প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার ১০০তম জন্মবার্ষিকী আজ। গানকে জীবনের আয়না বানিয়ে তুলেছিলেন তিনি। অসাধারণ ও দরাজ কণ্ঠের এই কালজয়ী শিল্পী ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামের সদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
অসমীয়া চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গীতজীবনের শুরু হলেও, পরবর্তীতে বাংলা ও হিন্দি ভাষার গানে তিনি ভারত ও বাংলাদেশসহ সমগ্র উপমহাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনে উচ্চ ডিগ্রিধারী ভূপেন হাজারিকা ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। সেখানে অধ্যয়নকালে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ পল রোবসনের সংস্পর্শে আসেন। রোবসনের বিখ্যাত ‘ও'ল ম্যান রিভার’ গানটির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মিসিসিপির দীর্ঘশ্বাসকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে রূপ দেন, যা থেকে সৃষ্টি হয় কালজয়ী গান—‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও’।
২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার ঐতিহাসিক শ্রোতা জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তার বিখ্যাত গান ‘মানুষ মানুষের জন্যে’ দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।
ভূপেন হাজারিকার গানে নদী ও নদীর পারের মেহনতি মানুষের জীবনচিত্র যেমন উঠে এসেছে, তেমনি স্থান পেয়েছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ক্ষুরধার প্রতিবাদ ও সর্বজনীন মানবপ্রেম। তার সৃষ্টিশীল জীবনের ঝুলিতে রয়েছে ‘আমি এক যাযাবর’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’, ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘আমায় ভুল বুঝিস না’ এবং ‘হে দোলা হে দোলা’-র মতো অগণিত জনপ্রিয় গান।
২০১১ সালের ৫ নভেম্বর এই অনন্য সুরসাধক পরলোকগমন করেন।
গানকে সরাসরি জীবনের আয়না বানিয়ে তোলা এই মহান শিল্পীকে ২০১৯ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন