শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫০ এম
একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা মুহূর্তের মধ্যে বিপদে পড়তে পারেন। অচেনা ওয়েবসাইট থেকে আসল অ্যাপের মতো দেখতে ভুয়া টিকটক বা গুগল ক্রোম ইনস্টল করার ফলে ফোনে প্রবেশ করতে পারে ‘রকারোলা’ নামক ম্যালওয়্যার। এর ফলে নকল ব্যাংক লগইন পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি, ফোনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং এমনকি ব্যাংক হিসাব ফাঁকা করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে সাইবার অপরাধীদের জন্য।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। এটি শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্যই নয়, বরং ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।
যেভাবে ফোনে ঢোকে
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোডের জন্য প্রলুব্ধ করে। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ব্যবহারকারীদের সামনে গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হয়।
অনেক ব্যবহারকারী এটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করেন। ফলে তারা কোনো সন্দেহ ছাড়াই পরবর্তী ডাউনলোডের অনুমতি দেন। এর ফলে ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।
যেভাবে তথ্য চুরি করে
ফোনে প্রবেশ করার পর, ম্যালওয়্যারটি ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন, তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাপেই প্রবেশ করছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন।
এছাড়া, ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি ও কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে ম্যালওয়্যারটির। কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম এটি।
শুধু তাই নয়, ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।
সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: এমএসএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসনটি ঘিরে ভোটের হাওয়া বইছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে জামায়াতের নির্বাচনি রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রার্থিতা এখনও চূড়ান্ত না হলেও আসনটি ধরে রাখতে দলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাই ও মেয়েকে কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীকেন্দ্রিক হিসাবনিকাশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. দেলাওয়ার হোসেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তিনি দলীয় সমর্থন জোরালো করার পাশাপাশি তৃণমূলের গণসংযোগ ও ভোটব্যাংক পোক্ত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষের শক্ত প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতির ছোটভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম রাজপথে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক অবস্থান এবং তৃণমূলের বড় অংশের সমর্থনের কারণে তাকেই বিএনপির সম্ভাব্য সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জামায়াত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের সাথে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যাপকসংখ্যক ভোট পেয়ে নজর কেড়েছিলেন। মির্জা ফখরুল ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় মির্জা পরিবারের রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে আশা প্রকাশ করেন যে, এখন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির হাল ধরবেন মির্জা ফয়সাল আমিন। তবে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জাকে ঘিরে গুঞ্জন রয়েছে। রাজনীতিতে আসা কিংবা পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে ড. শামারুহ মির্জা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের মেগা উন্নয়নগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই।
ঠাকুরগাঁও লাউ থুতি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশিদ মন্তব্য করেন যে, উপনির্বাচনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ দিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি শক্তি ঐক্যবদ্ধ প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ভোটারদের বড় অংশের দাবি, ঐক্যবদ্ধ এই প্রচেষ্টা ভোটে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোট রয়েছে, যা নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সচেতন মহলের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এসব সম্প্রদায়ের ভোটাররা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবেন।
উত্তর হরিহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল মনে করেন যে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এলাকার চলমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত রাখতে সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তই বেছে নেবেন। কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে শিগগিরই।’
সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ‘অঘোষিতভাবে আমি এই নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে অফিসিয়াল প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
অন্যদিকে, নানা মন্তব্য ও সমীকরণকে উপেক্ষা করে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনগণ আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিলে এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি আপসহীন থাকব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কিছু এলাকায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, যা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ লাইন উন্নয়নকাজের কারণে ঘটছে।
এই তথ্যটি গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১১ কেভি ফিডারের আকার ছোট করার পাশাপাশি অতিরিক্ত লোড কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইন উন্নয়নকাজ চলবে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার এলাকাগুলোর মধ্যে কাশিমপুরের আংশিক অংশ, বিএডিসি গেটসংলগ্ন এলাকা, রফিকুল স্কুলের আশপাশ, কাশিমপুর স্ট্যান্ডের পশ্চিমাংশ, রিফুজি পাড়া, হাজিপাড়া, জিতার মোড়সংলগ্ন এলাকা, আলিমের আশপাশ, কবরস্থানসংলগ্ন এলাকা, জামাল টাওয়ারের আশপাশ, মল্লিকা বাজার এলাকা, নয়াপাড়া, হাকের নল, লালদিঘি, খানকা শরিফসংলগ্ন এলাকা এবং রওশন মার্কেট এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। কাশিমপুর জোনাল অফিস সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ নদীভাঙনে টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামের আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একসময় এসব আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৪৩০টি পরিবার বসবাস করলেও বর্তমানে গুচ্ছগ্রামে মাত্র ১০টি এবং আশ্রয় প্রকল্পে একটি ঘর টিকে আছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নদীভাঙন রোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয় প্রকল্পসংলগ্ন নদীর পাড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাপুলিয়া ও শিকিপাড়া গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে এলাকাবাসী এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৩০টি পরিবার বসবাস করত। কিন্তু মধুমতি নদীর ভাঙনে একে একে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ১১টি ঘরও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
শিকিপাড়া ও চাপুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আলফাডাঙ্গা থানা শাখার সভাপতি মাওলানা শরীফুল ইসলাম, আকিব আহমেদ, মাহমুদ হোসেন, নিয়ামুল মোল্যা ও তাইফুর রহমানসহ একাধিক যুবক বলেন, ৪৩০টি পরিবার যেখানে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকটি ঘর অবশিষ্ট রয়েছে। নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী আরিফুল মোল্লা (৪৫), বিলু মোল্যা (৩৮), আজগার হোসেন (৪৫) ও লিয়াকত আলী (৭০) সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ২৫-৩০ বছর ধরে তারা এই এলাকায় বসবাস করছেন। এখানেই তাদের জীবন কেটেছে, সন্তানদের বড় করেছেন। কিন্তু নদীভাঙনে একে একে ঘরবাড়ি, বসতভিটা, জমিজমা ও শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবিত মানুষ হয়েও এখন কবরস্থানের পাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। তাদের দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভাঙন বাড়ছে।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, নদীভাঙনে চাপুলিয়ার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘর বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রয়োজন। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মজিবর রহমান বলেন, চাপুলিয়া এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীতীর রক্ষায় সম্ভাব্য কারিগরি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদরের লক্ষীপাশা এলাকায় আত্মপ্রকাশ হলো সমাজসেবামূলক প্লাটফর্ম ‘আমাদা-লক্ষীপাশা জাগরণী সংঘ’। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ সংঘের আত্মপ্রকাশ হয়। এখানকার সদস্যরা হলেন-লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আমাদা গ্রামের সন্তানরা। যারা বর্তমানে লক্ষীপাশায় বসবাস করছেন।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন-অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বদরুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, লোহাগড়া লক্ষীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলাম, আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খান হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তসলিমুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক কায়সার উদ্দিন খান হারুন, প্রধান শিক্ষক এসএম আজাদ হোসেন, শিক্ষক কে এম রবিউল ইসলাম এবং কে এম নজিবার রহমান।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন-কে এম মিরাজুল ইসলাম, কে এম জাহিদুল ইসলাম, কে এম সিরাজুল ইসলাম, শাহিন তালুকদার, জিয়া সরদার, দেলোয়ার হোসেন খান, তারিকুল ইসলাম ছবি, মনিরুজ্জামান কাঞ্চন, শফিউর রহমান, হিরু মন্ডলসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, সমাজসেবামূলক প্লাটফর্ম আমাদা-লক্ষীপাশা জাগরণী সংঘের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-একে অপরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকা, বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করা।
এদিকে, সংগঠনের উপদেষ্টা এবং আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উপদেষ্টা হলেন- আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গোলাম মোর্তজা খান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বদরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক খান হাবিবুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মধু মঙ্গল বিশ্বাস এবং লায়েক হোসেন মৃধা।
এছাড়া সংগঠনের আহবায়ক হলেন-অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলাম ও সদস্য সচিব স্কুল শিক্ষক কে এম রবিউল ইসলাম। সদস্য আছেন-তসলিমুজ্জামান, তারিকুল ইসলাম ছবি, কে এম নজিবর রহমান, জিয়াউর রহমান ও শাহিন তালুকদার।
আহবায়ক কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ