মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০০ পি.এম
আজ রাত থেকে শুরু হচ্ছে ইউরোপের ফুটবলের অন্যতম রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে বেশ কিছু নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনেক নিয়ম ইতিমধ্যে ইউরোপের শীর্ষ ঘরোয়া লিগগুলোতে কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে এই নিয়মগুলোর প্রভাবও লক্ষ্য করা গেছে।
কিন্তু উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারই প্রথমবারের মতো এই নিয়মগুলো কার্যকর হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার, তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমরা এই টার্মিনালটি উদ্বোধন করতে চাই। আপনারা জানেন যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই টার্মিনালটা উদ্বোধন করা হয়েছিল, শুধু বিল্ডিংটা উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু এটি চালুর যে উদ্যোগ, সেটি নেয়া হয়নি। এই টার্মিনালে ইন্টারনেট নেই, মেশিনপত্রের ব্যবস্থাপনা নেই এবং এটি কীভাবে উদ্বোধন হবে, তার কোনো চিন্তাভাবনা ছিল না।"
তিনি আরও জানান, রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাংলাদেশিরা পাবে, বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানি পাবে— এমনটি কথা ছিল। "আমার বারবার মিটিং করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রেভিনিউ ২৭ শতাংশ আনতে সক্ষম হয়েছি। ২৭ শতাংশ আনতে পারলে আমাদের ঋণটা পরিশোধ করা যাবে। আপনারা জানেন, এটি জাইকার ঋণে করা হয়েছে।"
রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, "অন্যান্য খাতের আয় থেকে এই টার্মিনালের ঋণের কিস্তি ইতোমধ্যে দেয়া শুরু হয়েছে। টার্মিনালটির কিস্তি দেয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই কিস্তিটা আমাদের সিভিল এভিয়েশনের আয় থেকে দিতে হচ্ছে। আমরা ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে দিয়েছি এবং ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই টার্মিনালটা চালু না করা গেলে এভাবেই অন্যান্য খাত থেকে আমাদের ঋণ শোধ করতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১৬ ডিসেম্বরে আংশিক হলেও যাতে আমরা এটি চালু করতে পারি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় চার দশক পর, আবারও কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় পদে আসীন হচ্ছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এবারের অধিবেশন চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে, খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সময়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে নতুন বৈশ্বিক নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালট নির্বাচনে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে মোট ১৯০ ভোটের মধ্যে তিনি ৯৯ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পান ৯১ ভোট।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি সংস্থার পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টিত হয়। ৮১তম অধিবেশনের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পালা থাকায় এই অঞ্চল থেকেই নির্বাচনে অংশ নেন খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন খলিলুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একাধিক রিট মামলা দায়ের করে তথ্য গোপন ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে আপিল বিভাগ মোহাম্মদ নুর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগসংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করে।
আদালতে নুর আলমের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন। অপরদিকে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অনিক আর হক, সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির এবং আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত শুনানি দেন।
শুনানির সময় একই বিষয়ে একাধিক রিট দায়ের এবং আদালতের কাছে তথ্য গোপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিটকারী ও তার আইনজীবীর বিরুদ্ধে জরিমানা করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে হবে।
পরে আইনজীবীরা জানান, আদালত রিটকারী মো. নুর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ নুর আলম হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক রিট মামলা দায়ের করেন।
একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার ১০০তম জন্মবার্ষিকী আজ। গানকে জীবনের আয়না বানিয়ে তুলেছিলেন তিনি। অসাধারণ ও দরাজ কণ্ঠের এই কালজয়ী শিল্পী ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামের সদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
অসমীয়া চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গীতজীবনের শুরু হলেও, পরবর্তীতে বাংলা ও হিন্দি ভাষার গানে তিনি ভারত ও বাংলাদেশসহ সমগ্র উপমহাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনে উচ্চ ডিগ্রিধারী ভূপেন হাজারিকা ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। সেখানে অধ্যয়নকালে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ পল রোবসনের সংস্পর্শে আসেন। রোবসনের বিখ্যাত ‘ও'ল ম্যান রিভার’ গানটির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মিসিসিপির দীর্ঘশ্বাসকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে রূপ দেন, যা থেকে সৃষ্টি হয় কালজয়ী গান—‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও’।
২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার ঐতিহাসিক শ্রোতা জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তার বিখ্যাত গান ‘মানুষ মানুষের জন্যে’ দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।
ভূপেন হাজারিকার গানে নদী ও নদীর পারের মেহনতি মানুষের জীবনচিত্র যেমন উঠে এসেছে, তেমনি স্থান পেয়েছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ক্ষুরধার প্রতিবাদ ও সর্বজনীন মানবপ্রেম। তার সৃষ্টিশীল জীবনের ঝুলিতে রয়েছে ‘আমি এক যাযাবর’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’, ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘আমায় ভুল বুঝিস না’ এবং ‘হে দোলা হে দোলা’-র মতো অগণিত জনপ্রিয় গান।
২০১১ সালের ৫ নভেম্বর এই অনন্য সুরসাধক পরলোকগমন করেন।
গানকে সরাসরি জীবনের আয়না বানিয়ে তোলা এই মহান শিল্পীকে ২০১৯ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ