বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫১ এম
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না’ এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ আত্মপ্রকাশ করেছে, যার নাম ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। ইনস্টাগ্রামভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ লাখের বেশি ভিউ এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।
এমজেপি তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানায়, তারা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে যৌথ কর্মসূচির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী নেহা বোরার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং সিজেপির দুই নেতাকে আটকের সমালোচনা করে পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
মাছি জনতা পার্টি কী
মাছি জনতা পার্টি মূলত ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ডিজিটাল রেকর্ড অনুযায়ী, যদিও অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের জুনে তৈরি হয়েছিল, তবুও এটি অন্তত আটবার নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘makhijantaparty.ig’ নাম ব্যবহার করছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে আর্যন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এমজেপির জন্ম যেভাবে
গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই পিটিশনে সিজেপির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত দিল্লি অচল কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ইন্টারনেট, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করা হয়।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে বলেন, তবে পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেয়া যায় না। এ সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘একটা মাছি মারতে তো আর হাতুড়ি ব্যবহার করা চলে না।’
এমজেপি প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংগঠনটি লেখে, ‘খোদ প্রধান বিচারপতিই যখন বলেছেন মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যাবে না, তখন সেই মাছিই এবার গর্জে উঠে বলছে, সে-ও কারও চেয়ে কম নয়!’
নেপথ্যে ককরোচ জনতা পার্টি
এর আগে গত মে মাসে একটি শুনানির সময় বেকার তরুণদের একাংশকে ‘ককরোচ’ বা আরশোলার সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ ওঠে শীর্ষ আদালতের বিরুদ্ধে। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পরে এই প্ল্যাটফর্মটি বড় পরিসরে পরিচিতি লাভ করে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলনের ফলস্বরূপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন না করা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করে।
নেহা বোরা ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এমজেপি। সংগঠনটি আইন মেনে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে জোর করে প্রবেশ করে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ। তাদের আটকের নিন্দা জানিয়ে এমজেপি প্রশ্ন তুলেছে, ‘যন্তর মন্তরের মতো নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলেই যদি কথা বলতে দেয়া না হয়, তবে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ছেলে ফারদিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। তবে এই খবরগুলোকে বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ওমর সানী ও ফারদিন।
সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে কিছু ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে বলা হচ্ছে, মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে ফারদিন এহেসান স্বাধীন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। কিন্তু ওমর সানী সরাসরি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজধানীর বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন এই চিত্রনায়ক। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবরগুলোকে বানোয়াট উল্লেখ করে বলেন, "তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা খোঁচাখুঁচি করা ঠিক নয়।" তিনি আরও জানান, যদি সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো সরিয়ে না নেয়া হয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, মাকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন ছেলে ফারদিনও। ভিডিওকলে নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, কাজের কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে।
ফারদিন দাবি করেন, "প্রতিদিনই গ্রুপ ভিডিওকলে যুক্ত হন পরিবারের সবাই।" তিনি বলেন, মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া কিংবা সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি সংশ্লিষ্ট পেজগুলোকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এভাবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজবের প্রতিবাদ জানিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন ওমর সানী ও ফারদিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করা সংস্থা কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) এর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে।
সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিরা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সমবেত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গুলুস্তান প্রাসাদে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মর্যাদাপূর্ণ অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বাকু কনভেনশন সেন্টারে সিআইসিএ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সম্মেলনের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকও চলমান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন রাজমিস্ত্রী মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করেন রাজমিস্ত্রী জালিস মাহমুদ। অভিযোগে পোশাকের অপব্যবহার, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ আটক ও শিশু অপহরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি গ্রহণ করে বরিশাল পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এএসপি মর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
জালিস মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকির বাড়ির সহিদুল ইসলামের পুত্র। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ। এছাড়া ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি ও আদেশ সূত্রে জানা যায়, রাজমিস্ত্রী জালিস মাহমুদ তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সকল পাওনা পরিশোধ করে মামলা থেকে খালাস পান।
এদিকে, জালিস মাহমুদ ও তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে ‘হুমায়রা জান্নাত’ নামের তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তালাকের পর পপি অন্যত্র বিয়ে করেন এবং এ কারণে শিশু কন্যা তার বাবা জালিস মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান করছিল।
হঠাৎ করে গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বানারীপাড়া থানার ওসির নির্দেশে উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদ ৪-৫ জন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য নিয়ে জালিস মাহমুদকে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসময় এসআই জাহিদ জালিস মাহমুদের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করেন।
বাদী জানান, তার সাবেক স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি নাবালিকা কন্যা সন্তানের আইনানুগ অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘসময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশে শিশুকন্যাকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জালিস।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, 'দুই বছর ৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তানটি খুব অসুস্থ। তার মাতৃস্নেহে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুটিকে চিকিৎসা করাতে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু রায়হানকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ ইসলাম কিরনকে পুলিশ আটক করেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শহরের চারমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, চারমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষক ক্লাসে অতিরিক্ত দুষ্টুমি করার কারণে রিয়াদকে সতর্ক করেছিলেন। পাশাপাশি তার অভিভাবককে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার জন্যও বলেছিলেন। এর জের ধরে ওই ছাত্র শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
লাঠির আঘাতে আবু রায়হানের থুতনি কেটে যায় এবং সেখানে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। তার ঘাড়েও গুরুতর জখম হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ