বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৪ পি.এম
ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনের উদ্দেশ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাগণ।
বৈঠকে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সনদহীন চালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, সড়ক নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং যাত্রী ভোগান্তি হ্রাসের বিভিন্ন কার্যকরী দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বব্যাংক ডেভিড ভায়ান্টকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) পদে নিয়োগ দিয়েছে। ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, বিশ্বব্যাংক এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভায়ান্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে চায় বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে, টেকসই অর্থায়ন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, ভায়ান্ট বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিএনপি পারিবাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে ফিন্যান্স, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পার্টিসিপেশন বিভাগের গ্লোবাল হেড (বৈশ্বিক প্রধান) এবং ফ্রান্সের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি পূর্বে অ্যাকুইস ইউরোপ, আইডব্লিউসি এবং গ্যাম্বিট-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়নের বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মোট আটটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার ইতোমধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি জোন থাকবে। চারটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। যেমন, একটি জোনে সবুজ রঙের রিকশা থাকবে, অন্য জোনে থাকবে কমলা রঙের। এভাবে চারটি জোনে ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হবে। এতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা নিয়ে রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। এ কারণেই অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, যারা বর্তমানে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তারা যেন গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে রাজধানীতে যানজট সৃষ্টি করে মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশাচালকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। ফলে এটি শুধু অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সরকারের প্রধান শক্তি জনগণ। অতএব কোনো ধরনের অরাজকতা বা অপশক্তিকে আমরা মোকাবেলা করব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিবাদ করব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালে ফুলগাজীর আমজাদহাটে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাত আসামি। মামলার রায় ঘোষণার আগে সর্বোচ্চ দুই বছর হতে সর্বনিম্ন তিন মাস জেল খেটেছেন তারা। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর আদালত মামলার রায়ে জানিয়েছে তারা ধর্ষক নন অর্থাৎ, নির্দোষ। গত ১ অক্টোবর এ মামলায় শুনানী শেষে তাদের ৭ জনকে অব্যাহতি দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খাঁন।
আসামিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায় ঘোষণার আগে ধর্ষণ অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম (২৬) ও দুই নম্বর আসামি নেজাম উদ্দিন (২৫) দুই বছরের বেশি সময় বিনা অপরাধে কারাগারে ছিলেন। এছাড়াও মামলার তিন নম্বর আসামি নিজাম উদ্দিন শুক্কুল (৩৭), ছয় নম্বর আসামি আবদুল মালেক (৫৩), সাত নম্বর আসামি মোহাম্মদ হানিফ (২৫) এক বছর দুই মাস কারাগারে ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামী আবদুল লতিফ (৬০) ও আবদুল হান্নান (৩৬) তিন মাস পনের দিন কারাভোগ করেছেন। তারা সকলেই ফুলগাজীর আমজাদহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফ উদ্দিন মজুমদার শাহীন দৈনিক ফেনীকে বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় সাত আসামির কারও সঙ্গে বাদীর ডিএনএ মেলেনি। আদালত তদন্তে আসামিদের গণধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাদীর নারাজি গ্রহণ না করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
মামলার নথি ও আসামিপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ছাগলনাইয়ার একটি ভাড়া বাসায় এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আসামিদের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে তাদের ফাঁসাতে ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল।
মামলার তদন্তে সাত আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে বাদীর সঙ্গে তাদের কারও ডিএনএ না মেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাদীর নমুনায় একজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বাদী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ ছিল।
মামলাটির তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মামলা হতে খালাসপ্রাপ্ত জানান, প্রায় দুই বছরেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি এবং এ সময়ে পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পরে বাদীর আবেদনের পর আদালত তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দেওয়া প্রতিবেদনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানান, এই মামলার বাদী হাজেরা আক্তার এর আগেও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আদালত ওই মামলায়ও সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিথিংক ওয়াটার ফিউচার, ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য ও মানব নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি আইন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টন একটি সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়। সুতরাং, পানি ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ কূটনীতি, ন্যায়বিচার এবং মানব নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি পানি সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
হুমায়ূন কবির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনাও ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয় হিসেবে থাকবে।
সভায় পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টনে তরুণদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ