প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন রাজমিস্ত্রী মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করেন রাজমিস্ত্রী জালিস মাহমুদ। অভিযোগে পোশাকের অপব্যবহার, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ আটক ও শিশু অপহরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি গ্রহণ করে বরিশাল পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এএসপি মর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
জালিস মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকির বাড়ির সহিদুল ইসলামের পুত্র। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ। এছাড়া ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি ও আদেশ সূত্রে জানা যায়, রাজমিস্ত্রী জালিস মাহমুদ তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সকল পাওনা পরিশোধ করে মামলা থেকে খালাস পান।
এদিকে, জালিস মাহমুদ ও তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে ‘হুমায়রা জান্নাত’ নামের তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তালাকের পর পপি অন্যত্র বিয়ে করেন এবং এ কারণে শিশু কন্যা তার বাবা জালিস মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান করছিল।
হঠাৎ করে গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বানারীপাড়া থানার ওসির নির্দেশে উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদ ৪-৫ জন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য নিয়ে জালিস মাহমুদকে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসময় এসআই জাহিদ জালিস মাহমুদের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করেন।
বাদী জানান, তার সাবেক স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি নাবালিকা কন্যা সন্তানের আইনানুগ অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘসময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশে শিশুকন্যাকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জালিস।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, 'দুই বছর ৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তানটি খুব অসুস্থ। তার মাতৃস্নেহে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুটিকে চিকিৎসা করাতে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন