প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সামনে এখন দুটি মাত্র বিকল্প রয়েছে, ‘চুক্তি অথবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইরান একদিকে আলোচনার জন্য অনুরোধ করছে, আর অন্যদিকে প্রকাশ্যে বলছে তারা আলোচনা করছে না।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ইরানের নেতৃত্ব অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিমুখী আচরণ করছে। তারা বৈঠকের জন্য অনুরোধ করে, কেউ কেউ বলবেন ভিক্ষাও করে। আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সামনে আরও বৈঠকের সময়সূচি রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে তারা বলছে, কোন আলোচনা নেই, তারা কেবল ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার কথায়, ‘তারা আবারও বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের শক্ত হাতে পরিচালিত হবে। অথচ এটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের ‘অবরোধ’, যাকে কেউ কেউ ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলের দেয়াল’ বলে উল্লেখ করে, তার কারণে আমরা চাইলে ইরানের দিকে কিছুই যেতে পারে না এবং আমরা অনুমতি না দিলে কিছুই যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি চুক্তি অথবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই পরিবর্তন হবে না। ইরান তা স্বীকার করুক বা না করুক, আমরা বহু দশকের পুরোনো একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি। বিষয়টি খুবই সহজ, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।’
ট্রাম্প গত রোববার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুনভাবে সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখে তেহরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘স্পষ্টতই তারা (ইরান) হামলার শিকার হতে চায় না। তারা বুঝতে পেরেছিল হামলার প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছিল, কারণ তারা সেটা গড়ে উঠতে দেখেছিল। এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকেই সেই আলোচনা শুরু হবে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কোনো প্রতিনিধিদল গ্রহণ অথবা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। তার ভাষায়, ‘এখন আমরা কোনো প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাব না অথবা কোনো দেশের অতিথিও হব না।’
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তায় বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির কৌশলগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচলের বিষয়ে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। এই জন্য অনুমতি চেয়ে সার্ভিস ফি দিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন