বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ এম
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সোমালিয়ার আল-কায়েদাঘেঁষা আল-শাবাবের মধ্যে যোগাযোগ, অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক প্রশিক্ষণের বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ধরনের বিপদের সংকেত দিচ্ছে। এই দুই পক্ষের সখ্যতা কেবল নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে না, বরং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই সম্পর্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এটি হর্ন অব আফ্রিকায় আল-শাবাবের হামলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে, পাশাপাশি লোহিত সাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরের সামুদ্রিক পথগুলোতে হুথির প্রবেশাধিকারকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি সাধারণ অস্ত্র চোরাচালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, চোরাচালানের রুট এবং উপকূলীয় সুবিধাগুলো একত্রিত করে এডেন উপসাগর জুড়ে নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম হতে পারে।
সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক দানিয়েলে গারেফালো জানান, দুই পক্ষের এই সম্পর্কের গভীরতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সোমালিয়ায় ইয়েমেনি অস্ত্রের উপস্থিতি তাদের সহযোগিতার প্রমাণ দেয়; বরং ২০২৪ সাল থেকে সরাসরি যোগাযোগ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সোমালি যোদ্ধাদের ইয়েমেনে যাতায়াতের প্রমাণও রয়েছে।
কৌশলগত জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তির হাতবদল নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের জন্য অস্ত্রের চেয়েও বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি অস্ত্রের চালান আটকানো বা জব্দ করা সম্ভব, কিন্তু বিস্ফোরক তৈরি, ড্রোন সাজানো কিংবা অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের মতো কৌশল যোদ্ধাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা সহজে থামানো যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-শাবাব একটি ড্রোন বা অস্ত্র কেনার চেয়ে সেটি নিজে নিজে পরিবর্তন, তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল আয়ত্ত করা অনেক বেশি ভয়ংকর। বিশেষ করে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) তৈরি বা ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
এদিকে, আল-শাবাব তাদের বর্তমান প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সোমালিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করতে চাইছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক লেসলি অ্যান ওয়ার্নার জানান, আদর্শগত মিল না থাকলেও আর্থিক সুবিধার কারণে মূলত এই দুই গোষ্ঠী হাত মেলাচ্ছে।
তার মতে, হুথিদের জন্য এটি অপারেশন পরিচালনার অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম, আর আল-শাবাবের জন্য এটি সামরিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ। এডেন উপসাগর দুই ভিন্ন ভূখণ্ডকে আলাদা করেনি, বরং অবৈধ বাণিজ্যের একটি সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো— এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মধ্যে অস্ত্র, পণ্য ও মানুষ পারাপারের এই নেটওয়ার্ক বহু পুরনো। তবে এবার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই যোগাযোগকে সামরিক সহযোগিতার একটি স্থায়ী অবকাঠামোতে রূপ দিচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথির সামরিক প্রকৌশলীরা সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আল-শাবাব আস্তানা জিলিব সফর করেছেন। সেখানে তারা বিস্ফোরক ও ড্রোন প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪০০ সোমালির জন্য ইয়েমেনে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইয়েমেন ও সোমালিয়া সংকট নিয়ে কাজ করা সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য এই যৌথ আঁতাত নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে, অন্যদিকে সোমালিয়ায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
আদর্শগতভাবে হুথি ও আল-শাবাব ভিন্ন ধারার হলেও নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে তারা এই মতপার্থক্য পাশে সরিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাত্ত্বিক অমিল সত্ত্বেও পারস্পরিক সুবিধার এই বাস্তবমুখী সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে পরিচিত রেজাকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি কোটচাঁদপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদেও ছিলেন। সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এই গ্রেপ্তারটি করা হয়েছে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি আজাদ রহমান জানিয়েছেন, তাকে পরে কারাগারে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভাল্বের (পিওআরভি/পিওএসভি) ১৬ এমপিএ উচ্চচাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকালে শেষ হওয়া এই পরীক্ষা ইউনিটটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, জানায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
এনপিসিবিএল জানায়, মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষা শুরু হয়। মেইন কন্ট্রোল রুম (এমসিআর) এবং ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ইসিআর) থেকে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এই সময় প্রকৌশলীরা কন্ট্রোল ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভাল্বের (এমএসভি) কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার সময় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকারিতা, প্রতিক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় এনপিসিবিএল।
কর্মকর্তারা জানান, চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে নিরাপদ চাপ বজায় রাখতে পিওআরভি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিশনিংয়ের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এনপিসিবিএল জানায়, পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে পরীক্ষা চালানো হবে। প্রতিটি ধাপ যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রমে এগোবে কমিশনিং দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হলো। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডান জোট এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং সরকারি সেবা নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ১নিউজ-ভেরিয়ান জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হতে পারে। জরিপে এই জোট ৬৫টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল, অ্যাক্ট ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের জোট ৫৯টি আসন পেতে পারে।
নিউজিল্যান্ডে জার্মানির মতো মিশ্র সদস্য আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জোট সরকার গঠন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ছোট দলগুলোও সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে সাধারণত ১২০টি আসন থাকে। তবে কোনো দল জাতীয় ভোটের অনুপাতে পাওয়ার চেয়ে বেশি নির্বাচনী আসনে জয়ী হলে পার্লামেন্টে অতিরিক্ত আসন যোগ হতে পারে।
জনমত জরিপগুলো নির্দেশ করছে, প্রায় এক দশক আগে গঠিত মধ্যপন্থী অপরচুনিটি পার্টি এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের ভোট দেওয়া শুরু হবে ২১ অক্টোবর। আর আগাম ভোট শুরু হবে ২৬ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিচালক সৃজিত মুখার্জির প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাচকাট প্রোডাকশনস’ অর্ণব রায়ের লেখা ‘শাঁখচুন্নি’ গল্পের স্বত্ব কিনে নিয়েছে। ‘শাঁখচুন্নি’ কিভাবে পর্দায় ভয়, মনস্তত্ত্ব এবং বাংলার আবহকে একত্রিত করবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
পরিচালক খুব শিগগিরই এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটি ছবি অথবা সিরিজ আকারে পর্দায় আনতে চান। এটি তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, থমকে যাওয়া পুরোনো পরিকল্পনা এবং একটি পছন্দের গল্প— সব মিলিয়ে টালিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জি ও অর্ণবের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।
কিছু গল্প এমন হয় যা শুধু ভালো লাগে না, বরং মাথার ভেতর থেকে বেরোতেও চায় না। অর্ণব রায়ের ‘শাঁখচুন্নি’ ঠিক তেমনই একটি গল্প, অন্তত সৃজিত মুখার্জির জন্য।
২০২৪ সালে পরিচালক গল্পটি পড়েছিলেন। এরপর দুই বছর কেটে গেছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি গল্পটি নিয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাদের আগ্রহও পেয়েছেন। কিন্তু তখন গল্পের স্বত্ব অন্য একটি সংস্থার কাছে ছিল। মেয়াদ ফুরোতেই নির্মাতা আর দেরি করেননি। তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাচকাট প্রোডাকশন’-এর মাধ্যমে ‘শাঁখচুন্নি’র স্বত্ব কিনে নিয়েছেন। এই তথ্য নিজেই জানিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি।
অর্ণবের লেখার সঙ্গে সৃজিতের এই সম্পর্ক নতুন নয়; এর আগে ‘মহাভারত মার্ডার্স’ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে অর্ণবের ‘যাত্রিক’ নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা ছিল পরিচালকের। কিন্তু কোনোটাই শেষ পর্যন্ত পর্দায় আসেনি। তবে এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। ‘শাঁখচুন্নি’ নিয়ে পরিচালকের বেশ স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও গল্পটি ছবি হবে না কি সিরিজ— তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
লেখকও এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। অর্ণব রায় বলেন, সৃজিতের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা তারও বহুদিনের। ‘মহাভারত মার্ডার্স’-এর সময় কাজটি শেষ না হওয়ায় তার মধ্যে আক্ষেপ ছিল।
এবার ‘শাঁখচুন্নি’ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে গল্পের মধ্যে বাংলার নিজস্ব ছোঁয়াটাই অর্ণবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সেই আবহ এবং গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার জন্য সৃজিতের চেয়ে উপযুক্ত পরিচালক আর কেউ হতে পারেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ