বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১৯ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিথিংক ওয়াটার ফিউচার, ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য ও মানব নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি আইন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টন একটি সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়। সুতরাং, পানি ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ কূটনীতি, ন্যায়বিচার এবং মানব নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি পানি সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
হুমায়ূন কবির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনাও ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয় হিসেবে থাকবে।
সভায় পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টনে তরুণদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে, যা এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে সহায়তা করছে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান কমানো হয়েছিল, যদিও বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বিদ্যমান। বর্তমানে ডলারের দাম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে এটি ১২৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (০৮ অক্টোবর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা
ইউরো : ১৩৭ টাকা ৬৯ পয়সা
পাউন্ড : ১৬২ টাকা ৪৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ২৬ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ০৭ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৭ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ১১ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭৯ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৬ টাকা ২৩ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫২ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।
আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাস খানেক আগে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে বর্তমানে সেটি কিছুটা কমে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ২২ দিন নদীতে জাল না ফেলতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। একই সঙ্গে ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের পাশাপাশি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের কাওরাকান্দি এলাকার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় পদ্মা নদীসংলগ্ন এলাকার ১৫১টি জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দীন আহম্মেদ হানজালা এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান, বিএনপি নেত্রী নাদিরা আক্তার, শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একটি ছোট ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তা থেকে বিপুলসংখ্যক ইলিশের উৎপাদন হতে পারে। বড় ইলিশ থেকেও বিপুল পরিমাণ ডিম পাওয়া যায়। তাই ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে নির্ধারিত সময়ে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অভিযানের ২২ দিন সরকার জেলেদের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দিচ্ছে। এই সময়ে জেলেদের কিছুটা কষ্ট হলেও পরবর্তীতে নদীর ইলিশ তারাই ধরবেন। তাই ইলিশের প্রজনন মৌসুমে কেউ যেন নদীতে জাল না ফেলেন, সে জন্য জেলে সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন ও সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার মাদরাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে সরকারি স্বীকৃত মাদরাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের (ডব্লিউবিএসএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত মঙ্গলবার রাতে বলেন, "মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।" এর ফলে, স্কুল ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নবান্নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য রাজ্য বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল উত্থাপন করা হবে। একটি বিলের মাধ্যমে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল করা হবে এবং অন্যটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। বিধানসভায় পাস হওয়ার পর, বিল দুটি রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হলে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এটি উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনের অধীনে ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে, ২০০৭ সালে রাজ্যের ৬১৪টি মাদরাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক কাঠামো হিসেবে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়েছিল।
নতুন ব্যবস্থায়, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের স্কুল ও মাদরাসার জন্য আলাদা নিয়োগ কমিশনের অধীনে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদ ও পরীক্ষার ধরন কী হবে, তা আইন সংশোধনের পর চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন এনেছে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে সরিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অভিন্ন শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাগার আর্থিক অনিয়মে দোষী সাব্যস্ত হলে ম্যানচেস্টার সিটিকে দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এক মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা বড় তারকাদের ক্লাবে থাকতে বাধা দিতে পারে না।
ক্যারাগার মনে করেন, ম্যানচেস্টার সিটিকে তিন থেকে পাঁচ বছরের শাস্তি দেওয়া উচিত। তিনি যুক্তি দেন, দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির ফলে সিটির বড় তারকারা ক্লাব ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। ক্যারাগার বলেন, ‘আমার মনে হয় শাস্তি কয়েক বছর ধরে হওয়া উচিত—তিন থেকে পাঁচ বছর। তখন খেলোয়াড়রা চলে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, যদি শাস্তি এক মৌসুমের জন্য হয়, তাহলে কিছু খেলোয়াড় সেই সময়ের মধ্যে ক্লাবে থাকতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। ক্যারাগারের প্রশ্ন, ‘প্রিমিয়ার লিগের আয় ছাড়া তারা কীভাবে এত বড় খেলোয়াড়দের বেতন বহন করবে?’
ক্যারাগার সিটির বর্তমান মালিকদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি তাদের এসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে আপনি কীভাবে তাদের বিশ্বাস করবেন?’ তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান মালিকদের ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসা উচিত।
ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য শাস্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিটি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। তাই ক্যারাগারের মন্তব্যটি সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ