প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে বিসিআইসি সার পাচারের সময় জনগণের হাতে ১৫ বস্তা সারসহ চালক ও ক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা উজান চর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং কৃষক। সারের জন্য গেলে তাদের জানানো হয় যে, সার নেই। অনেক সময় তারা অধিক দামে সার বিক্রি করেন। টাকা বেশি দিয়েও সার পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সার বিক্রি করা হয়। এই বেড়িবাঁধের রাস্তা দিয়ে অন্য জেলায় সার পাঠানো হচ্ছে। এ কারণে আজকে চোখের সামনে সারের গাড়ি আটক করা হয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিলাররা নিয়মিত সরকারি সার পাচার করছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। ডিলারদের দোকানে সরকারি দামে সার না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।
এ সময় বিভিন্নভাবে সার ছাড়ানোর চেষ্টা করেন সেই ডিলারের লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি সময়ক্ষেপণ করেন। তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, আপনি অপেক্ষা করুন। এক সময় ডিলারের পক্ষ থেকে সেখানে দেশীয় অস্ত্রসহ হাজির হন নাজমুল নামে একজন ব্যক্তি।
তিনি তখন যারা সার ধরেছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকের উপর চড়াও হন। এ সময় তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং তার কোমরে থাকা রিভলভার দৃশ্যমান হয়ে যায়। এরপর তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়িটি নিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন জানান, নাজমুল উপজেলা জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং একসময় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সামান্য সারের জন্য অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সার মাসুদ মন্ডলের দোকানের কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সারের ডিলাররা চুরি করে সার বিক্রি করছে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানান। চোরাই সারের ক্রেতাদের বক্তব্য রয়েছে এবং যে অটোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তার ভিডিও বক্তব্যও রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। একেতো সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ, আবার সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য বলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন