১০:১৭ পি.এম
বর্তমান বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াকে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে। এই আইনের আওতায় গুম করার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গুমের ফলে যদি মৃত্যু ঘটে, মরদেহ পাওয়া যায়, অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে, তখন মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বাধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে।সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল বেলা বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই ১৫ তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইন শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর আওতায় গুম করার অপরাধের জন্য সাধারণভাবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান অবশ্যই রাখা হয়েছে। তবে গুমের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে, মরদেহ যদি পাওয়া যায় অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করার বিধান তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধানও এতে যুক্ত হয়েছে।
১২০ দিনে তদন্ত এবং ১২০ দিনে বিচার।
আইনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তদন্ত এবং বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই আইনে প্রতিষ্ঠা করা হবে যে, সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে। গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ।
গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের অধিকার রক্ষার জন্য আইনটিতে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য সরকারী আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা হবে। যদি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব না হয় তবে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
গুম সনদ এবং সম্পত্তি বণ্টন।
আইনের আওতায় গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হতে পারে। হলফ করে যদি পাঁচ বছর অতিক্রান্তের পরেও কোনো তথ্য পাওয়া না যায়, তাহলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য ‘গুম সনদ’ প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
এছাড়া, নতুন এই আইনে সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী এবং ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন