আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
১২:২৬ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের সিংগারবাড়ী এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নবজাগরণ যুব সমাজ ও সেবা সংঘ’-এর উদ্যোগে রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৯টায় সিংগারবাড়ী চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
‘জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ধনবাড়ী-গোপালপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মো. আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলমনগর মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আমিনুল ইসলাম মারুফী।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজে। একইভাবে অনলাইন জুয়া তরুণ সমাজকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের প্রতি সতর্ক নজর রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সেমিনারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমাজকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হলে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা কঠিন; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।
তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসেবী বা মাদক কারবারিদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা গেলে পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়। যুব সমাজকে মাদক ধ্বংস করে দিচ্ছে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’’
নবজাগরণ যুব সমাজ ও সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘‘মাদক ও অনলাইন জুয়ার করাল গ্রাসে যুব সমাজ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, পরামর্শ দিতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধে অংশ নিতে হবে।’’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সৌদি প্রবাসী সোহেল রানা (চয়ন), ভাদুরীর চর হাবিবা সাত্তার মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সায়েম, সাবেক ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া ও যুবকদের পক্ষে আকরামুল ইসলাম।
এ সময় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, যুবসমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রী, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
আজ সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতকালে শিল্প খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ ধরে চলছে। দেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। মিশরের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে উভয় দেশই অনেক লাভবান হবে।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চামড়া, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে বাংলাদেশ ও মিশরের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এসব খাতে উন্নয়ন সম্ভব।’
তিনি মিশরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে মিশরের উদ্যোক্তারা নতুন বাজারের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প ও কর্মসংস্থানও সম্প্রসারিত হবে।
মিশরের রাষ্ট্রদূত দুদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, মিশর বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। তিনি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত যোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নতুনভাবে সম্প্রসারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
এ লক্ষ্যে আজ সোমবার সকালে হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জোটটির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছে।
প্রতিনিধি দলের ১১ সদস্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্রটি সংগৃহীত হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে জোটটি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিলের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো কাজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ঘটে যাওয়া আগুনের ঘটনায় ১৬ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তবে ঘটনার সময় বাইরে থাকায় এক কর্মী বেঁচে গেছেন, যার নাম হাবিবুর রহমান।
গতকাল রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প অঞ্চলে আগুন ধরে যায়। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন নিহত হন।
বেঁচে যাওয়া হাবিবুর রহমানের বরাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি চুল কাটানোর জন্য একটি সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলছে।
ওই বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত কারখানাটিতে মোট ১৭ জন কাজ করতেন।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে দূতাবাসকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। আর বাকীজনেরা কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন দেশটির ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাত ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহগুলো কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক সহযোগিতা করেন সায়েখ আফতাবউদ্দিন ফারুক।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন, মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল, এবং সাদনগর গ্রামের সাগর।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাংগাপাড়া গ্রামের শ্যামলও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজারটি মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত পেশাদারদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাসমূহের মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুইটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। এছাড়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে।
চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে, যার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুইটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে একটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। তবে বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।
এই কার্যক্রমের অধীনে নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পেয়ে থাকবেন। অন্যদিকে, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেম মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। সম্মানীর এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।
মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ক্রমশ দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবে।
এ ব্যাপারে উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের একমাসেরও কম সময়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ