বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির অভয়ারণ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকা ছাপড়াখালি খালে বুধবার দিবাগত রাতে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীদের হাতে দুই জেলে আটক হয়েছেন। এ সময় বনরক্ষীরা মাছ ধরার জাল সহ দুটি নৌকা জব্দ করেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) নির্দেশে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে আটটায় শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ছাপড়াখালি খালে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় মাছ ধরারত জেলেদের দেখতে পেয়ে বনরক্ষীরা তাদের দিকে এগিয়ে যান।
বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই জেলে নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়ে সুন্দরবনের গভীরে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বনরক্ষীরা দুই জেলেকে দুটি নৌকা ও জালসহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটক জেলেদের মধ্যে রয়েছেন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হোসেন (৩০) এবং আইয়ুব আলী (২৮)।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, ছাপড়াখালিতে আটক জেলেরা বন আইন লঙ্ঘন করে অভয়ারণ্যের নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা সেতুতে ২৪ ঘণ্টার স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। তারা মনে করেন, সেতুটিতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি নিশ্চিত হলে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, যা মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। সচেতন নাগরিকরা উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের প্রভাব নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের প্রভাবের খবর স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান একমাত্র যথেষ্ট নয়। তারা মনে করেন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশের মেধাশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘এ’ সার্কেল শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান জানিয়েছেন, মহিপুর তিস্তা সেতুতে পুলিশের টহল ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সেতুটিতে ২৪ ঘণ্টার স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন করা গেলে মাদক পাচার ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আখের মিঞা মন্তব্য করেছেন, “মাদকে না বলুন। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর সবুর জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে বিসিআইসি সার পাচারের সময় জনগণের হাতে ১৫ বস্তা সারসহ চালক ও ক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা উজান চর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং কৃষক। সারের জন্য গেলে তাদের জানানো হয় যে, সার নেই। অনেক সময় তারা অধিক দামে সার বিক্রি করেন। টাকা বেশি দিয়েও সার পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সার বিক্রি করা হয়। এই বেড়িবাঁধের রাস্তা দিয়ে অন্য জেলায় সার পাঠানো হচ্ছে। এ কারণে আজকে চোখের সামনে সারের গাড়ি আটক করা হয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিলাররা নিয়মিত সরকারি সার পাচার করছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। ডিলারদের দোকানে সরকারি দামে সার না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।
এ সময় বিভিন্নভাবে সার ছাড়ানোর চেষ্টা করেন সেই ডিলারের লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি সময়ক্ষেপণ করেন। তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, আপনি অপেক্ষা করুন। এক সময় ডিলারের পক্ষ থেকে সেখানে দেশীয় অস্ত্রসহ হাজির হন নাজমুল নামে একজন ব্যক্তি।
তিনি তখন যারা সার ধরেছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকের উপর চড়াও হন। এ সময় তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং তার কোমরে থাকা রিভলভার দৃশ্যমান হয়ে যায়। এরপর তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়িটি নিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন জানান, নাজমুল উপজেলা জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং একসময় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সামান্য সারের জন্য অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সার মাসুদ মন্ডলের দোকানের কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সারের ডিলাররা চুরি করে সার বিক্রি করছে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানান। চোরাই সারের ক্রেতাদের বক্তব্য রয়েছে এবং যে অটোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তার ভিডিও বক্তব্যও রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। একেতো সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ, আবার সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে তাকে পূর্ণ সামরিক ও সামাজিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর সড়কপথে মরদেহ তার জন্মস্থান বিন্দারামপুর গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। তরুণ এই সেনাসদস্যকে হারিয়ে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বাদ জোহর পরিবারের সদস্য এবং হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পূর্ণ মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ ঘটনাস্থলেই দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান।
মাত্র তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মাকে হারান রিফাত। এবার মাত্র ২৮ বছর বয়সী কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। মৃত্যুকালে এই সেনাসদস্য স্ত্রী এবং প্রায় আঢ়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
এ সময় সেনা সদস্যের জানাজার নামাজে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের জলাশয়গুলো পদ্ম ফুলে ভরে গেছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে যেন এক স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাখওয়া দিঘী এলাকার বাঘমারা পদ্মবিল একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে এই স্থান এখন এক টুকরো স্বর্গরাজ্য। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা পদ্মফুল, নির্মল পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। প্রতিদিন ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এখানে এসে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে।
শরতে বাঘমারা পদ্মবিলের চারপাশে অপরূপ সৌন্দর্য বিরাজমান। বিলের পানির ওপর সারি সারি ফুটে থাকা পদ্মফুল ও সবুজের সমারোহ এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। নৌকায় করে বিলের সৌন্দর্য দর্শনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আনন্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করছেন।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক বছর আগে বাঘমারা পদ্মবিল তেমন পরিচিত ছিল না। তবে পদ্মফুলে ভরা বিলের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ায়, এখন প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় শফিকুল ইসলাম জানান, বাঘমারা পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। ভোরের দিকে পদ্মফুল ও বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর। নৌকায় ঘুরে দর্শনার্থীরা আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন।
ইমরান হোসেন বলেন, শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পরিবার নিয়ে এই পদ্মবিলে ছুটে আসছেন। নৌকায় ঘুরে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং পদ্মফুলের অপরূপ মেলবন্ধনে বাঘমারা পদ্মবিল এখন দর্শনার্থীদের কাছে সত্যিই এক টুকরো স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।
তাড়াশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, জলজ উদ্ভিদ পদ্ম বহু বর্ষজীবী। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ গাছটিও বাড়তে থাকে। একটি গাছে একটি ফুল ফোটে, যা সাদা, লাল ও নীল রঙের হয়ে থাকে। ফুটন্ত ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। রাত থেকে সকালের মধ্যে ফুল ফোটে এবং রোদের তীব্রতায় সংকুচিত হয়। রোদ কমে গেলে আবার প্রস্ফুটিত হয়। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলের পানিতে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখা যায়। শরতে ও হেমন্তে এ ফুল থাকে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে পদ্ম ফুল অত্যন্ত প্রিয় ও পবিত্র। বিশেষ করে দূর্গা পূজাতে পদ্ম ফুলের চাহিদা ও কদর রয়েছে। ফুলের চাহিদা থাকার কারণে পদ্ম ফুল সংগ্রহ ও বিক্রয় করে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জেরিন আহমেদ বলেন, পাখির মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই পদ্মের বিস্তার ঘটেছে। প্রকৃতির এই অপার দান একদিকে দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি এলাকার মানুষের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। এই বিলগুলি কেবল জলাশয় নয়, সৌন্দর্য, জীবন ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
সচেতন মহলের মতে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা জেলার পদ্মবিলগুলোকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুললে এ অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। পাশাপাশি বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পদ্মফুল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ