প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার মাদরাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে সরকারি স্বীকৃত মাদরাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের (ডব্লিউবিএসএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত মঙ্গলবার রাতে বলেন, "মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।" এর ফলে, স্কুল ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নবান্নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য রাজ্য বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল উত্থাপন করা হবে। একটি বিলের মাধ্যমে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল করা হবে এবং অন্যটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। বিধানসভায় পাস হওয়ার পর, বিল দুটি রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হলে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এটি উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনের অধীনে ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে, ২০০৭ সালে রাজ্যের ৬১৪টি মাদরাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক কাঠামো হিসেবে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়েছিল।
নতুন ব্যবস্থায়, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের স্কুল ও মাদরাসার জন্য আলাদা নিয়োগ কমিশনের অধীনে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদ ও পরীক্ষার ধরন কী হবে, তা আইন সংশোধনের পর চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন এনেছে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে সরিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অভিন্ন শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন