রেজার বেইজে অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আরিচা ড্রেজার বেইজে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে স্লিপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই বেইজে প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের ডরমিটরি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডরমিটরির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে সাময়িকভাবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু হয়েছে।
অবকাঠামো নির্মাণ ও ড্রেজার-জলযান সংগ্রহের কার্যক্রম তদারকির জন্য পরামর্শক সেবাও নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার ও জলযান তৈরি ও মনিটরিংয়ের জন্য একটি পরামর্শক সেবা প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ কার্যক্রমের আওতায় চলমান কাজগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
একই ধরনের পরামর্শক সেবার জন্য আরও তিন কোটি টাকার একটি প্যাকেজ রয়েছে। এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের অফিস, স্টোর, ডরমিটরি, অফিসার্স কোয়ার্টার ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, ড্রইং ও তদারকির জন্য ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার টাকার পরামর্শক সেবা প্যাকেজ রয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য আরও ৩০টি সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি এক্সকাভেটর, ১২টি ডাম্প ট্রাক ও একটি ট্রেনিং সিমুলেটর। এসব সরঞ্জাম ড্রেজিং-সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি মাটি অপসারণ, পরিবহন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৬১টি প্যাকেজের মধ্যে ৫১টি পণ্য, ছয়টি কার্য ও চারটি সেবা প্যাকেজ রয়েছে।
অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ক্রয় পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) প্রদান ও চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পণ্য, কার্য ও সেবা প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, কয়েকটি চলমান রয়েছে ও অবশিষ্ট প্যাকেজের বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি কু-হাউজবোট সংগ্রহে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ প্যাকেজের দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া একটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ১৪৯ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ প্যাকেজের দরপত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই ধরনের তিনটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ২৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে একই পরিমাণ অর্থ ও দুটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনার এসব প্যাকেজে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৯১ কোটি ২ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ সম্পন্ন পণ্য কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ৯৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলমান কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পের শুরু থেকে ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা, যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ১২ কোটি টাকা ও মূলধন খাতে ২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
গত অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে ৫৫৫ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থছাড় করা হয়। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নদীপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের বিভিন্ন নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও নৌপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।
আবার নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে সড়ক যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক ড্রেজার ও সহায়ক জলযানের সংখ্যা বাড়ানো হলে নদী খনন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত ও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট, ফেরিঘাট, বন্দর ও নদীবন্দরগুলোর নাব্যতা রক্ষায় এসব ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে। একইসঙ্গে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা ও মৌসুমি নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় বাড়তি সক্ষমতা কাজে আসবে।
এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও নাব্যতা সংরক্ষণ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটি-এর আধুনিক ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য দেশের প্রায় ১০০টি নদী খননের মাধ্যমে নৌপথের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু ড্রেজার সংগ্রহই নয়, বরং নিয়মিত খনন, খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিআইডব্লিউটি-এর নিজস্ব ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের নৌপরিবহন খাত আরও শক্তিশালী হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে সংগৃহীত ড্রেজার ও জলযান যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নৌযোগাযোগ সচল রাখা এবং পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্য সামনে রেখে বিআইডব্লিউটি-এর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আতাউর রহমান বলেন, আধুনিক ড্রেজার, সহায়ক জলযান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে নদী খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। আমরা প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। একইসঙ্গে প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত ড্রেজার ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্বামীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বিগত দিনে এই বিদ্যালয়টি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ও চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ইলিয়াস আলীর নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের জন্য নানা কূটচাল করা হয়েছিল, কিন্তু এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই চক্রান্ত সফল হয়নি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারস্থ ‘এম ইলিয়াস আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমপি লুনা এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বিদ্যাপীঠ আগামীতে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সুনাগরিক গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
এটি জানা গেছে যে, বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল একসময় যোগাযোগ ও শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। এই অঞ্চলে মাধ্যমিক স্তরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। ২০০১ সালে এম ইলিয়াস আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর দূরদর্শী প্রচেষ্টায় কালীগঞ্জ বাজারে ‘এম ইলিয়াস আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ যাত্রা শুরু করে। বিদ্যালয়টি কালের পরিক্রমায় নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা পার করে এলাকায় শিক্ষার বিস্তার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বুধবার বিকেলে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, সার্বিক পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা দেবনাথ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি লুনা আরও বলেন, "অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এম ইলিয়াস আলী যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতার পক্ষেই এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ছিল। এ সময় তিনি ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চান এবং তাঁর নিখোঁজ স্বামীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
তরুণ দল নেতা কাওছার আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রাব্বানী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম। পরিশেষে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী ও প্রয়াত সাবেক প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ