০১:৫৭ পি.এম
ভারতের নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই বিষয়ে এই দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরে চলছে। তবে, ঢাকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ভারতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশ সরকার চাচ্ছে, প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ভারত যেন ফেরত পাঠায়।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে নতুন কুঁড়ির ভার্চুয়াল উদ্বোধনে অংশ নিলেন নূরুল ইসলাম এমপি
তিনি জানান, বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে একটি দ্বিপরাজনৈতিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ফলে এই প্রক্রিয়াটিতে বিঘ্ন ঘটেছে, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
শহীদুল করিম বলেন, "আমরা এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।" এই লক্ষ্যে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, "আমাদের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে।" তাঁরা বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন।
তিনি আরও বলেন, "আমরা পুনরায় জোর দিয়ে বলছি যে, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, এবং একে অপরের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাসহ পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাবো।"
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
প্রসঙ্গত, আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া, তাকে দ্বিপাক্ষীক সফরের জন্যও আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন ভারত।
তবে, সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরই ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেয় নয়াদিল্লি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন